Dhaka ০৭:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫
  • ১৬৫ Time View

দেশব্যাপী চলমান ধর্ষণ প্রতিরোধ ও ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করে নারীসহ জনসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। পরে সেখান থেকে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী একটি মিছিল বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড হয়ে ছাত্রীহলগুলো প্রদক্ষিণ করে জোহা চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, ধর্ষকের ফাঁসি চাই’, ‘আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকের ঠাঁই নাই’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘আমার বোন ধর্ষিত কেন, ইনটিরিম জবাব চাই’, ‘গোলামি না আজাদি,আজাদি আজাদি’, ‘একটা একটা ধর্ষক ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

সমাবেশে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নাদিরা নিশা বলেন, আমরা পুরো বাংলাদেশের নারীরা আজ নিরাপদ না। আমরা যখন টিউশনি করিয়ে আসি তখন নিরাপত্তা পাই না। রিকশাওয়ালা আমাদের টিজ করে। আমরা চাই না আর এ রকম কিছু হোক। এই সোনার বাংলায় আর কোনো ধর্ষকের ঠাঁই হবে না। দেশে যারা ধর্ষক তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত সরকার তাদেরক শাস্তি দেবে।

এ সময় ধর্ষকের শাস্তি চেয়ে হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন বলেন, একটা ধর্ষক শুধু দৈহিকভাবে একটা মেয়ের ক্ষতি করে না। যে ধর্ষণ হয় সে তিলে তিলে শেষ হয়ে যায়। অনেক ধর্ষিতা বোন আছে যারা সম্মানের কথা বা পরিবারের কথা ভেবে কারো কাছে বিচার চাইতে পারে না। একজন ধর্ষিতা নারীর প্রতিটা দিন কত দূর্বিষহ যায় সেটা শুধু সেই জানে। তাই আইন উপদেষ্টাকে বলবো দ্রুত ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিত করুন নয়তো পদত্যাগ করে শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব জনগণের হাতে দিয়ে দেন। জনগণ প্রকাশ্যে তাদের শাস্তি দেবে।

এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাবির সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে এই মুহূর্তে সব থেকে বেশি জরুরি আমাদের বোনদের নিরাপত্তা। বিভিন্ন নেতারা বলছেন তারা নিরাপত্তা পাচ্ছেন না। আপনারা আগে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। রাজপথে যখন একজন নারী দাঁড়িয়ে যায়, তখন সে একশত পুরুষের সমান ভূমিকা পালন করে। স্বৈরাচারও একটা নারীর গায়ে হাত দেওয়ার আগে ১০ বার চিন্তা করে। যে কোনো দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে আমাদের বোনেরা সব সময় এ কথা মনে রাখে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Alauddin Mondal

জনপ্রিয়

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে রূপান্তরের দাবি নারী মৈত্রীর

error: Content is protected !!

ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে রাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

Update Time : ০৪:০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ মার্চ ২০২৫

দেশব্যাপী চলমান ধর্ষণ প্রতিরোধ ও ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করে নারীসহ জনসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা।

শনিবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে শিক্ষার্থীরা জড়ো হন। পরে সেখান থেকে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী একটি মিছিল বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোড হয়ে ছাত্রীহলগুলো প্রদক্ষিণ করে জোহা চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন তারা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, ধর্ষকের ফাঁসি চাই’, ‘আমার সোনার বাংলায়, ধর্ষকের ঠাঁই নাই’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘আমার বোন ধর্ষিত কেন, ইনটিরিম জবাব চাই’, ‘গোলামি না আজাদি,আজাদি আজাদি’, ‘একটা একটা ধর্ষক ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

সমাবেশে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী নাদিরা নিশা বলেন, আমরা পুরো বাংলাদেশের নারীরা আজ নিরাপদ না। আমরা যখন টিউশনি করিয়ে আসি তখন নিরাপত্তা পাই না। রিকশাওয়ালা আমাদের টিজ করে। আমরা চাই না আর এ রকম কিছু হোক। এই সোনার বাংলায় আর কোনো ধর্ষকের ঠাঁই হবে না। দেশে যারা ধর্ষক তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত সরকার তাদেরক শাস্তি দেবে।

এ সময় ধর্ষকের শাস্তি চেয়ে হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন বলেন, একটা ধর্ষক শুধু দৈহিকভাবে একটা মেয়ের ক্ষতি করে না। যে ধর্ষণ হয় সে তিলে তিলে শেষ হয়ে যায়। অনেক ধর্ষিতা বোন আছে যারা সম্মানের কথা বা পরিবারের কথা ভেবে কারো কাছে বিচার চাইতে পারে না। একজন ধর্ষিতা নারীর প্রতিটা দিন কত দূর্বিষহ যায় সেটা শুধু সেই জানে। তাই আইন উপদেষ্টাকে বলবো দ্রুত ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিত করুন নয়তো পদত্যাগ করে শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব জনগণের হাতে দিয়ে দেন। জনগণ প্রকাশ্যে তাদের শাস্তি দেবে।

এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রাবির সাবেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে এই মুহূর্তে সব থেকে বেশি জরুরি আমাদের বোনদের নিরাপত্তা। বিভিন্ন নেতারা বলছেন তারা নিরাপত্তা পাচ্ছেন না। আপনারা আগে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন। রাজপথে যখন একজন নারী দাঁড়িয়ে যায়, তখন সে একশত পুরুষের সমান ভূমিকা পালন করে। স্বৈরাচারও একটা নারীর গায়ে হাত দেওয়ার আগে ১০ বার চিন্তা করে। যে কোনো দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে আমাদের বোনেরা সব সময় এ কথা মনে রাখে।