সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদঃ
সর্বশেষ সংবাদঃ
ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো মাগুরা রিপোর্টার্স ইউনিটের বাৎসরিক আনন্দ ভ্রমণ শেষ পৌষের কনকনে শীতে কাঁপছে মাগুরা! মাগুরার মহম্মদপুরে শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী বড়রিয়ার মেলা শুরু! মাগুরার শ্রীপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১০ (দশ) কেজি গাজা উদ্ধার। মাগুরার জনগণ নির্বিঘ্নে উৎসব মুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারবে – পুলিশ সুপার মাগুরায় জমে উঠেছে ফুটপাতের শীতের পিঠা! মাগুরা মহম্মদপুরে জোড়া খুনের ঘটনায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে মূল আসামী গ্রেফতার” মহম্মদপুরে আপন দুই ভাইয়ের গলাকাটা লাশ উদ্ধার আটক-২ মাগুরায় ব্রিজের নিচে হতে উদ্ধারকৃত কঙ্কালের রহস্য উদঘাটন সহ মূল আসামি গ্রেফতার। ঝরে পড়া ৩০ শিশুকে স্কুলে ফেরাল জেলা প্রশাসক মাগুরা শালিখায় অসহায়, দুঃস্থ ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে “এক পেট আহার অত:পর হাসি” এর পক্ষ থেকে খাবার বিতরণ প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৩ মাগুরার মহম্মদপুরে পুজা মন্ডপ পরিদর্শন ও অনুদান বিতরণ মাগুরা জেলার তিন উপজেলা নির্বাহী অফিসারগনের বিদায় এবং সদ্য তিন উপজেলা নির্বাহী অফিসারগনের যোগদান উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের নির্বাচন ইসলামী ব্যাংক কামারখালী বাজার আউটলেটের গ্রাহক সমাবেশ অনুষ্ঠিত মহম্মদপুরের বিনোদপুরে সাপের কামড়ে গৃহ বধূর মৃত্যু! মহম্মদপুরের বাবুখালী পুলিশ ফাড়ির সামনে কেরাম বোর্ড খেলার নামে চলছে জুয়ার জমজমাট আসর জেলা প্রশাসক কর্তৃক মাগুরা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন মাগুরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর ৪৮ তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস ২০২৩ পালন
Notice :
প্রিয় পাঠক   দৈনিক মাগুরার কথা   অনলাইন নিউজ পোর্টালে আপনাকে স্বাগতম । গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ম মেনে বস্তু নিষ্ঠ তথ্য ভিত্তিক সংবাদ প্রচার করতে আমরা বদ্ধ পরিকর ।  বি:দ্র : এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা,  ছবি ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পূর্ণ বেআইনি । এখানে ক্লিক করুণ Apps  

সাতক্ষীরার প্রতাপনগরে ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি। / ৪৮৫ বার পঠিত হয়েছে।
নিউজ প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৫ জুন, ২০২১, ৫:২৮ অপরাহ্ন

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের ২০ দিন অতিবাহিত হলেও বাঁধভাঙ্গা পানির মধ্যে বসবাস করছে সাতক্ষীরা আশাশুনির প্রতাপনগরের ৫ হাজার পরিবারের ২৫ হাজার মানুষ। ভেঙে পড়েছে স্যানিটেশন ব্যবস্থা। এতে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে এসব হাজারো মানুষ।

ঘুর্নির্ঝড় ইয়াসের পরে প্রতাপনগরের কয়েকটি বেড়িবাঁধ মেরামত করা সম্ভব হয়নি। এখনো এখানকার মানুষের বাড়ির ভিটেমাটির উপর দিয়ে বইছে জোয়ার-ভাটা। তিনবেলা তিন মুটো খাবারসহ সুপেয় পানির জন্য চলছে হাহাকার। সবচেয়ে সমস্যায় আছে শিশু, নারী এবং বৃদ্ধরা। নারীদের বাথরুম করার জন্য সন্ধ্যা বা অন্ধকারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়।

প্রতাপনগরের ৪নং ওয়ার্ডে বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, ইয়াসের আজ ২০দিন অতিবাহিত হচ্ছে। চারিদিকে পানিতে ডুবে আছে। কোনভাবে ঘরে থাকছি। নৌকায় করে চলাফেরা করতে হয়। চারিদিকে পানি। কিন্তু কোথাও খাওয়ার পানি নেই। গোসল করতে পারছি না, বাথরুম করতে পারছি না। আম্পানের সময় ভাটায় পানি সরে যেত। কিন্তু এবার পানি সরছে না। আমার এলাকার ৫ হাজার পরিবার পানির মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছে। পানি বদ্ধ হয়ে থাকার কারণে অনেকের জ্বর, কাঁশি, সর্দি, ডাইরিয়াসহ দেখা দিচ্ছে নানান পানিবাহিত রোগ। রাস্তার পাশে যাদের বাড়ি তারা ত্রাণ পেলেও আমাদের এলাকা দুর্গম হওয়ার কারণে এখানে কেউ আসে না। ধনি, গরিব সবার অবস্থা একই হয়ে গেছে। এখানার মানুষরা আছে চরম বিপদে।
তিনি আরও বলেন, কেউ কথা রাখেনা তাই বলি না। বলে লাভ কী। আমাদের দু:খ কষ্ট আমরাদের ভিতরে রাখতে চাই। প্রতিবছর এই রকম হলে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। অনেক মানুষ এলাকা থেকে চলে গেছে আরও অনেকে চলে যাচ্ছে। বাঁধের ভাঙন দেখা দেওয়ার সাথে সাথে কাজ করলে ভাঙন বড় হয় না। কিন্তু এই কাজটি করার কেউ নেই। বাঁধ ভাঙলে পানি উন্নয়ন বোর্ড তখন আছে।
প্রতাপনগরে ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া এলাকার মিলন বিশ্বাস বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের আজ ২০ দিন। পানির মধ্যে বসবার করছে এই এলাকার মানুষ। আম্পানের সময় জোয়ার-ভাটা চললেও মানুষ কিছুটা স্বস্থিতে ছিলো। কারণ ভাটায় এলাকা জেগে উঠতো কিন্তু ইয়াসে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু কমার কোন লক্ষন নেই। স্থানীয় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ দিলেও সেটা ৬ঘন্টা পরে ভেঙে আবারও গ্রামে পানি প্রবেশ করছে। রাস্তাঘাট ডুবে আছে। এখানকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। ইয়াসের ২০ দিন পরও আমাদের দিকে কারও নজর নেই।
তিনি আরও বলেন, আম্পানের ৯ মাস পর্যন্ত জোয়ার-ভাটায় বসবার করেছি আমরা। আমার বাড়ির উঠানে জোয়ার-ভাটা হচ্ছে। খাওয়ার কষ্ট, পানির কষ্ট। শুধু মানুষ নয়, গরু-ছাগলসহ গবাদিপশুরাও কষ্টে আছে। অনেকে কম দামে গরু ছাগল বিক্রি করে দিয়েছে।
আশাশুনির প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন জানান, গত বছরের ২০ মে আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার গাছপালা, গবাদি পশু। জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার মৎস্য সম্পদ। সেই ক্ষত কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছিল এই উপক‚লের মানুষ। এবছর ইয়াসের আঘাতে আমার ইউনিয়নের ৬টি ওয়ার্ডের ১৭ গ্রামের ২৫ হাজার মানুষ আজও পানিবন্দি। কাজ নেই, খাবার নেই। কেউ মারা গেলে কবর দেওয়ার পর্যন্ত জায়গা নেই। ধনী-গরিব সবাই সমান হয়ে গেছে। এসব এলাকায় খাবার পানির তীব্র সংকটে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। রান্নার ব্যবস্থা না থাকায় অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে বহু মানুষ। সরকারিভাবে যে সকল ত্রাণ সহয়তা পেয়েছিলাম সব মানুষের মাঝে বিতরণ করেছি। কিন্তু কাজ না থাকলে চেয়ে হাত পেতে দিন চলে না।
প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আম্পানের পানি সরেছে তিন মাস হলো। এর মধ্যে আবারোও নতুন করে বাঁধ ভেঙে পুরো ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে নতুন করে ঘরবাড়ি, মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মানুষ কীভাবে পারবে? একটা ক্ষত কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার আঘাত। এখন আর বসবাস করার উপযোগী থাকলো না আমার ইউনিয়ন। আর পারছি না। মানুষ কষ্ট দেখে ভালো লাগে না।’
তিনি আরও বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদার নিয়োগ করেছে। তার কাজ করছে। তবে খুব ধীরগতি। দ্রæত স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণ না করা হলে এই স্থান বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাবে। দেশের মানচিত্র থেকে বিলিন হয়ে যাবে আমার ইউনিয়ন।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুল ইসলাম খান বলেন, ঘূণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে আশাশুনি সদর, প্রতাপনগর, বড়দল, আনুলিয়া, খাজরা ইউয়িনের ১৪টি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়। অধিকাংশ পয়েন্টে স্থানীয় মানুষ-পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রশাসনের সহয়তায় বাঁধা সম্ভব হলেও প্রতাপনগরের ৪টি পয়েন্ট বাঁধ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে প্রতাপনগর।
প্রতাপনগরের হরিষখালি, বন্যতলাসহ কুড়িকাহুনিয়া, ৪টি পয়েন্ট ভেঙে এলাকায় পানি প্রবেশ করছে। ৫ থেকে ৬ হাজার পরিবার এখনও পানি বন্দি হয়ে আছে।
তিনি আরও বলেন, ইয়াসের পর আমাদের পক্ষ থেকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। সুপেয় পানি সরবরাহ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা ৩শ’ বান টিন পেয়েছে। এখনও অনেক মানুষের ঘরের টিকের সমস্যা তাদের মাঝে টিন বিতরণ শুরু করেছি। আমাদের পক্ষ থেকে ৬শ’ প্যাকেট শুকনা খাবার দেওয়া হয়েছে। ৪০ মেট্রিক টন জিআর চাল বিতরণ করেছি দুর্গতদের মাঝে। জুনের আগে কাজ শেষ না হলে এখানার মানুষ আবারও বিপদে পড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করছে এলাকাবাসী দ্রত পানি মুক্ত হবে বলে আশা করি।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বে) রাশেদুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে সাতক্ষীরা এবং খুলনার কয়রার ২৫টি পয়েটে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছিল। ইতোমধ্যে ২০টি পয়েন্ট বাঁধ দেওয়া হয়ে গেছে। খুলনার কয়রার দুটি ও সাতক্ষীরার প্রতাপনগরের তিনটি পয়েন্টে বাঁধ দিয়ে এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে প্রতাপনগরের কুড়িকাহুনিয়া ও হরিষখালী আমাদে কাজ চলছে। বন্যতলা পয়েন্টে জাইকার অর্থয়নে কাজ হবে। ওদের কাজ এখন শুরু হয়নি। জুন মাসের ২৬ তারিখে পূর্ণিমার কারণে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। আশা করছি তার আগে সকল বাঁধের কাজ শেষ হবে।


এই বিভাগের আরও খবর
এক ক্লিকে বিভাগের সবখবর
error: Content is protected !!
error: Content is protected !!