সাতক্ষীরা শ্যামনগরের খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধটি অবশেষে স্থানীয় হাজার হাজার মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করা হয়েছে

সাতক্ষীরা শ্যামনগরের খোলপেটুয়া নদীর ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধটি অবশেষে স্থানীয় হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে রিংবাধ দিয়ে পানি বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। শনিবার দুপুরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডলের নেতৃত্বে শুক্রবার সকাল থেকে হাজার হাজার এলাকাবাসী সেখানে বাধ মেরামতের কাজ শুরু হরেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রবল জোয়ারের তোড়ে উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পশ্চিম দুর্গাবাটিতে খোলপেটুয়া নদীর বেঁড়ি বাধ ভেঙে ৫ টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এতে পানিতে প্লাবিত হয় প্রায় ৫ হাজার বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি। ক্ষতি হয় কয়েক কোটি টাকার।

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডল জানান, নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে প্রতিবছর এই ভাঙ্গন দেখা যায়। প্রায় ৫০ বছর ধরে এই বেঁড়িবাধ ভাঙছে। আর এই বেড়িবাধ ভাঙার জন্য তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতিকে দায়ী করেন। তিনি আরো জানান, স্থানীয় হাজার হাজার এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে গত দুই দিন ধরে সেখানে রিংবাধ দিয়ে কোন রকমে বাধটি মেরামত করা হয়েছে।পার্শ্ববর্তী আটুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন।

উপকূলীয় এলাকার বন্ধু হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরার শিল্পপতি খলিলুল্লাহ ঝড়ু বলেন, দীর্ঘমেয়াদী কোন পরিকল্পনা না থাকায় সুন্দরবন উপকূলীয় শ্যামনগরের বেড়িবাঁধগুলি প্রতিবছর ভাঙছে।শ্যামনগরের প্রতিটি দুর্যোগে আমি দুর্গত জনগণের সাথে মিশে থাকার চেষ্টা করি।দুর্গাবাটি এলাকায় দুই দিন ধরে অবস্হান করে মানুষকে বাঁধ বাঁধার কাজে উৎসাহিত করেছি।

শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন বলেন, নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারে বৃদ্ধি পাওয়ায় উচ্চ জোয়ারের চাপে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পশ্চিম দূর্গাবাটি পয়েন্টের বেড়ীবাঁধ ভেঙে যায়। এছাড়াও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের খুটিকাটা, পদ্মপুকুর, চন্ডিপুর ও চাউলখোলা পয়েন্টের বেড়িবাঁধ গুলো খুবই ঝুঁকির মধ্যে।গাবুরা ইউনিয়নের বেড়িবাঁধগুলিও ঝুঁকিপূর্ণ । যেকোনো মুহূর্তে এই বেড়িবাঁধগুলো ভেঙে যেতে পারে। তিনি এসময় টেকসই বেঁড়িবাধ নির্মানের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

সাতক্ষীরা ৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার বলেন , দুর্গাবাটি বেড়ীবাঁধ ভাঙ্গার খবর পেয়ে তিনি গভীর রাতে এলাকায় ছুটে গিয়েছেন। বুড়িগোয়ালিনী এলাকার পানিবন্দি মানুষকে সাহস যুগিয়েছেন। এলাকাকে দুর্যোগমুক্ত করার জন্য তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথাও বলেছেন। অচিরেই উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধের স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Tag :
About Author Information

admin

জনপ্রিয়

বাপা’র সুন্দরবন দিবসের আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হলে “ডোন্ট ডিস্টার্ব সুন্দরবন” নীতি গ্রহণ করতে হবে

error: Content is protected !!

সাতক্ষীরা শ্যামনগরের খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধটি অবশেষে স্থানীয় হাজার হাজার মানুষের স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করা হয়েছে

Update Time : ০৯:৩৯:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ এপ্রিল ২০২১

সাতক্ষীরা শ্যামনগরের খোলপেটুয়া নদীর ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধটি অবশেষে স্থানীয় হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে রিংবাধ দিয়ে পানি বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। শনিবার দুপুরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডলের নেতৃত্বে শুক্রবার সকাল থেকে হাজার হাজার এলাকাবাসী সেখানে বাধ মেরামতের কাজ শুরু হরেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রবল জোয়ারের তোড়ে উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পশ্চিম দুর্গাবাটিতে খোলপেটুয়া নদীর বেঁড়ি বাধ ভেঙে ৫ টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এতে পানিতে প্লাবিত হয় প্রায় ৫ হাজার বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি। ক্ষতি হয় কয়েক কোটি টাকার।

বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ভবতোষ মন্ডল জানান, নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে প্রতিবছর এই ভাঙ্গন দেখা যায়। প্রায় ৫০ বছর ধরে এই বেঁড়িবাধ ভাঙছে। আর এই বেড়িবাধ ভাঙার জন্য তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতিকে দায়ী করেন। তিনি আরো জানান, স্থানীয় হাজার হাজার এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে গত দুই দিন ধরে সেখানে রিংবাধ দিয়ে কোন রকমে বাধটি মেরামত করা হয়েছে।পার্শ্ববর্তী আটুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন।

উপকূলীয় এলাকার বন্ধু হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরার শিল্পপতি খলিলুল্লাহ ঝড়ু বলেন, দীর্ঘমেয়াদী কোন পরিকল্পনা না থাকায় সুন্দরবন উপকূলীয় শ্যামনগরের বেড়িবাঁধগুলি প্রতিবছর ভাঙছে।শ্যামনগরের প্রতিটি দুর্যোগে আমি দুর্গত জনগণের সাথে মিশে থাকার চেষ্টা করি।দুর্গাবাটি এলাকায় দুই দিন ধরে অবস্হান করে মানুষকে বাঁধ বাঁধার কাজে উৎসাহিত করেছি।

শ্যামনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন বলেন, নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারে বৃদ্ধি পাওয়ায় উচ্চ জোয়ারের চাপে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পশ্চিম দূর্গাবাটি পয়েন্টের বেড়ীবাঁধ ভেঙে যায়। এছাড়াও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের খুটিকাটা, পদ্মপুকুর, চন্ডিপুর ও চাউলখোলা পয়েন্টের বেড়িবাঁধ গুলো খুবই ঝুঁকির মধ্যে।গাবুরা ইউনিয়নের বেড়িবাঁধগুলিও ঝুঁকিপূর্ণ । যেকোনো মুহূর্তে এই বেড়িবাঁধগুলো ভেঙে যেতে পারে। তিনি এসময় টেকসই বেঁড়িবাধ নির্মানের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

সাতক্ষীরা ৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার বলেন , দুর্গাবাটি বেড়ীবাঁধ ভাঙ্গার খবর পেয়ে তিনি গভীর রাতে এলাকায় ছুটে গিয়েছেন। বুড়িগোয়ালিনী এলাকার পানিবন্দি মানুষকে সাহস যুগিয়েছেন। এলাকাকে দুর্যোগমুক্ত করার জন্য তিনি সরকারের উচ্চপর্যায়ে কথাও বলেছেন। অচিরেই উপকূলীয় এলাকার বেড়িবাঁধের স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।