
রাজশাহী ও এর আশপাশের কয়েকটি জেলার মানুষের নিত্যদিনের কেনাকাটার মূল ভরসা এই কেশরহাট। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মোহনপুর উপজেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী বাগমারা, তানোর, পবা, দুর্গাপুর এবং নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার মানুষ নিয়মিত এই হাটে আসেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় প্রতিদিন মুখর থাকে এই ঐতিহাসিক হাটটি।
এলাকার উর্বর মাটির কারণে উৎপাদিত টাটকা ও নিরাপদ সবজির জন্য কেশরহাটের রয়েছে বিশেষ খ্যাতি। কৃষকরা সরাসরি জমি থেকে তাজা সবজি নিয়ে আসেন এই হাটে।
সবজির পাশাপাশি মৎস্য বাণিজ্যের জন্য কেশরহাট এখন দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে। এখানকার স্থানীয় আড়তগুলোতে প্রতিদিন বিশাল পরিমাণে দেশি ও চাষের মাছের লেনদেন হয়।
বিশেষ আকর্ষণ: কেশরহাটের মাছের বাজার থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানে করে মাছ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠানো হয়। রাজশাহী অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে এই তাজা মাছগুলো চলে যায় রাজধানী ঢাকা, দক্ষিণাঞ্চল এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়।
ঐতিহ্যবাহী এই হাটটি কেবল স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও চাহিদাপূর্ণ পণ্য সরবরাহই নিশ্চিত করছে না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিকে সচল রাখতে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। কৃষকদের পরিশ্রমে উৎপাদিত ফসল এবং মৎস্যজীবীদের সংগৃহীত মাছ আজ দেশবাসীর আমিষ ও পুষ্টির চাহিদা পূরণে রাখছে অনন্য ভূমিকা।