Dhaka ০৫:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচন কমিশনের বৈষম্য ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আমজনগণ পার্টি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ Time View

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অপেশাদারিত্ব, সীমাহীন অবহেলা ও স্বেচ্ছাচারী আচরণের বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে এবং এর সুষ্ঠু প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে নতুন রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি’।
বুধবার (২৮জানুয়ারী) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সদস্য সচিব ফাতেমা তাসনিম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শক্তির বিপরীতে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়ের চেতনায় গত ১৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি আত্মপ্রকাশ করে। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে অল্প সময়েই দলটি সারাদেশে শক্তিশালী ভিত্তি লাভ করেছে। নিজ দলের প্রতীকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে গত ২২ জুন নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের আবেদন করা হয়, যেখানে ১টি কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ২৩টি জেলা ও ১০৩টি উপজেলা কার্যালয় এবং কমিটি গঠনের সকল শর্ত পূরণ করে ৫১ হাজার পৃষ্ঠার আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। মাঠ পর্যায়ে কমিশনের কর্মকর্তারা তদন্ত করে সবকিছু সঠিক পাওয়ার পরেও কমিশন রহস্যজনকভাবে ‘অধিকতর পর্যালোচনা’র কথা বলে সময়ক্ষেপণ শুরু করে।
গত ৯ অক্টোবর সারাদেশে আবারও তথ্য পুনঃতদন্তের সিদ্ধান্ত নিলেও তা লিখিতভাবে জানানো হয়নি। এই ধাপে সদস্যদের এনআইডি, জমির দলিল-পর্চা ও প্রত্যয়ন চেয়ে নেতাকর্মীদের চরম হয়রানি করা হয়, যা নতুন কোনো দলের তদন্তে এর আগে কখনও কার্যকর করা হয়নি।
ফাতেমা তাসনিম আরও জানান, গত ৪ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন ৩টি নতুন দলকে নিবন্ধন দিতে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করলেও ১৮ নভেম্বর মাত্র ২টি দলকে চূড়ান্ত নিবন্ধন দেয়। আমজনগণ পার্টির বিষয়ে আপত্তি থাকায় শুনানির কথা বলা হলেও দীর্ঘ ৮৪ দিনেও তা করা হয়নি। উল্টো গত ১ ডিসেম্বর আইন ও বিধির বাইরে গিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তদন্ত করানো হয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
গত ২৪ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিবেদন দেওয়া হলেও কমিশন ১৮ জানুয়ারি ব্যাখ্যা জানতে চায় এবং দলটি সেই অনুযায়ী ব্যাখ্যা প্রদান করে। কিন্তু ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে কমিশন প্রমাণ দিচ্ছে যে তারা আমজনগণ পার্টিকে অংশ্রগ্রহণমূলক নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায় এবং অতীতের জালিমের ভূমিকা থেকে সরে আসতে পারেনি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, দলের প্রথম দফা তদন্তের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার ও সচিবরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিলেও পরে কোনো এক অদৃশ্য হস্তক্ষেপে চিত্র বদলে যায়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চার দফায় সিইসি ও সচিবের সাক্ষাৎ চেয়ে চিঠি দিলেও কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বর্তমানে সারাদেশে ১২৭টি কার্যালয় এবং প্রায় ২৫ হাজার তালিকাভুক্ত সদস্য নিয়ে দলটি কার্যক্রম পরিচালনা করলেও কমিশনের অবহেলা ও স্বেচ্ছাচারিতার জন্য তারা সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
বক্তব্যে দাবি করা হয়, কমিশন চাপের মুখে অনেককে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে নিবন্ধন দিলেও আমজনগণ পার্টির ক্ষেত্রে বারবার গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তদন্ত করিয়ে নিজেদের কর্মকর্তাদের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করছে। আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে নতুন দলকে নিবন্ধন দিতে চায়নি, বর্তমান কমিশনও সেই একই পথে হাঁটছে যা প্রত্যাশিত নয়। অবিলম্বে দলের জটিলতা কাটিয়ে নিবন্ধন সনদ প্রদানের দাবিতে দলটি স্বরাষ্ট্র সচিব ও প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Alauddin Mondal

জনপ্রিয়

নির্বাচন কমিশনের বৈষম্য ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আমজনগণ পার্টি

error: Content is protected !!

নির্বাচন কমিশনের বৈষম্য ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আমজনগণ পার্টি

Update Time : ০৪:০৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অপেশাদারিত্ব, সীমাহীন অবহেলা ও স্বেচ্ছাচারী আচরণের বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে এবং এর সুষ্ঠু প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে নতুন রাজনৈতিক দল ‘বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি’।
বুধবার (২৮জানুয়ারী) রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সদস্য সচিব ফাতেমা তাসনিম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শক্তির বিপরীতে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম ও জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত বিজয়ের চেতনায় গত ১৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি আত্মপ্রকাশ করে। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে অল্প সময়েই দলটি সারাদেশে শক্তিশালী ভিত্তি লাভ করেছে। নিজ দলের প্রতীকে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে গত ২২ জুন নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের আবেদন করা হয়, যেখানে ১টি কেন্দ্রীয় কার্যালয়, ২৩টি জেলা ও ১০৩টি উপজেলা কার্যালয় এবং কমিটি গঠনের সকল শর্ত পূরণ করে ৫১ হাজার পৃষ্ঠার আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল। মাঠ পর্যায়ে কমিশনের কর্মকর্তারা তদন্ত করে সবকিছু সঠিক পাওয়ার পরেও কমিশন রহস্যজনকভাবে ‘অধিকতর পর্যালোচনা’র কথা বলে সময়ক্ষেপণ শুরু করে।
গত ৯ অক্টোবর সারাদেশে আবারও তথ্য পুনঃতদন্তের সিদ্ধান্ত নিলেও তা লিখিতভাবে জানানো হয়নি। এই ধাপে সদস্যদের এনআইডি, জমির দলিল-পর্চা ও প্রত্যয়ন চেয়ে নেতাকর্মীদের চরম হয়রানি করা হয়, যা নতুন কোনো দলের তদন্তে এর আগে কখনও কার্যকর করা হয়নি।
ফাতেমা তাসনিম আরও জানান, গত ৪ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন ৩টি নতুন দলকে নিবন্ধন দিতে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করলেও ১৮ নভেম্বর মাত্র ২টি দলকে চূড়ান্ত নিবন্ধন দেয়। আমজনগণ পার্টির বিষয়ে আপত্তি থাকায় শুনানির কথা বলা হলেও দীর্ঘ ৮৪ দিনেও তা করা হয়নি। উল্টো গত ১ ডিসেম্বর আইন ও বিধির বাইরে গিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তদন্ত করানো হয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
গত ২৪ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিবেদন দেওয়া হলেও কমিশন ১৮ জানুয়ারি ব্যাখ্যা জানতে চায় এবং দলটি সেই অনুযায়ী ব্যাখ্যা প্রদান করে। কিন্তু ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও কোনো সিদ্ধান্ত না দিয়ে কমিশন প্রমাণ দিচ্ছে যে তারা আমজনগণ পার্টিকে অংশ্রগ্রহণমূলক নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চায় এবং অতীতের জালিমের ভূমিকা থেকে সরে আসতে পারেনি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, দলের প্রথম দফা তদন্তের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার ও সচিবরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিলেও পরে কোনো এক অদৃশ্য হস্তক্ষেপে চিত্র বদলে যায়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর পর্যন্ত চার দফায় সিইসি ও সচিবের সাক্ষাৎ চেয়ে চিঠি দিলেও কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। বর্তমানে সারাদেশে ১২৭টি কার্যালয় এবং প্রায় ২৫ হাজার তালিকাভুক্ত সদস্য নিয়ে দলটি কার্যক্রম পরিচালনা করলেও কমিশনের অবহেলা ও স্বেচ্ছাচারিতার জন্য তারা সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
বক্তব্যে দাবি করা হয়, কমিশন চাপের মুখে অনেককে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে নিবন্ধন দিলেও আমজনগণ পার্টির ক্ষেত্রে বারবার গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে তদন্ত করিয়ে নিজেদের কর্মকর্তাদের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করছে। আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে নতুন দলকে নিবন্ধন দিতে চায়নি, বর্তমান কমিশনও সেই একই পথে হাঁটছে যা প্রত্যাশিত নয়। অবিলম্বে দলের জটিলতা কাটিয়ে নিবন্ধন সনদ প্রদানের দাবিতে দলটি স্বরাষ্ট্র সচিব ও প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।