Dhaka ১০:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরে সবজির বাজারে ধস নেমেছে সাধারণ মানুষকে কিনতে হচ্ছে কয়েক গুণ দামে

 

দক্ষিন-পশ্চিাঞ্চলের সবজি খ্যাত কেশবপুরে গত কয়েক দিনে সবজির বাজারে ধস নেমেছে। প্রায় প্রতিদিনই কমছে সবজির দাম। এক্ষেত্রে বাজার থেকে পাইকাররা সস্ত্মায় কিনে বেশি দামে বিক্রি করলেও উৎপাদন খরচও উঠছে না কৃষকের।
অতিকষ্টে উৎপাদন করা এসব সবজির দাম কৃষকরা ভোগ করতে না পারলেও হাত বদলের মাধ্যমে এই সবজি সাধারণ মানুষকে কিনতে হচ্ছে কয়েক গুণ দামে। কেশবপুর পাইকারী কাচা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন সবজি বাজার ঘুরে সবজির বর্তমান বাজার মূল্য সম্পর্কে এমন তথ্য জানা যায়। কৃষক তাদের সবজির ন্যায্য দাম না পেলেও খুচরা বাজারে কয়েক গুণ বেশি দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে। তবে পাইকাররা সস্ত্মায় কিনে বেশি দামে বিক্রি করে পোয়াবারোতে পরিণত হলেও কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে বলে সচেতনমহল অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রম্নয়ারী) কেশবপুর পাইকারী কাচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে জমিতে চাষ করা টাটকা সবজি বিক্রি করতে এসে সস্ত্মায় বিক্রি করতে অনেকটা বাধ্য হচ্ছে কেশবপুরসহ পর্শ্ববর্তি মনিরামপুর উপজেলার দক্ষিন-পশ্চিাঞ্চলের হাজার হাজার কৃষকরা। কেশবপুর পাইকারী কাচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটা আড়ৎ এ রয়েছে সবজি আর সবজি। দূর-দূরান্ত্ম থেকে আসা ব্যাপারীরা সবজি গন্ত্মব্যে নিতে ব্যাটারি চালিত ভ্যান, নসিমন, করিমন ও আলম সাধু নিয়ে এসেছেন এ বাজারে। এখানে বাধা কপি প্রতি পিচ ৫ থেকে ৭ টাকা, বেগুন ৫ থেকে ১০ টাকা কেজি, গাজর ৫ টাকা থেকে ৭ টাকা কেজি, সিম ২ টাকা থেকে ৩ টাকা কেজি, কাচ কলা ১০ টাকা থেকে ১২ টাকা কেজি, টমেটো ৮ টাকা থেকে ১০ টাকা কেজি, পেপে ১০ টাকা থেকে ১২ টাকা কেজি দরে পাইকারী বিক্রি হচ্ছে। অপর দিকে, কেশবপুর খুচরা কাচা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাধা কপি প্রতি পিচ ১৫ থেকে ২০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি, গাজর ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা কেজি, সিম ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা কেজি, কাচ কলা ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা কেজি, টমেটো ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা কেজি, পেপে ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে খুচরা বিক্রি হচ্ছে। কেশবপুর পাইকারী কাচা বাজারে বেগুন বিক্রি করতে আসা উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের কৃষক অশোক জানান, বেগুন ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এই দামে সবজি বিক্রি করে হাটে আনতে ভ্যান ভাড়া এবং জমি থেকে সবজি উঠানোর খরচ উঠছে না। তারপরও খাজনা দিতে হচ্ছে কেজিতে ১ টাকা।উপজেলার সুজাপুর গ্রামের সবজি চাষি তফিজুল ইসলাম বলেন, তিনি সিম চাষ করেছেন। দাম না থাকায় উঠানোর খরচ না ওঠার ভয়ে আগামীতে আড়ৎ এ আনতে সাহস পাচ্ছেন না। কেশবপুর পাইকারী কাচা বাজারের সবজির আড়ৎ মেসার্স ভাই ভাই বাণিজ্য ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী মাহাবুবুর রহমান বলেন, কেশবপুর পাইকারী কাচা বাজারে সবমিলে প্রতিদিন ৮শ মণ সবজি বিক্রিয় হয়। কেশবপুর খুচরা কাচা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারের এক হাজারেরও অধিক খুচরা বিক্রেতারা এ কাচা বাজার থেকে সবজি ক্রয় করে।কেশবপুর পাইকারী কাচা বাজার আড়ৎ সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বলেন, চলতি বছর সবজির প্রচুর দাম ছিল। এ কারনে এ এলাকায় সবজির ব্যাপক চাষ হয়েছে। এখন ভরা মৌসুম, একারণে সবজির দাম কম।

Tag :
About Author Information

admin

জনপ্রিয়

রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আল আমিনের মায়ের ইন্তেকালে শোক

error: Content is protected !!

কেশবপুরে সবজির বাজারে ধস নেমেছে সাধারণ মানুষকে কিনতে হচ্ছে কয়েক গুণ দামে

Update Time : ১০:৫৪:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২২

 

দক্ষিন-পশ্চিাঞ্চলের সবজি খ্যাত কেশবপুরে গত কয়েক দিনে সবজির বাজারে ধস নেমেছে। প্রায় প্রতিদিনই কমছে সবজির দাম। এক্ষেত্রে বাজার থেকে পাইকাররা সস্ত্মায় কিনে বেশি দামে বিক্রি করলেও উৎপাদন খরচও উঠছে না কৃষকের।
অতিকষ্টে উৎপাদন করা এসব সবজির দাম কৃষকরা ভোগ করতে না পারলেও হাত বদলের মাধ্যমে এই সবজি সাধারণ মানুষকে কিনতে হচ্ছে কয়েক গুণ দামে। কেশবপুর পাইকারী কাচা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন সবজি বাজার ঘুরে সবজির বর্তমান বাজার মূল্য সম্পর্কে এমন তথ্য জানা যায়। কৃষক তাদের সবজির ন্যায্য দাম না পেলেও খুচরা বাজারে কয়েক গুণ বেশি দামে সবজি বিক্রি হচ্ছে। তবে পাইকাররা সস্ত্মায় কিনে বেশি দামে বিক্রি করে পোয়াবারোতে পরিণত হলেও কৃষকের মাথায় হাত পড়েছে বলে সচেতনমহল অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রম্নয়ারী) কেশবপুর পাইকারী কাচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে জমিতে চাষ করা টাটকা সবজি বিক্রি করতে এসে সস্ত্মায় বিক্রি করতে অনেকটা বাধ্য হচ্ছে কেশবপুরসহ পর্শ্ববর্তি মনিরামপুর উপজেলার দক্ষিন-পশ্চিাঞ্চলের হাজার হাজার কৃষকরা। কেশবপুর পাইকারী কাচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটা আড়ৎ এ রয়েছে সবজি আর সবজি। দূর-দূরান্ত্ম থেকে আসা ব্যাপারীরা সবজি গন্ত্মব্যে নিতে ব্যাটারি চালিত ভ্যান, নসিমন, করিমন ও আলম সাধু নিয়ে এসেছেন এ বাজারে। এখানে বাধা কপি প্রতি পিচ ৫ থেকে ৭ টাকা, বেগুন ৫ থেকে ১০ টাকা কেজি, গাজর ৫ টাকা থেকে ৭ টাকা কেজি, সিম ২ টাকা থেকে ৩ টাকা কেজি, কাচ কলা ১০ টাকা থেকে ১২ টাকা কেজি, টমেটো ৮ টাকা থেকে ১০ টাকা কেজি, পেপে ১০ টাকা থেকে ১২ টাকা কেজি দরে পাইকারী বিক্রি হচ্ছে। অপর দিকে, কেশবপুর খুচরা কাচা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাধা কপি প্রতি পিচ ১৫ থেকে ২০ টাকা, বেগুন ৩০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি, গাজর ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা কেজি, সিম ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা কেজি, কাচ কলা ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা কেজি, টমেটো ৩০ টাকা থেকে ৪০ টাকা কেজি, পেপে ২০ টাকা থেকে ২৫ টাকা কেজি দরে খুচরা বিক্রি হচ্ছে। কেশবপুর পাইকারী কাচা বাজারে বেগুন বিক্রি করতে আসা উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের কৃষক অশোক জানান, বেগুন ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে। এই দামে সবজি বিক্রি করে হাটে আনতে ভ্যান ভাড়া এবং জমি থেকে সবজি উঠানোর খরচ উঠছে না। তারপরও খাজনা দিতে হচ্ছে কেজিতে ১ টাকা।উপজেলার সুজাপুর গ্রামের সবজি চাষি তফিজুল ইসলাম বলেন, তিনি সিম চাষ করেছেন। দাম না থাকায় উঠানোর খরচ না ওঠার ভয়ে আগামীতে আড়ৎ এ আনতে সাহস পাচ্ছেন না। কেশবপুর পাইকারী কাচা বাজারের সবজির আড়ৎ মেসার্স ভাই ভাই বাণিজ্য ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী মাহাবুবুর রহমান বলেন, কেশবপুর পাইকারী কাচা বাজারে সবমিলে প্রতিদিন ৮শ মণ সবজি বিক্রিয় হয়। কেশবপুর খুচরা কাচা বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারের এক হাজারেরও অধিক খুচরা বিক্রেতারা এ কাচা বাজার থেকে সবজি ক্রয় করে।কেশবপুর পাইকারী কাচা বাজার আড়ৎ সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বলেন, চলতি বছর সবজির প্রচুর দাম ছিল। এ কারনে এ এলাকায় সবজির ব্যাপক চাষ হয়েছে। এখন ভরা মৌসুম, একারণে সবজির দাম কম।