Dhaka ০৩:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মহম্মদপুরে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ শূন্য—চরম ভোগান্তিতে জনসাধারণ

গত তিন সপ্তাহ ধরে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে কর্মকর্তা শূন্য থাকায় বিপাকে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন সেবা প্রত্যাশীরা। কর্মকর্তার অভাবে উপজেলায় কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। কর্মচারীরাও কাজ বিহীন সময় পার করছেন।

ডিজিটাল সেবার যুগে আইসিটি কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় জন্মনিবন্ধন ও অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন কাজে আসা মানুষ দারুণভাবে ভোগান্তিতে পড়ছেন।

প্রায় এক মাস ধরে মহম্মদপুরে ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য পড়ে আছে।

সাবেক ইউএনও শাহীনুর আক্তার সম্প্রতি যশোরের চৌগাছায় বদলি হয়ে যোগদান করেন। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ইউএনও প্রদীপ্ত রায় দীপনকে মহম্মদপুরে বদলি করা হলেও তিনি যোগদান করেননি এবং পরে বদলি আদেশ বাতিল করা হয়। এখন পর্যন্ত মহম্মদপুরে নতুন ইউএনও নিয়োগ দেয়া হয়নি।

অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শালিখা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বনী আমিনকে দায়িত্ব দেয়া হলেও তিনি নিয়মিত মহম্মদপুরে উপস্থিত থাকতে পারেন না। অনেক সপ্তাহে তিনি একদিনও আসতে পারেন না, ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

উপজেলার আরেক গুরুত্বপূর্ণ পদ সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। আগের এসিল্যান্ড বাসুদেব কুমার মালো প্রশিক্ষণে যাওয়ার পর ফেরত এলেও প্রমোশনজনিত বদলির কারণে তাকে চলে যেতে হয়। তার জায়গায় নবাগত এসিল্যান্ড মো. সাদমান আকিফ যোগদান করলেও কয়েক দিনের মধ্যেই পাঁচ মাসের প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। ফলে ভূমিসংক্রান্ত সব কাজই অচলাবস্থায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় কৃষক ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নানামুখী সমস্যা দেখা দিয়েছে।

সেবা নিতে আসা মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,”ইউএনও নেই, এসিল্যান্ড নেই—আমরা কোথায় যাব? প্রয়োজনীয় কাজগুলো দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই ভোগান্তির শেষ কোথায়? দ্রুত কর্মকর্তা পোস্টিং দিতে হবে।”

এ বিষয়ে মাগুরা জেলা প্রশাসক মো. অহিদুল ইসলাম বলেন,”বিভাগীয় কমিশনার খুলনা মহোদয় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। আমরা বারবার জানিয়েছি। আশা করছি খুব দ্রুত মহম্মদপুরে নতুন ইউএনওসহ প্রয়োজনীয় কর্মকর্তারা যোগদান করবেন।”

অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় পুরো উপজেলা প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত কর্মকর্তা নিয়োগ না পেলে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

Tag :
About Author Information

admin

জনপ্রিয়

​রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর হামলা, ২ আসামি গ্রেপ্তার

error: Content is protected !!

মহম্মদপুরে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদ শূন্য—চরম ভোগান্তিতে জনসাধারণ

Update Time : ১২:৫১:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫

গত তিন সপ্তাহ ধরে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে কর্মকর্তা শূন্য থাকায় বিপাকে পড়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন সেবা প্রত্যাশীরা। কর্মকর্তার অভাবে উপজেলায় কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। কর্মচারীরাও কাজ বিহীন সময় পার করছেন।

ডিজিটাল সেবার যুগে আইসিটি কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় জন্মনিবন্ধন ও অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন কাজে আসা মানুষ দারুণভাবে ভোগান্তিতে পড়ছেন।

প্রায় এক মাস ধরে মহম্মদপুরে ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য পড়ে আছে।

সাবেক ইউএনও শাহীনুর আক্তার সম্প্রতি যশোরের চৌগাছায় বদলি হয়ে যোগদান করেন। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ইউএনও প্রদীপ্ত রায় দীপনকে মহম্মদপুরে বদলি করা হলেও তিনি যোগদান করেননি এবং পরে বদলি আদেশ বাতিল করা হয়। এখন পর্যন্ত মহম্মদপুরে নতুন ইউএনও নিয়োগ দেয়া হয়নি।

অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শালিখা উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বনী আমিনকে দায়িত্ব দেয়া হলেও তিনি নিয়মিত মহম্মদপুরে উপস্থিত থাকতে পারেন না। অনেক সপ্তাহে তিনি একদিনও আসতে পারেন না, ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

উপজেলার আরেক গুরুত্বপূর্ণ পদ সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। আগের এসিল্যান্ড বাসুদেব কুমার মালো প্রশিক্ষণে যাওয়ার পর ফেরত এলেও প্রমোশনজনিত বদলির কারণে তাকে চলে যেতে হয়। তার জায়গায় নবাগত এসিল্যান্ড মো. সাদমান আকিফ যোগদান করলেও কয়েক দিনের মধ্যেই পাঁচ মাসের প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। ফলে ভূমিসংক্রান্ত সব কাজই অচলাবস্থায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকায় কৃষক ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নানামুখী সমস্যা দেখা দিয়েছে।

সেবা নিতে আসা মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,”ইউএনও নেই, এসিল্যান্ড নেই—আমরা কোথায় যাব? প্রয়োজনীয় কাজগুলো দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই ভোগান্তির শেষ কোথায়? দ্রুত কর্মকর্তা পোস্টিং দিতে হবে।”

এ বিষয়ে মাগুরা জেলা প্রশাসক মো. অহিদুল ইসলাম বলেন,”বিভাগীয় কমিশনার খুলনা মহোদয় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। আমরা বারবার জানিয়েছি। আশা করছি খুব দ্রুত মহম্মদপুরে নতুন ইউএনওসহ প্রয়োজনীয় কর্মকর্তারা যোগদান করবেন।”

অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় পুরো উপজেলা প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত কর্মকর্তা নিয়োগ না পেলে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।