Dhaka ০৮:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরকার গড়লে রাজশাহীতে পদ্মা ব্যারেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতাল হবে : তারেক রহমান

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৬:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ Time View

​‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তাঁর দল শান্তিতে বিশ্বাসী এবং কোনো ধরনের বিবাদ বা সংঘাতের পথে হাঁটতে চায় না। তিনি বলেন, ‘আমরা কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলব সঠিক তদন্ত করুন। প্রয়োজনে বিএনপি সহযোগিতা করবে, তবে বিচার হতে হবে স্বচ্ছ ও আইন অনুযায়ী।’

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​রাজশাহীর উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘রাজশাহীর কথা বললেই পদ্মা নদীর নাম আসে। কিন্তু আজ পদ্মা, তিস্তা বা ব্রহ্মপুত্রে পর্যাপ্ত পানি নেই। পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি। ধানের শীষের সরকার গঠিত হলে ইনশাআল্লাহ আমরা পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কাজ হাতে নেব।’

​তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের হাত ধরে শুরু হওয়া বরেন্দ্র প্রকল্পের ধারাকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করে দেশকে পুনরায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে।

​রাজশাহীকে ‘শিক্ষানগরী’ উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখানে উচ্চশিক্ষিত যুবক থাকলেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নেই। আমরা রাজশাহীর আইটি পার্ককে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করব। এছাড়া আম চাষিদের ভাগ্য উন্নয়নে আধুনিক হিমাগার ও বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।’

​আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে তারেক রহমান নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনেই সিদ্ধান্ত হবে দেশ গণতন্ত্রের পথে চলবে নাকি অন্য পথে। আমরা সাধারণ মানুষের জন্য “ফ্যামিলি কার্ড” এবং কৃষকদের জন্য “কৃষি কার্ড” চালু করব।’

​এছাড়াও নির্বাচিত হলে রাজশাহীতে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

​বক্তব্যের শুরুতেই স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ ২২ বছর পর আপনাদের সাথে সরাসরি দেখা হলো। সর্বশেষ ২০০৪ সালে এসেছিলাম। আপনাদের সাথে আমার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া এই দেশ গড়েছেন। আমাদের মূলমন্ত্র—করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।’

​রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুনের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান।

সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত সহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

উপস্থিত ছিলেন, হারুন উর -রশীদ, অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শফিকুল হক মিলন, আবু সাইদ চাঁদ প্রমুখ।

​দুপুর থেকেই রাজশাহীর মাদরাসা মাঠ ও আশপাশের এলাকা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জনসভা ঘিরে পুরো শহরে ব্যাপক নিরাপত্তা ও উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Alauddin Mondal

জনপ্রিয়

ঢাকা-২ আসনকে শান্তির নীড় হিসেবে গড়তে চাই: আমান উল্লাহ আমান

error: Content is protected !!

সরকার গড়লে রাজশাহীতে পদ্মা ব্যারেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতাল হবে : তারেক রহমান

Update Time : ০৬:৪৬:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

​‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, তাঁর দল শান্তিতে বিশ্বাসী এবং কোনো ধরনের বিবাদ বা সংঘাতের পথে হাঁটতে চায় না। তিনি বলেন, ‘আমরা কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বলব সঠিক তদন্ত করুন। প্রয়োজনে বিএনপি সহযোগিতা করবে, তবে বিচার হতে হবে স্বচ্ছ ও আইন অনুযায়ী।’

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

​রাজশাহীর উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘রাজশাহীর কথা বললেই পদ্মা নদীর নাম আসে। কিন্তু আজ পদ্মা, তিস্তা বা ব্রহ্মপুত্রে পর্যাপ্ত পানি নেই। পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা জরুরি। ধানের শীষের সরকার গঠিত হলে ইনশাআল্লাহ আমরা পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের কাজ হাতে নেব।’

​তিনি আরও বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের হাত ধরে শুরু হওয়া বরেন্দ্র প্রকল্পের ধারাকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করে দেশকে পুনরায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে।

​রাজশাহীকে ‘শিক্ষানগরী’ উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখানে উচ্চশিক্ষিত যুবক থাকলেও পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান নেই। আমরা রাজশাহীর আইটি পার্ককে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করব। এছাড়া আম চাষিদের ভাগ্য উন্নয়নে আধুনিক হিমাগার ও বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।’

​আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে তারেক রহমান নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনেই সিদ্ধান্ত হবে দেশ গণতন্ত্রের পথে চলবে নাকি অন্য পথে। আমরা সাধারণ মানুষের জন্য “ফ্যামিলি কার্ড” এবং কৃষকদের জন্য “কৃষি কার্ড” চালু করব।’

​এছাড়াও নির্বাচিত হলে রাজশাহীতে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ এবং সহজ শর্তে কৃষিঋণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

​বক্তব্যের শুরুতেই স্মৃতিচারণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘দীর্ঘ ২২ বছর পর আপনাদের সাথে সরাসরি দেখা হলো। সর্বশেষ ২০০৪ সালে এসেছিলাম। আপনাদের সাথে আমার আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া এই দেশ গড়েছেন। আমাদের মূলমন্ত্র—করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।’

​রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুনের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবায়দা রহমান।

সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত সহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

উপস্থিত ছিলেন, হারুন উর -রশীদ, অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শফিকুল হক মিলন, আবু সাইদ চাঁদ প্রমুখ।

​দুপুর থেকেই রাজশাহীর মাদরাসা মাঠ ও আশপাশের এলাকা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। জনসভা ঘিরে পুরো শহরে ব্যাপক নিরাপত্তা ও উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।