Dhaka ০৭:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরে জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকির মধ্যে চলছে পোষ্ট অফিসের কার্যক্রম

জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকির মধ্যে চলছে কেশবপুর উপজেলা পোষ্ট অফিসের কার্যক্রম। ভবনের পিছনে পোষ্ট মাষ্টারের আবাসিক অংশ পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে অনেক আগেই।
ছাদের ভীমে ফাটল ও পলেস্ত্মরা খসে পড়া একটি কক্ষে পোষ্টমাষ্টার,পোষ্টাল অপারেটর ও পোস্টম্যানরা ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। এ অবস্থায় ভবনটির সংস্কার কিংবা পোষ্ট অফিসের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এখনকার কর্মকর্তা কর্মচারীরা।বুধবার দুপুরে পোষ্ট অফিসে গিয়ে দেখা গেছে,েেপাষ্টমাষ্টারের মাথার ওপর বৈদু্যতিক পাখার হুক ভেঙে ও পলেস্ত্মরা খসে পড়ায় ঝুলে আছে বিদু্যতের তার। জানা গেছে, ১৯৮০ সালে কেশবপুর পৌরশহরের ৪নং আলতাপোল ওয়ার্ডের উত্তর অংশে হাসপাতাল সড়ক সংলগ্ন উপজেলা পোস্ট অফিসের নতুন ভবনের উদ্বোধন হয়। কেশবপুর পৌরসভা ও সদর ইউনিয়ন ছাড়াও আশপাশের ইউনিয়নের মানুষ ওই পোস্ট অফিস থেকে সেবা নিয়ে থাকেন। তাছাড়াও প্রতিদিন ২৪টি শাখা পোষ্ট অফিসের চিঠিপত্র আদান-প্রদান ও অন্যান্য ডাকসেবার সমন্বয় করে থাকে ওই উপজেলা পোষ্ট অফিস। গত চার দশকে পোষ্ট অফিসের দুই পাশের সড়ক দু’টি পর্যায়ক্রমে উঁচু হওয়ায় ভবনটি চলে গেছে দুই থেকে আড়াই ফুট নীচে। ফলে বর্ষাকালে ভবনের চারপাশে পানি জমে স্যাতসেতে পরিবেশে আবাসিক অংশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে অনেক আগেই। সামনের জরাজীণ একটি বড় কক্ষের মধ্যে পোস্টমাস্টার,পোষ্টাল অপারেটর ও পোস্টম্যানরা কার্য পরিচালনা করেন। কÿটির ছাদের পলেস্ত্মারা খসে পড়ছে ও ভীমে ফাটল ধরেছে বেশ আগে। ফলে বৈদু্যতিক পাখা ৩টি খুলে রাখা হয়েছে। ষ্টাফরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই জরাজীর্ণ কÿে মানুষের ডাকসেবা দিয়ে আসছেন। যে কোনো মুহূর্তে ছাদের পলেস্ত্মরা খসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। পাশে ছোট একটি কÿে পোষ্ট ই-সেন্টারে কম্পিউটারের প্রশিÿণ চলে সারা বছর। কিন্তু ভবনের ভেতরে বা বাইরে প্রশিÿনার্থী ও সেবা প্রহত্যাশীদের মলমূত্র ত্যাগ করার কোনো ব্যবস্থা নেই।দায়িত্ব প্রাপ্ত পোষ্টাল অপারেটর পলাশ কুমার আইচ বলেন, গত বছর ছাদের পলেস্ত্মরা ও পোষ্টমাষ্টারের মাথার ওপরের বৈদু্যতিক ফ্যানটি হুকসহ খসে পড়ায় তিনি অল্পের জন্য জীবনে রÿা পান। যে কারণে অন্য ৩টি বৈদু্যতিক ফ্যানও খুলে রাখা হয়েছে। অন্যান্য ডাক সেবা ছাড়াও শুধু সঞ্চয় পত্র সংক্রান্ত্ম কাজে আসা ব্যক্তিদের প্রতিদিন কিছু সময় অপেÿা করতে হয়। গরমের মধ্যে ফ্যান ছাড়া প্রতিদিন কিভাবে কাজ চলবে সেই চিন্ত্মায় পড়েছি।পোস্টমাস্টার রবিউল হক রয়েল বলেন,বর্তমান এ পোষ্ট অফিসে জনবল সংকট আর ফাটল ধরা ভবনে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।ভবনের ভেতরে ভালো কোন ওয়াশরম্নম নেই। পরিচিতজনরা ওয়াশ রম্নমের কথা বললে লজ্জায় পড়তে হয়। ষ্টাফরা নানান সংকটের মধ্যে প্রতিদিন আসে আর কাজ সেরে চলে যাই। পথচারীরা ভবনের পাশে মলমূত্র ত্যাগ করে। তা ছাড়া বৃষ্টির পানি জমে স্যাতস্যেতে পরিবেশে গুরম্নত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যায়। খুব সাবধানে ও কষ্ট করে এগুলো সংরক্ষণ করে রাখা হচ্ছে। যশোর বিভাগের ডেপুটী পোষ্টমাষ্টার জেনালের (ডিপিএমজি) মিরাজুল হক জানান, কেশবপুর উপজেলা পোষ্ট অফিসের ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় নতুন ভবনের জন্য প্রস্ত্মাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি নতুন ভবনের বরাদ্দ আসবে বলে আশা করা যায়।

Tag :
About Author Information

admin

জনপ্রিয়

বাগমারায় দিন দুপুরে রাস্তায় ধরে ছিনতাই এর অভিযোগ

error: Content is protected !!

কেশবপুরে জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকির মধ্যে চলছে পোষ্ট অফিসের কার্যক্রম

Update Time : ১১:৩০:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ মার্চ ২০২২

জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকির মধ্যে চলছে কেশবপুর উপজেলা পোষ্ট অফিসের কার্যক্রম। ভবনের পিছনে পোষ্ট মাষ্টারের আবাসিক অংশ পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে অনেক আগেই।
ছাদের ভীমে ফাটল ও পলেস্ত্মরা খসে পড়া একটি কক্ষে পোষ্টমাষ্টার,পোষ্টাল অপারেটর ও পোস্টম্যানরা ঝুঁকির মধ্যে কাজ করছেন। এ অবস্থায় ভবনটির সংস্কার কিংবা পোষ্ট অফিসের জন্য নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এখনকার কর্মকর্তা কর্মচারীরা।বুধবার দুপুরে পোষ্ট অফিসে গিয়ে দেখা গেছে,েেপাষ্টমাষ্টারের মাথার ওপর বৈদু্যতিক পাখার হুক ভেঙে ও পলেস্ত্মরা খসে পড়ায় ঝুলে আছে বিদু্যতের তার। জানা গেছে, ১৯৮০ সালে কেশবপুর পৌরশহরের ৪নং আলতাপোল ওয়ার্ডের উত্তর অংশে হাসপাতাল সড়ক সংলগ্ন উপজেলা পোস্ট অফিসের নতুন ভবনের উদ্বোধন হয়। কেশবপুর পৌরসভা ও সদর ইউনিয়ন ছাড়াও আশপাশের ইউনিয়নের মানুষ ওই পোস্ট অফিস থেকে সেবা নিয়ে থাকেন। তাছাড়াও প্রতিদিন ২৪টি শাখা পোষ্ট অফিসের চিঠিপত্র আদান-প্রদান ও অন্যান্য ডাকসেবার সমন্বয় করে থাকে ওই উপজেলা পোষ্ট অফিস। গত চার দশকে পোষ্ট অফিসের দুই পাশের সড়ক দু’টি পর্যায়ক্রমে উঁচু হওয়ায় ভবনটি চলে গেছে দুই থেকে আড়াই ফুট নীচে। ফলে বর্ষাকালে ভবনের চারপাশে পানি জমে স্যাতসেতে পরিবেশে আবাসিক অংশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে অনেক আগেই। সামনের জরাজীণ একটি বড় কক্ষের মধ্যে পোস্টমাস্টার,পোষ্টাল অপারেটর ও পোস্টম্যানরা কার্য পরিচালনা করেন। কÿটির ছাদের পলেস্ত্মারা খসে পড়ছে ও ভীমে ফাটল ধরেছে বেশ আগে। ফলে বৈদু্যতিক পাখা ৩টি খুলে রাখা হয়েছে। ষ্টাফরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই জরাজীর্ণ কÿে মানুষের ডাকসেবা দিয়ে আসছেন। যে কোনো মুহূর্তে ছাদের পলেস্ত্মরা খসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন অনেকেই। পাশে ছোট একটি কÿে পোষ্ট ই-সেন্টারে কম্পিউটারের প্রশিÿণ চলে সারা বছর। কিন্তু ভবনের ভেতরে বা বাইরে প্রশিÿনার্থী ও সেবা প্রহত্যাশীদের মলমূত্র ত্যাগ করার কোনো ব্যবস্থা নেই।দায়িত্ব প্রাপ্ত পোষ্টাল অপারেটর পলাশ কুমার আইচ বলেন, গত বছর ছাদের পলেস্ত্মরা ও পোষ্টমাষ্টারের মাথার ওপরের বৈদু্যতিক ফ্যানটি হুকসহ খসে পড়ায় তিনি অল্পের জন্য জীবনে রÿা পান। যে কারণে অন্য ৩টি বৈদু্যতিক ফ্যানও খুলে রাখা হয়েছে। অন্যান্য ডাক সেবা ছাড়াও শুধু সঞ্চয় পত্র সংক্রান্ত্ম কাজে আসা ব্যক্তিদের প্রতিদিন কিছু সময় অপেÿা করতে হয়। গরমের মধ্যে ফ্যান ছাড়া প্রতিদিন কিভাবে কাজ চলবে সেই চিন্ত্মায় পড়েছি।পোস্টমাস্টার রবিউল হক রয়েল বলেন,বর্তমান এ পোষ্ট অফিসে জনবল সংকট আর ফাটল ধরা ভবনে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।ভবনের ভেতরে ভালো কোন ওয়াশরম্নম নেই। পরিচিতজনরা ওয়াশ রম্নমের কথা বললে লজ্জায় পড়তে হয়। ষ্টাফরা নানান সংকটের মধ্যে প্রতিদিন আসে আর কাজ সেরে চলে যাই। পথচারীরা ভবনের পাশে মলমূত্র ত্যাগ করে। তা ছাড়া বৃষ্টির পানি জমে স্যাতস্যেতে পরিবেশে গুরম্নত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট হয়ে যায়। খুব সাবধানে ও কষ্ট করে এগুলো সংরক্ষণ করে রাখা হচ্ছে। যশোর বিভাগের ডেপুটী পোষ্টমাষ্টার জেনালের (ডিপিএমজি) মিরাজুল হক জানান, কেশবপুর উপজেলা পোষ্ট অফিসের ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় নতুন ভবনের জন্য প্রস্ত্মাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি নতুন ভবনের বরাদ্দ আসবে বলে আশা করা যায়।