Dhaka ০৭:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বুড়িগঙ্গা সেতুর সিঁড়ির রেলিং ভাঙা, চলাচলে ঝুঁকি

  • অনলাইন ডেক্স
  • Update Time : ০৩:৫৬:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১
  • ৩৯১ Time View

রাজধানীর সঙ্গে কেরানীগঞ্জের সংযোগ স্থাপন করতে বুড়িগঙ্গা নদীর ওপর দিয়ে নির্মিত হয়েছে ৩টি সেতু। যার একটি বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতু। সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে। হেঁটে চলা পথচারীদের সুবিধার্থে সেতুর মিটফোর্ড ও বাদামতলী প্রান্তে দুইটি ও আগানগর প্রান্তে দুইটি মোট চারটি পকেট সংযোগ সিঁড়ি রয়েছে। এই সিঁড়ি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা উঠানামা করেন। সেতুর দুইপারের পকেট সিঁড়ির খুটির স্ল্যাব ও রেলিং ভেঙে যাওয়ায় তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে রেলিং ধরে পথচারীদের উঠানামা করতে দেখা যায়। যার ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা।

 

 

 

 

 

 

 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতুর মিটফোর্ড, বাদামতলী ও আগানগর প্রান্তের সিঁড়ির রেলিং এ মরিচা ধরে ভেঙে ফাঁকা হয়ে গেছে। সেখানে স্কচটেপ ও বাঁশের খুটি দিয়ে রেলিং এর ভাঙা অংশের সাথে সংযোগ করা হয়েছে। সেটিও বেশি দিন টিকেনি। অজ্ঞাতবশত কেউ রেলিং এ ভর দিলে হাত কেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া সিঁড়ির খুটির স্ল্যাব ভেঙে গিয়ে বাতাসে দুলছে।

 

 

 

 

 

 

 

কেরানীগঞ্জ উপজেলার চুনকুটিয়া এলাকা থেকে আসা আব্দুল জব্বার মিয়া বলেন, আমি ইসলামপুরে পোষাকের দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে চাকুরী করি। প্রতিদিন এই সিঁড়ি দিয়ে য়াতায়াত করতে হয়। সকালে মানুষের অনেক ভিড়ের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে হয়। সিঁড়ির রেলিং ভেঙে ধারালো হয়ে যাওয়ায় আমার সামনেই অনেকে হাত কেটেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সিঁড়ির খুটি ও রেলিং এর এমন বেহাল অবস্থা হলেও কর্তৃপক্ষ এটি সংস্কার করছে না। তাই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।

 

 

 

 

 

 

 

অতিদ্রুত দুইপারের সিঁড়ির রেলিং ও খুটি সস্কারের দাবি জানিয়ে বয়স্ক নেছার উদ্দীন বলেন, মাসখানেক আগে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় অজ্ঞাতবশত ভাঙা রেলিং এ ভর দিয়েছিলাম। এতে আমার হাতের কব্জি থেকে কনুই পর্যন্ত কেটে গিয়েছিলো। দুইমাস আমাকে হাতের চিকিৎসা নিতে হয়েছে। আমার মতো প্রতিদিনই এমন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারীরা।

 

 

 

 

 

 

 

পুরান ঢাকার আহমেদ বাওয়ানী স্কুলের শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি কেরানীগঞ্জের আর্মি ক্যাম্প এলাকায় থাকি। প্রতিদিন সেতুর সিঁড়ি দিয়েই বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে হয়। সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় সিঁড়িতে ভিড় উপক্ষো করে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় ভিড়ের মধ্যে পেছন থেকে ধাক্কার লাগলে রেলিং ধরে ধাক্কার চাপ সামলানোর অবস্থা থাকে না। কেননা রেলিং এ হাতের ভর দিলেই হাত কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে আমাদের চরম ঝুঁকি নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে ও নামতে হয়। বয়স্ক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদে চলাচলের জন্য যতদ্রুত সম্ভব সিঁড়ির রেলিং ও খুটি সংস্কার করার প্রয়োজন।

 

 

 

 

 

 

 

এবিষয়ে ঢাকা অঞ্চলের সহকারী উপ-প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি কিছুদিন আগে কর্মস্থলে যোগদান করেছি। এবিষয় অবগত ছিলাম না। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে শিগগিরই সংস্কারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

admin

জনপ্রিয়

ভোলাহাট সীমান্তে মধ্যরাতে ৫৯ বিজিবি’র অভিযান বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ আটক

error: Content is protected !!

বুড়িগঙ্গা সেতুর সিঁড়ির রেলিং ভাঙা, চলাচলে ঝুঁকি

Update Time : ০৩:৫৬:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১

রাজধানীর সঙ্গে কেরানীগঞ্জের সংযোগ স্থাপন করতে বুড়িগঙ্গা নদীর ওপর দিয়ে নির্মিত হয়েছে ৩টি সেতু। যার একটি বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতু। সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করে। হেঁটে চলা পথচারীদের সুবিধার্থে সেতুর মিটফোর্ড ও বাদামতলী প্রান্তে দুইটি ও আগানগর প্রান্তে দুইটি মোট চারটি পকেট সংযোগ সিঁড়ি রয়েছে। এই সিঁড়ি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা উঠানামা করেন। সেতুর দুইপারের পকেট সিঁড়ির খুটির স্ল্যাব ও রেলিং ভেঙে যাওয়ায় তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে ঝুঁকি নিয়ে রেলিং ধরে পথচারীদের উঠানামা করতে দেখা যায়। যার ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা।

 

 

 

 

 

 

 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতুর মিটফোর্ড, বাদামতলী ও আগানগর প্রান্তের সিঁড়ির রেলিং এ মরিচা ধরে ভেঙে ফাঁকা হয়ে গেছে। সেখানে স্কচটেপ ও বাঁশের খুটি দিয়ে রেলিং এর ভাঙা অংশের সাথে সংযোগ করা হয়েছে। সেটিও বেশি দিন টিকেনি। অজ্ঞাতবশত কেউ রেলিং এ ভর দিলে হাত কেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এছাড়া সিঁড়ির খুটির স্ল্যাব ভেঙে গিয়ে বাতাসে দুলছে।

 

 

 

 

 

 

 

কেরানীগঞ্জ উপজেলার চুনকুটিয়া এলাকা থেকে আসা আব্দুল জব্বার মিয়া বলেন, আমি ইসলামপুরে পোষাকের দোকানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে চাকুরী করি। প্রতিদিন এই সিঁড়ি দিয়ে য়াতায়াত করতে হয়। সকালে মানুষের অনেক ভিড়ের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে হয়। সিঁড়ির রেলিং ভেঙে ধারালো হয়ে যাওয়ায় আমার সামনেই অনেকে হাত কেটেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সিঁড়ির খুটি ও রেলিং এর এমন বেহাল অবস্থা হলেও কর্তৃপক্ষ এটি সংস্কার করছে না। তাই বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে।

 

 

 

 

 

 

 

অতিদ্রুত দুইপারের সিঁড়ির রেলিং ও খুটি সস্কারের দাবি জানিয়ে বয়স্ক নেছার উদ্দীন বলেন, মাসখানেক আগে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় অজ্ঞাতবশত ভাঙা রেলিং এ ভর দিয়েছিলাম। এতে আমার হাতের কব্জি থেকে কনুই পর্যন্ত কেটে গিয়েছিলো। দুইমাস আমাকে হাতের চিকিৎসা নিতে হয়েছে। আমার মতো প্রতিদিনই এমন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারীরা।

 

 

 

 

 

 

 

পুরান ঢাকার আহমেদ বাওয়ানী স্কুলের শিক্ষার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি কেরানীগঞ্জের আর্মি ক্যাম্প এলাকায় থাকি। প্রতিদিন সেতুর সিঁড়ি দিয়েই বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করতে হয়। সকালে বিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় সিঁড়িতে ভিড় উপক্ষো করে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় ভিড়ের মধ্যে পেছন থেকে ধাক্কার লাগলে রেলিং ধরে ধাক্কার চাপ সামলানোর অবস্থা থাকে না। কেননা রেলিং এ হাতের ভর দিলেই হাত কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে আমাদের চরম ঝুঁকি নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে ও নামতে হয়। বয়স্ক ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদে চলাচলের জন্য যতদ্রুত সম্ভব সিঁড়ির রেলিং ও খুটি সংস্কার করার প্রয়োজন।

 

 

 

 

 

 

 

এবিষয়ে ঢাকা অঞ্চলের সহকারী উপ-প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম বলেন, আমি কিছুদিন আগে কর্মস্থলে যোগদান করেছি। এবিষয় অবগত ছিলাম না। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে শিগগিরই সংস্কারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।