
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার যোগীপাড়া ইউনিয়নের কাতিলা গ্রামের একটি সাধারণ বাড়ি এখন পুরো এলাকার কৌতুহলের কেন্দ্রে। সেই বাড়ির ছাদে সবুজের ছোঁয়া আর লতা-পাতার মাঝে ঝুলছে গাঢ় গোলাপি রঙের ড্রাগন ফল। বাড়ির তিন নারী—মাধুরী, মনিকা ও শিলা—একসঙ্গে মিলে গড়ে তুলেছেন এই দৃষ্টিনন্দন ও লাভজনক ছাদবাগান, যা এখন স্থানীয়দের জন্য অনুপ্রেরণার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
কয়েক বছর আগে শখের বশেই বাড়ির ছাদে কয়েকটি ড্রাগন ফলের চারা রোপণ করেছিলেন তারা। শুরুতে তেমন বাণিজ্যিক চিন্তা না থাকলেও, তিনজনের সঠিক পরিচর্যা ও নিবিড় তদারকিতে অল্প সময়ের মধ্যেই গাছগুলোতে ফল আসতে শুরু করে। বাগমারা উপজেলার যোগীপাড়া ইউনিয়নের গ্রামীণ পরিবেশে নিজেদের বাড়ির অব্যবহৃত ছাদকে এমন ফলবান উদ্যানে রূপান্তর করার এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। তবে তাদের অদম্য ইচ্ছা ও পরিচর্যার ফলে আজ সেই ছাদে শোভা পাচ্ছে পুষ্টিগুণে ভরা তাজা ড্রাগন ফল।
মাধুরী, মনিকা ও শিলা জানান, ড্রাগন ফল চাষে রাসায়নিক সারের বদলে তারা মূলত জৈব সার ব্যবহার করেন। ছাদে সঠিক সেচ ব্যবস্থা ও রোদ-বাতাসের খেয়াল রেখে তারা এই সাফল্য পেয়েছেন। বর্তমান মৌসুমে তাদের ছাদবাগানের গাছে থোকায় থোকায় ড্রাগন ফল ধরেছে। নিজেদের পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি প্রতিবেশি ও আত্মীয়স্বজনদের মাঝেও তারা এই ফল বিতরণ করছেন।
তাদের এই উদ্যোগ দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন আশপাশের অন্যান্য গৃহিণীরাও। যোগীপাড়া ইউনিয়নের কাতিলা এলাকার অনেকে এখন তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নিজেদের ছাদে ও আঙ্গিনায় ছোট আকারে ড্রাগন চাষের উদ্যোগ নিচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষি অনুরাগীদের মতে, গ্রামীণ এলাকায় মাধুরী, মনিকা ও শিলাদের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে—সদিচ্ছা ও সঠিক পরিচর্যা থাকলে বাড়ির ছোট ছাদকেও একটি সম্ভাবনাময় সবুজ উদ্যানে রূপান্তর করা সম্ভব। তাদের এই রঙিন ড্রাগন ফলের গল্প এখন পুরো বাগমারা উপজেলার ঘরে ঘরে এক সফলতার প্রতীক হয়ে উঠেছে।