Dhaka ১০:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এইচএসসিতে মূল্যায়নের সিদ্ধান্তে যা বলছেন শিক্ষাবিদরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৫৮:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২০
  • ৭৬৮ Time View

ছবি : আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, যতিন সরকার ও ড. আব্দুল খালেক।

ডেস্ক রিপোর্ট : ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। জেএসসি ও এসএসসি সমমানের পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দুই পরীক্ষার গড় মূল্যায়নের ভিত্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফলাফল দেওয়া হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত যথাযথ মনে করছেন অনেকে। তারা বলছেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ রাখতে এর বিকল্প ছিল না। তবে অনেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এর বিকল্প নেই। কোনও না কোনোভাবে মূল্যায়নের মাধ্যমেই ফলাফল দেওয়া বাঞ্ছনীয়। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা ছাড়াও টেস্ট পরীক্ষা বা ক্লাস উত্তীর্ণের পরীক্ষা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নের সুযোগ থাকলে ভালো হতো। সেসব মূল্যায়নের একটা স্পর্শ থাকতো এই মূল্যায়নে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়নের প্রতি আস্থার বিষয়টি রয়েছে। সব প্রতিষ্ঠান একরকম মূল্যায়ন করে না। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকারও হতে পারেন। তবে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা সবার আগে। তাই মূল্যায়ন ছাড়া এখন বিকল্প নেই।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল খালেক বলেন, ‘জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে ফল প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনা করে এটি করা হচ্ছে। আমার মনে হয়, এরচেয়ে এই সময় আর ভালো কিছু করার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের আটকে রাখলে একটি জট তৈরি হতো। ভালোই হয়েছে। কারণ, শিক্ষার্থীদের জীবন আগে। এই পরীক্ষাই শেষ পরীক্ষা নয়, আরও অনেক পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ আসবে।’
তবে ভিন্নমত প্রকাশ করে শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক যতিন সরকার বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নেওয়া উচিত ছিল। এই পরীক্ষা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই না নেওয়াটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।’
মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম মূল্যায়নের পক্ষে মত দিয়ে বলেন, ‘করোনা কবে অনুকূলে আসবে না অনিশ্চিত। যদি তিন মাস বা ছয় মাস পরে চলে যাবে জানা যেতো, তাহলে দেরি করা যেতো। দীর্ঘদিন পরীক্ষার্থীরা বসে থাকায় হতাশ হয়ে যাচ্ছিল। এসব শিক্ষার্থীর জেএসসি ও এসএসসি দুটি পাবলিক পরীক্ষা ছিল। নানা কারণে অনেকের পরীক্ষা না দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতো। এই মূল্যায়নের কারণে শিক্ষার্থীদের পক্ষেই গেছে সিদ্ধান্তটা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর জন্য এটি ভালো হয়েছে। আমরা দেখেছি এসএসসির চেয়ে পরীক্ষার্থীরা এইচএসসিতে কিছুটা খারাপই করে। ভালো করার সংখ্যা কম। সেদিক থেকে এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘জেএসসি ও এসএসসির ফলাফলের গড়ের ভিত্তিতে এইচএসসির মূল্যায়নটা করবো। ডিসেম্বরে মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হবে।’ শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘মূল্যায়ন হবে আন্তর্জাতিক মানের।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

admin

জনপ্রিয়

ঈশ্বর চাইলে আগামী ১৩ তারিখে বিএনপি সরকার গঠন করবে: নিতাই রায় চৌধুরী

error: Content is protected !!

এইচএসসিতে মূল্যায়নের সিদ্ধান্তে যা বলছেন শিক্ষাবিদরা

Update Time : ০৯:৫৮:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২০

ডেস্ক রিপোর্ট : ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। জেএসসি ও এসএসসি সমমানের পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দুই পরীক্ষার গড় মূল্যায়নের ভিত্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফলাফল দেওয়া হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত যথাযথ মনে করছেন অনেকে। তারা বলছেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ রাখতে এর বিকল্প ছিল না। তবে অনেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাও করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এর বিকল্প নেই। কোনও না কোনোভাবে মূল্যায়নের মাধ্যমেই ফলাফল দেওয়া বাঞ্ছনীয়। জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা ছাড়াও টেস্ট পরীক্ষা বা ক্লাস উত্তীর্ণের পরীক্ষা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নের সুযোগ থাকলে ভালো হতো। সেসব মূল্যায়নের একটা স্পর্শ থাকতো এই মূল্যায়নে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়নের প্রতি আস্থার বিষয়টি রয়েছে। সব প্রতিষ্ঠান একরকম মূল্যায়ন করে না। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকারও হতে পারেন। তবে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা সবার আগে। তাই মূল্যায়ন ছাড়া এখন বিকল্প নেই।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল খালেক বলেন, ‘জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে ফল প্রকাশ করা হবে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনা করে এটি করা হচ্ছে। আমার মনে হয়, এরচেয়ে এই সময় আর ভালো কিছু করার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের আটকে রাখলে একটি জট তৈরি হতো। ভালোই হয়েছে। কারণ, শিক্ষার্থীদের জীবন আগে। এই পরীক্ষাই শেষ পরীক্ষা নয়, আরও অনেক পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ আসবে।’
তবে ভিন্নমত প্রকাশ করে শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক যতিন সরকার বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষা স্বাস্থ্যবিধি মেনে নেওয়া উচিত ছিল। এই পরীক্ষা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই না নেওয়াটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।’
মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম মূল্যায়নের পক্ষে মত দিয়ে বলেন, ‘করোনা কবে অনুকূলে আসবে না অনিশ্চিত। যদি তিন মাস বা ছয় মাস পরে চলে যাবে জানা যেতো, তাহলে দেরি করা যেতো। দীর্ঘদিন পরীক্ষার্থীরা বসে থাকায় হতাশ হয়ে যাচ্ছিল। এসব শিক্ষার্থীর জেএসসি ও এসএসসি দুটি পাবলিক পরীক্ষা ছিল। নানা কারণে অনেকের পরীক্ষা না দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতো। এই মূল্যায়নের কারণে শিক্ষার্থীদের পক্ষেই গেছে সিদ্ধান্তটা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর জন্য এটি ভালো হয়েছে। আমরা দেখেছি এসএসসির চেয়ে পরীক্ষার্থীরা এইচএসসিতে কিছুটা খারাপই করে। ভালো করার সংখ্যা কম। সেদিক থেকে এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘জেএসসি ও এসএসসির ফলাফলের গড়ের ভিত্তিতে এইচএসসির মূল্যায়নটা করবো। ডিসেম্বরে মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হবে।’ শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘মূল্যায়ন হবে আন্তর্জাতিক মানের।’