Dhaka ১০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইনে পরিণত হবে: এড. জয়নুল আবেদীন

নারী, শিশু ও তরুণদের তথা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইনে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি ও বরিশাল-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব এডভোকেট জয়নুল আবেদীন। আজ সোমবার (৩০ মার্চ) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নারী মৈত্রী আয়োজিত ‘তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি্ এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা মনে করি রাজস্বের চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। এই বিবেচনা নিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে কমিটিতে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে এবং সংসদীয় বাধ্যবাধকতা মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করা হবে।’

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সের মানুষের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার ৩৫.৩% (বিবিএস, ২০১৭), যা দক্ষিণ এশীয়ায় সর্বোচ্চ। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে তামাকজনিত রোগে মৃত্যু হয় প্রায় ২ লাখ মানুষের, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ৫৪৬ জন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক গবেষণালব্ধ তথ্য অনুযায়ী ২০২৪-২৫ বছর তামাক খাত থেকে রাজস্ব আয় হয়েছিল প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা পক্ষান্তরে, তামাক ব্যবহারজনিত কারণে মৃত্যু, অন্যান্য স্বাস্থ্য ক্ষতি এবং পরিবেশের ক্ষতি বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রাপ্ত রাজস্বের চেয়ে ক্ষতি দ্বিগুনেরও বেশি। সুতরাং তামাকের ব্যবহার ও তামাক পণ্যের ব্যবসা জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতি- কোনোকিছুর জন্যই লাভজনক নয়। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ৩.এ এবং ৩.৪ অর্জনের জন্যও তামাক নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

বাংলাদেশ ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার Framework Convention on Tobacco Control (WHO FCTC) তে স্বাক্ষর করে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আইনটি যুগোপযোগী করার প্রয়োজনীয়ত দেখা দিলে WHO FCTC এর আলোকে বিদ্যমান আইনকে যুগোপযোগী করতে ’ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়।

অধ্যাদেশে আনিত গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীসমূহ হল: পরোক্ষ ধূমপান প্রত্যক্ষ ধূমপানের সমান ক্ষতিকর বিধায় পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের সুরক্ষার জন্য পাবলিক প্লেস এবং গণপরিবহণে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা; তরুণদের ধূমপানে আকৃষ্ট করা বন্ধ করার জন্য বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা এবং প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ওটিটি ও ডিজিটাল মিডিয়াসহ যেকোনো মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের সকল প্রকার বিজ্ঞাপন, প্রচার ও পৃষ্ঠপোষকতা নিষিদ্ধ করা। এ ছাড়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও খেলাধূলার স্থানের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা এবং তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের গায়ে বিদ্যমান ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ৭৫ শতাংশ এলাকা জুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সতর্কবাণী মুদ্রণের বিধান সংযোজন।

এই অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত হলে, অকালমৃত্যু ও স্বাস্থ্যব্যয় বহুলাংশে হ্রাস পাবে এবং কিশোর ও তরুণ সমাজ তামাকের ব্যবহার থেকে দূরে থাকবে।

তামাক বিরোধী মাদার্স ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, ’হার্ম রিডাকশন (Harm Reduction)- এর নামে তামাক কোম্পানিগুলো ই-সিগারেট, ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ ইত্যাদি নানা নামে নতুন নতুন নিকোটিন পণ্য বাজারজাত করছে, যা তামাক ব্যবসায়ী চক্রের এক অভিনব ব্যবসায়িক কৌশল। এই কৌশলের মাধ্যমে তারা কিশোর-তরুণদের বিভ্রান্ত করে দেশের কিশোর-তরুণদের আর এক নেশার জগতে ঠেলে দিচ্ছে। এ থেকে মুক্তি পেতে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তর করতে হবে। বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আইনী উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তর করে এই প্রতিশ্রুতি রক্ষার দাবি জানাচ্ছি।’

তামাকবিরোধী ইয়ূথ ফোরামের সদস্য তাসফিয়া নওরিন বলেন, ’সর্বশেষ জনশুমারি (২০২২) অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৮ শতাংশই তরুণ। এই তরুণ জনগোষ্ঠীকে পাস কাটিয়ে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। কারণ তামাক কোম্পানির প্রধান টার্গেট এই তরুণ জনগোষ্ঠী। তাই তামাক কোম্পানির এই কূটকৌশল রুখে দিতে প্রয়োজন তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা। এই প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে চলমান সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অধ্যাদেশটি আইনে পরিণতকরার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

সভাপতির বক্তব্যে নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলি বলেন, ‘তামাকের ক্ষতি কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫-এর তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে ১১ শতাংশেরও বেশি নারী মৃত্যুবরণ করে তামাকজনিত রোগে। তাই নারীস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ২০২৫ কে আইনে রূপান্তর করার জন্য আমি জোড়ালো আবেদন জানাচ্ছি।’

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরাম, তামাকবিরোধী শিক্ষক ফোরাম, তামাকবিরোধী নারী সাংবাদিক ফোরাম, তামাকবিরোধী ইয়ূথ ফোরাম এবং বিভিন্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ। উপস্থিত সকলেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইনে রূপান্তর করার জোর দাবি জানান।

Tag :
About Author Information

Alauddin Mondal

জনপ্রিয়

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইনে পরিণত হবে: এড. জয়নুল আবেদীন

error: Content is protected !!

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইনে পরিণত হবে: এড. জয়নুল আবেদীন

Update Time : ০৫:৪৩:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

নারী, শিশু ও তরুণদের তথা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইনে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংসদীয় বিশেষ কমিটির সভাপতি ও বরিশাল-৩ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব এডভোকেট জয়নুল আবেদীন। আজ সোমবার (৩০ মার্চ) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নারী মৈত্রী আয়োজিত ‘তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালী করার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি্ এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা মনে করি রাজস্বের চেয়ে মানুষের জীবনের মূল্য অনেক বেশি। এই বিবেচনা নিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে কমিটিতে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে এবং সংসদীয় বাধ্যবাধকতা মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করা হবে।’

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সের মানুষের মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার ৩৫.৩% (বিবিএস, ২০১৭), যা দক্ষিণ এশীয়ায় সর্বোচ্চ। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশে বছরে তামাকজনিত রোগে মৃত্যু হয় প্রায় ২ লাখ মানুষের, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ৫৪৬ জন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক গবেষণালব্ধ তথ্য অনুযায়ী ২০২৪-২৫ বছর তামাক খাত থেকে রাজস্ব আয় হয়েছিল প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা পক্ষান্তরে, তামাক ব্যবহারজনিত কারণে মৃত্যু, অন্যান্য স্বাস্থ্য ক্ষতি এবং পরিবেশের ক্ষতি বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রাপ্ত রাজস্বের চেয়ে ক্ষতি দ্বিগুনেরও বেশি। সুতরাং তামাকের ব্যবহার ও তামাক পণ্যের ব্যবসা জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতি- কোনোকিছুর জন্যই লাভজনক নয়। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ৩.এ এবং ৩.৪ অর্জনের জন্যও তামাক নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

বাংলাদেশ ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার Framework Convention on Tobacco Control (WHO FCTC) তে স্বাক্ষর করে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় আইনটি যুগোপযোগী করার প্রয়োজনীয়ত দেখা দিলে WHO FCTC এর আলোকে বিদ্যমান আইনকে যুগোপযোগী করতে ’ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়।

অধ্যাদেশে আনিত গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনীসমূহ হল: পরোক্ষ ধূমপান প্রত্যক্ষ ধূমপানের সমান ক্ষতিকর বিধায় পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের সুরক্ষার জন্য পাবলিক প্লেস এবং গণপরিবহণে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা; তরুণদের ধূমপানে আকৃষ্ট করা বন্ধ করার জন্য বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা এবং প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ওটিটি ও ডিজিটাল মিডিয়াসহ যেকোনো মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্যের সকল প্রকার বিজ্ঞাপন, প্রচার ও পৃষ্ঠপোষকতা নিষিদ্ধ করা। এ ছাড়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও খেলাধূলার স্থানের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা এবং তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের গায়ে বিদ্যমান ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ৭৫ শতাংশ এলাকা জুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সতর্কবাণী মুদ্রণের বিধান সংযোজন।

এই অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত হলে, অকালমৃত্যু ও স্বাস্থ্যব্যয় বহুলাংশে হ্রাস পাবে এবং কিশোর ও তরুণ সমাজ তামাকের ব্যবহার থেকে দূরে থাকবে।

তামাক বিরোধী মাদার্স ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, ’হার্ম রিডাকশন (Harm Reduction)- এর নামে তামাক কোম্পানিগুলো ই-সিগারেট, ভ্যাপ, নিকোটিন পাউচ ইত্যাদি নানা নামে নতুন নতুন নিকোটিন পণ্য বাজারজাত করছে, যা তামাক ব্যবসায়ী চক্রের এক অভিনব ব্যবসায়িক কৌশল। এই কৌশলের মাধ্যমে তারা কিশোর-তরুণদের বিভ্রান্ত করে দেশের কিশোর-তরুণদের আর এক নেশার জগতে ঠেলে দিচ্ছে। এ থেকে মুক্তি পেতে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তর করতে হবে। বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আইনী উদ্যোগ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি আইনে রূপান্তর করে এই প্রতিশ্রুতি রক্ষার দাবি জানাচ্ছি।’

তামাকবিরোধী ইয়ূথ ফোরামের সদস্য তাসফিয়া নওরিন বলেন, ’সর্বশেষ জনশুমারি (২০২২) অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৮ শতাংশই তরুণ। এই তরুণ জনগোষ্ঠীকে পাস কাটিয়ে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। কারণ তামাক কোম্পানির প্রধান টার্গেট এই তরুণ জনগোষ্ঠী। তাই তামাক কোম্পানির এই কূটকৌশল রুখে দিতে প্রয়োজন তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা। এই প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে চলমান সংসদের প্রথম অধিবেশনেই অধ্যাদেশটি আইনে পরিণতকরার জোর দাবি জানাচ্ছি।’

সভাপতির বক্তব্যে নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আকতার ডলি বলেন, ‘তামাকের ক্ষতি কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫-এর তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে ১১ শতাংশেরও বেশি নারী মৃত্যুবরণ করে তামাকজনিত রোগে। তাই নারীস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ২০২৫ কে আইনে রূপান্তর করার জন্য আমি জোড়ালো আবেদন জানাচ্ছি।’

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরাম, তামাকবিরোধী শিক্ষক ফোরাম, তামাকবিরোধী নারী সাংবাদিক ফোরাম, তামাকবিরোধী ইয়ূথ ফোরাম এবং বিভিন্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ। উপস্থিত সকলেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশকে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইনে রূপান্তর করার জোর দাবি জানান।