Dhaka ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

প্রেমের বিয়ের ৭ বছর পর স্ত্রীকে হত্যা: স্বামীর স্বীকারোক্তিতে উদঘাটিত রহস্য,মাগুরার পুলিশ সুপার প্রেস ব্রিফিং

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২ Time View

প্রেমের বিয়ের ৭ বছর পর স্ত্রীকে হত্যা: স্বামীর স্বীকারোক্তিতে উদঘাটিত রহস্য,মাগুরার পুলিশ সুপার প্রেস ব্রিফিং

বিশেষ প্রতিনিধি

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় নিখোঁজের পর গৃহবধূ লিমা খাতুন (২৪)এর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বের করে এনেছে জেলা পুলিশ। প্রেম করে বিয়ের সাত বছর সংসার করার পর সুকৌশলে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী সুজন শেখকে আটক করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে।

সুজন শেখ ঝিনাইদহ জেলার হাটগোপালপুর এলাকার তিওড়দাহ কলোনীর মরজেন মিয়ার ছেলে। সাত বছর আগে শ্রীপুর উপজেলার বড় উদাস গ্রামের হাই জোয়ার্দারের মেয়ে লিমা খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) বেলা ১১টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার বড় উদাস গ্রামের একটি মাঠে ঘাসের জমিতে লিমা খাতুনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

এর আগে সোমবার লিমা খাতুন তার শাশুড়ি জাহেরা খাতুন ও দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

ঘটনার পরপরই মাগুরা জেলা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআইসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে দ্রুত সন্দেহভাজন হিসেবে স্বামী সুজন শেখকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে।

বুধবার সন্ধ্যায় মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুজন শেখ শ্বশুরবাড়ির এলাকায় গিয়ে মোবাইল ফোনে গোপনে লিমাকে বাড়ির বাইরে ডেকে নেয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে বিবস্ত্র অবস্থায় ঘাসের জমিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, এ ঘটনায় মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্য কেউ আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

Tag :
About Author Information

admin

মাগুরায় এন-৭ জাতীয় মহাসড়কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন:

error: Content is protected !!

প্রেমের বিয়ের ৭ বছর পর স্ত্রীকে হত্যা: স্বামীর স্বীকারোক্তিতে উদঘাটিত রহস্য,মাগুরার পুলিশ সুপার প্রেস ব্রিফিং

Update Time : ১১:৫৭:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

প্রেমের বিয়ের ৭ বছর পর স্ত্রীকে হত্যা: স্বামীর স্বীকারোক্তিতে উদঘাটিত রহস্য,মাগুরার পুলিশ সুপার প্রেস ব্রিফিং

বিশেষ প্রতিনিধি

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় নিখোঁজের পর গৃহবধূ লিমা খাতুন (২৪)এর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বের করে এনেছে জেলা পুলিশ। প্রেম করে বিয়ের সাত বছর সংসার করার পর সুকৌশলে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে স্বামী সুজন শেখকে আটক করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে।

সুজন শেখ ঝিনাইদহ জেলার হাটগোপালপুর এলাকার তিওড়দাহ কলোনীর মরজেন মিয়ার ছেলে। সাত বছর আগে শ্রীপুর উপজেলার বড় উদাস গ্রামের হাই জোয়ার্দারের মেয়ে লিমা খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) বেলা ১১টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার বড় উদাস গ্রামের একটি মাঠে ঘাসের জমিতে লিমা খাতুনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

এর আগে সোমবার লিমা খাতুন তার শাশুড়ি জাহেরা খাতুন ও দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

ঘটনার পরপরই মাগুরা জেলা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআইসহ একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে দ্রুত সন্দেহভাজন হিসেবে স্বামী সুজন শেখকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে।

বুধবার সন্ধ্যায় মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুজন শেখ শ্বশুরবাড়ির এলাকায় গিয়ে মোবাইল ফোনে গোপনে লিমাকে বাড়ির বাইরে ডেকে নেয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে বিবস্ত্র অবস্থায় ঘাসের জমিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার আরও জানান, এ ঘটনায় মামলার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্য কেউ আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।