সাতক্ষীরায় ১৯ ঘণ্টার ভারি বর্ষণে ভেসে গেছে ফসল-ঘের-পুকুর

সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে টানা মৌসুমী বৃষ্টিতে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

গত তিনদিনে প্রায় ১৯ ঘণ্টার ভারি ও মাঝারি বর্ষণে সাতক্ষীরার সদর, তালা, কলারোয়া, আশাশুনি, দেবহাটা, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার হাজার হাজার পরিবার। ভেসে গেছে জমির ফসল, আমন বীজতলা, মাছের ঘের ও পুকুর।

সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ধুলিহর, ফিংড়ি, ব্রহ্মরাজপুর,লাবসা,বল্লী,ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের অধিকাংশ বিলগুলোতে সদ্য রোপা আমন ও বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। শতাধিক মাছের ঘের ও পুকুর ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নিম্ন অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে হাঁটু পানি।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্যরা জানান, পৌরসভার পানি নিষ্কাশনে সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতায় নাকাল হচ্ছে নিম্মাঞ্চলের মানুষ। গত দুইদিনের টানা মৌসুমি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সাতক্ষীরা পৌর শহরের রসুলপুর, মেহেদিবাগ, মধুমল্লারডাঙ্গী, বকচরা, সরদারপাড়া, পলাশপোল, কামালনগর, পুরাতন সাতক্ষীরা রাজারবাগান, বদ্দিপুর কলোনি, ঘুড্ডির ডাঙ্গি, পুরাতন সাতক্ষীরা, কাটিয়া মাঠপাড়া, মাছখোলা, ডাইয়েরবিল, রথখোলার বিলসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। প্লাবিত এলাকার অনেক স্থানে কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

কলারোয়ার ইয়ারব হোসেন জানান, টানা বর্ষায় কপোতাক্ষ নদের উভয় পাশের বিল ও বাওড় এলাকার গ্রামগুলোতে পানি উঠার উপক্রম হয়েছে। ডুবে গেছে আউশ আমন ধানের ক্ষেত ও বীজতলা।

তালা উপজেলার জাকির হোসেন জানান, কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত বিভিন্ন গ্রাম ও বিল পানিতে প্লাবিত হয়েছে। অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি দেয়াল ধ্বসে পড়ার মতো। এ ছাড়া সবজি ক্ষেত ও পানের বরজেরও ক্ষতি হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলার আহসান হাবীব বলেন, উপজেলার প্রতাপনগর, আনুলিয়া, খাজরা, বড়দল, শ্রীউলা, আশাশুনি সদর, দরগাহপুর, কাদাকাটিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে থৈ থৈ করছে।

শ্যামনগরের স্থানীয় সাংবাদিক কামরুজ্জামান জানান, উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর, কাশিমাড়ি, বুড়িগোয়ালিনী, কৈখালি, রমজাননগর,আটুলিয়া, ঈশ্বরীপুর,ভুরুলিয়া,নুরনগর সহ শ্যামনগর সদর
বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে বীজতলা,পুকুর, চিংড়ি ঘের, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। অসংখ্য মাটির বাড়িঘর ভেঙে গেছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে কালিগঞ্জের সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শিমুল জানান, উপজেলার মৌতলা, মথুরেশপুর, ভাড়াশিমলাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাছের ঘের ও পুকুর পানিতে ডুবে গেছে বলে খবর পেয়েছেন তিনি।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে মঙ্গলবার বিকাল থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত সাতক্ষীরায় ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী কয়েকদিন এভাবে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, ভারি বর্ষণে জেলার নিম্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে সদ্য রোপা আমন, আউশ বীজ তলার ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের জরিপ করে ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণ করে তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরা জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাছেদ জানান, হঠাৎ ভারী বর্ষণের ফলে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ক্ষয়-ক্ষতির খবর আসেনি। এ ছাড়া অতি বর্ষণজনিত ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণে কোনো নির্দেশনাও তিনি পাননি।

Tag :
About Author Information

admin

জনপ্রিয়

বাগমারা (৪) আসনের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছেছে নির্বাচনী সামগ্রী

error: Content is protected !!

সাতক্ষীরায় ১৯ ঘণ্টার ভারি বর্ষণে ভেসে গেছে ফসল-ঘের-পুকুর

Update Time : ০৬:৩৭:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১

সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে টানা মৌসুমী বৃষ্টিতে সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

গত তিনদিনে প্রায় ১৯ ঘণ্টার ভারি ও মাঝারি বর্ষণে সাতক্ষীরার সদর, তালা, কলারোয়া, আশাশুনি, দেবহাটা, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে জেলার হাজার হাজার পরিবার। ভেসে গেছে জমির ফসল, আমন বীজতলা, মাছের ঘের ও পুকুর।

সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ধুলিহর, ফিংড়ি, ব্রহ্মরাজপুর,লাবসা,বল্লী,ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের অধিকাংশ বিলগুলোতে সদ্য রোপা আমন ও বীজতলা পানিতে নিমজ্জিত হয়ে পড়েছে। শতাধিক মাছের ঘের ও পুকুর ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া নিম্ন অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে হাঁটু পানি।

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির সদস্যরা জানান, পৌরসভার পানি নিষ্কাশনে সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে বছরের পর বছর ধরে জলাবদ্ধতায় নাকাল হচ্ছে নিম্মাঞ্চলের মানুষ। গত দুইদিনের টানা মৌসুমি বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে সাতক্ষীরা পৌর শহরের রসুলপুর, মেহেদিবাগ, মধুমল্লারডাঙ্গী, বকচরা, সরদারপাড়া, পলাশপোল, কামালনগর, পুরাতন সাতক্ষীরা রাজারবাগান, বদ্দিপুর কলোনি, ঘুড্ডির ডাঙ্গি, পুরাতন সাতক্ষীরা, কাটিয়া মাঠপাড়া, মাছখোলা, ডাইয়েরবিল, রথখোলার বিলসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। প্লাবিত এলাকার অনেক স্থানে কাঁচা ঘরবাড়ি ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

কলারোয়ার ইয়ারব হোসেন জানান, টানা বর্ষায় কপোতাক্ষ নদের উভয় পাশের বিল ও বাওড় এলাকার গ্রামগুলোতে পানি উঠার উপক্রম হয়েছে। ডুবে গেছে আউশ আমন ধানের ক্ষেত ও বীজতলা।

তালা উপজেলার জাকির হোসেন জানান, কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত বিভিন্ন গ্রাম ও বিল পানিতে প্লাবিত হয়েছে। অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি দেয়াল ধ্বসে পড়ার মতো। এ ছাড়া সবজি ক্ষেত ও পানের বরজেরও ক্ষতি হয়েছে।

আশাশুনি উপজেলার আহসান হাবীব বলেন, উপজেলার প্রতাপনগর, আনুলিয়া, খাজরা, বড়দল, শ্রীউলা, আশাশুনি সদর, দরগাহপুর, কাদাকাটিসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল পানিতে থৈ থৈ করছে।

শ্যামনগরের স্থানীয় সাংবাদিক কামরুজ্জামান জানান, উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর, কাশিমাড়ি, বুড়িগোয়ালিনী, কৈখালি, রমজাননগর,আটুলিয়া, ঈশ্বরীপুর,ভুরুলিয়া,নুরনগর সহ শ্যামনগর সদর
বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে বীজতলা,পুকুর, চিংড়ি ঘের, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। অসংখ্য মাটির বাড়িঘর ভেঙে গেছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে কালিগঞ্জের সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শিমুল জানান, উপজেলার মৌতলা, মথুরেশপুর, ভাড়াশিমলাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মাছের ঘের ও পুকুর পানিতে ডুবে গেছে বলে খবর পেয়েছেন তিনি।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, নিম্নচাপের প্রভাবে মঙ্গলবার বিকাল থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত সাতক্ষীরায় ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী কয়েকদিন এভাবে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, ভারি বর্ষণে জেলার নিম্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে সদ্য রোপা আমন, আউশ বীজ তলার ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের জরিপ করে ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণ করে তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।

সাতক্ষীরা জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আব্দুল বাছেদ জানান, হঠাৎ ভারী বর্ষণের ফলে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ক্ষয়-ক্ষতির খবর আসেনি। এ ছাড়া অতি বর্ষণজনিত ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণে কোনো নির্দেশনাও তিনি পাননি।