
তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫-কে নথিপত্রে সীমাবদ্ধ না রেখে আসন্ন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এটি পাস করে আইনে রূপান্তরের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন পেশাজীবী নারীরা। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ‘নারী মৈত্রী’ আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই দাবি জানানো হয়।
নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলির সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিটিএফকে-বাংলাদেশ এর লিড পলিসি এডভাইজর মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
সভায় জানানো হয়, টোব্যাকো এটলাস ২০২৫-এর তথ্যমতে, বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ২ লক্ষ মানুষ মৃত্যুবরণ করছে এবং এর ফলে বছরে প্রায় ৩৯.২ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার গত ২৪ ডিসেম্বর ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে। এতে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করা, পাবলিক প্লেসে তামাক ব্যবহার বন্ধ এবং প্যাকেটে সতর্কবাণী ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করার বিধান রয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ মোমেনা মনি বলেন, তামাক খাত থেকে যে রাজস্ব আসে, তার চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয় এর চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায়। তাই জনস্বার্থেই এই অধ্যাদেশটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত করা জরুরি।
শাহীন আকতার ডলি বলেন, তামাকের কারণে ১১ শতাংশের বেশি নারী মৃত্যুবরণ করছেন। অধ্যাদেশটি কার্যকর হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সিটিএফকে-র প্রোগ্রাম ম্যানেজার আব্দুস সালাম মিয়া, শিবানী ভট্টাচার্য, ড. খালেদা ইসলামসহ অনেকে। বক্তারা তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
নিজস্ব প্রতিনিধি 









