Dhaka ১২:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় করোনা কেড়ে নিল আরো ৫ জনের প্রাণ নুতন শনাক্ত ১১১

সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরায় করোনা সংক্রমনের হার না কমায় চলমান লকডাউন আরো এক সপ্তাহ বৃদ্ধি করা হয়েছে। আজ শুক্রবার লকডাউনের সপ্তম দিন ।

এদিকে, করোনার উর্ধমুখী ঠেকাতে শহরের মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বাঁশ ও চেয়ার টেবিল ফেলে যানবাহনও মানুষ চলাচলে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। কড়াকড়ি করা হয়েছে লকডাউনের বাধা নিষেধ। জরুরি প্রয়োজনে মানুষ পায়ে হেঁটে যাতায়াত করছেন। তবে বিশেষ জরুরি পরিসেবা লকডাউনের আওতা মুক্ত রয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে খুলনা ও যশোর থেকে সাতক্ষীরায় প্রবেশের পথ। এরই মধ্যে গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে সর্দি, কাশি, জ্বর ও ডায়রিয়ার মতো করোনার নানা উপসর্গ। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। ভোমরা স্থলবন্দরে সীমিত পরিসরে চলছে আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম। তবে ভারতীয় চালক ও হেলপাররা যাতে খোলামেলা ঘুরে বেড়াতে না পারেন সে জন্য পুলিশ ও বিজিবির নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া লকডাউনের মধ্যে দোকানপাট খোলা রাখা, স্বাস্থ্যবিধি না মানাসহ বিভিন্ন অপরাধে জেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

অপরদিকে, সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার উপসর্গ ও আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তারা। এ সময় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১১১ জন।

যারা মারা গেছেন- সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের মাসুদা বেগম (৫৫), ঝাউডাঙ্গা গ্রামের আনারুল ইসলাম (৬৫), মাগুরা গ্রামের হালিমা বেগম (৬০)। তারা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ছাড়া সদর হাসপাতালে মারা গেছেন দুজন। তাদের মধ্যে একজন করোনা পজিটিভ ছিলেন।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের প্রধান ডা. মানস কুমার মন্ডল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মাসুদা নামে একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ও বাকি দুইজন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। এ ছাড়া ২১১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১১১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ১২৪ জন ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ৩৫ জন করোনা পজিটিভ এবং বাকিরা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের করোনাবিষয়ক মুখপাত্র ডা. জয়ন্ত কুমার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নুতন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১১১ জন। করোনা পজিটিভ হয়ে মারা গেছেন দুইজন ও উপসর্গে মারা গেছেন তিনজন। তারা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল জানান, চলমান এই লক ডাউন আরো এক সপ্তাহের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। আজ লকডাউনের সপ্তম দিন। যা চলবে আগামী ১৭ জুন রাত ১২ টা পর্যন্ত। তিনি এ সময় জেলাবাসীকে লকডাউনের সকল বিধি নিষেধ মেনে চলার জন্য আহবান জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

admin

Popular Post

বাগমারা উপজেলার ১৩ নম্বর গোয়ালকান্দিতে ধানের শীষের প্রচারণা শুরু

error: Content is protected !!

সাতক্ষীরায় করোনা কেড়ে নিল আরো ৫ জনের প্রাণ নুতন শনাক্ত ১১১

Update Time : ০১:০১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ জুন ২০২১

সীমান্ত জেলা সাতক্ষীরায় করোনা সংক্রমনের হার না কমায় চলমান লকডাউন আরো এক সপ্তাহ বৃদ্ধি করা হয়েছে। আজ শুক্রবার লকডাউনের সপ্তম দিন ।

এদিকে, করোনার উর্ধমুখী ঠেকাতে শহরের মোড়ে মোড়ে ব্যারিকেড দিয়ে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। বাঁশ ও চেয়ার টেবিল ফেলে যানবাহনও মানুষ চলাচলে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। কড়াকড়ি করা হয়েছে লকডাউনের বাধা নিষেধ। জরুরি প্রয়োজনে মানুষ পায়ে হেঁটে যাতায়াত করছেন। তবে বিশেষ জরুরি পরিসেবা লকডাউনের আওতা মুক্ত রয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে খুলনা ও যশোর থেকে সাতক্ষীরায় প্রবেশের পথ। এরই মধ্যে গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে সর্দি, কাশি, জ্বর ও ডায়রিয়ার মতো করোনার নানা উপসর্গ। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। ভোমরা স্থলবন্দরে সীমিত পরিসরে চলছে আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম। তবে ভারতীয় চালক ও হেলপাররা যাতে খোলামেলা ঘুরে বেড়াতে না পারেন সে জন্য পুলিশ ও বিজিবির নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়া লকডাউনের মধ্যে দোকানপাট খোলা রাখা, স্বাস্থ্যবিধি না মানাসহ বিভিন্ন অপরাধে জেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।

অপরদিকে, সাতক্ষীরায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার উপসর্গ ও আক্রান্ত হয়ে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তারা। এ সময় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১১১ জন।

যারা মারা গেছেন- সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের মাসুদা বেগম (৫৫), ঝাউডাঙ্গা গ্রামের আনারুল ইসলাম (৬৫), মাগুরা গ্রামের হালিমা বেগম (৬০)। তারা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ ছাড়া সদর হাসপাতালে মারা গেছেন দুজন। তাদের মধ্যে একজন করোনা পজিটিভ ছিলেন।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটের প্রধান ডা. মানস কুমার মন্ডল জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় মাসুদা নামে একজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ও বাকি দুইজন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। এ ছাড়া ২১১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১১১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ১২৪ জন ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ৩৫ জন করোনা পজিটিভ এবং বাকিরা উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের করোনাবিষয়ক মুখপাত্র ডা. জয়ন্ত কুমার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নুতন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১১১ জন। করোনা পজিটিভ হয়ে মারা গেছেন দুইজন ও উপসর্গে মারা গেছেন তিনজন। তারা সদর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল জানান, চলমান এই লক ডাউন আরো এক সপ্তাহের জন্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। আজ লকডাউনের সপ্তম দিন। যা চলবে আগামী ১৭ জুন রাত ১২ টা পর্যন্ত। তিনি এ সময় জেলাবাসীকে লকডাউনের সকল বিধি নিষেধ মেনে চলার জন্য আহবান জানান।