Dhaka ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বন্দিরা নিরাপদ নয় রাজশাহী কারাগারে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:০৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ মার্চ ২০২৫
  • ১৮৫ Time View

প্রতিটি দেয়ালে বড় অক্ষরে লিখা রয়েছে “রাখিবো নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ”। এটি অবশ্য বাংলাদেশ জেল এর মটো বা স্লোগান। অথচ প্রতিটি ধাপে ধাপে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা আর অনিয়মের জালে ঘেরা। এতে নিষ্পেষিত হচ্ছে বন্দীদের জীবন। শুধু তাই নয়, এসকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলেই তার উপর শুরু হয় নানা নির্যাতন, আর গুনতে হয় নগদ অর্থসহ প্যাকেট প্যাকেট সিগারেট। আবার যেকোন বড় ধরনের অপরাধও সমাধান হয় সামান্য বেনসন সিগারেটের প্যাকেট দিয়ে। সেখানে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, পুরো কারাগার জুড়ে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। অর্থাৎ হাত বাড়ালেই অনায়াসে মিলছে গাঁজা, ইয়াবা, ঘুমের বড়িসহ হেরোইনের মত মারাত্মক নেশা। শুধু তাই নয়, কারাগারের ফোন ব্যবহার করেই সেখানে বসেই চালিয়ে যাচ্ছেন মাদকের (হেরোইন) ব্যবসা। এ যেন মাদক ব্যবসার নিরাপদ স্থান। বন্দীরা সপ্তাহের একদিন পরিবারের সাথে কথা বলার সুযোগ পাই। অথচ মাদককারবারিরা প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলেন। আর এর বিনিময়ে দিতে হয় হাজার হাজার টাকা। সেখানে একজন কয়েদির (বন্দী) সাথে কথা বললে সে জানাই, এখানে ৩০ মিনিটির বিনিময়ে ১ হাজার টাকা দিতে হয়। আর এভাবে এখানে বসে নিরাপদে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে শুধু মাদক ব্যবসায়ী নয়, এই মোবাইল সুবিধা পাই অর্থবিত্ত প্রভাবশালীরাও। গত ৫ আগষ্টের পর এখানে কয়েকজন এমপি রয়েছে। মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের হাতে দেয়া হয়েছে স্মার্ট ফোন। যা অত্যন্ত গোপন। অথচ সাধারণ বন্দিরা ঘন্টার পর ঘন্টা সিরিয়াল দিয়েও কথা বলতে পারেনা। তবে এমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে প্রতিবেদনের বর্ণনাকারি সাংবাদিকও। এরকম ঘটনার অসংখ্য নজির মিলেছে রাজশাহী কারাগারে। এমন দৃশ্য রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের যেন নিত্যনৈমিত্য ব্যাপার। এসকল দৃশ্য দেখে বোঝার উপাই নাই, এগুলো নিয়ম নাকি অনিয়ম? রাজশাহী কারাগারের মুল ফটকের সামনে দাঁড়ালেই এমন ঘটনার বর্ণনা শুনবেন জামিনে মুক্তি পাওয়া প্রতিটি বন্দীদের মুখে।

গত ৯ জানুয়ারি মিথ্যা রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে যেতে হয় দৈনিক গণমুক্তি পত্রিকার রাজশাহী ব্যুরো প্রধান মাজহারুল ইসলাম চপলকে। সেখানে প্রবেশের পর প্রতিটি পদে পদে হয়রানীর শিকার হতে হয় সেই সাংবাদিককেও। কারা প্রশাসানের এমন কার্যক্রমে বোঝার উপায় নাই কোনটি নিয়ম আর কোনটি অনিয়ম!
সেখানে (কারাগারে) নগদ টাকা নিয়ে প্রবেশ নিষেধ। অথচ সেখানে নগদ টাকার লেনদেন চলে গোপনে। সেখানে নগদ এক হাজার টাকা দিলে মিলবে দেড় হাজার টাকার বাজার। এমন সিন্ডকেটের লোকজন আপনার কানে কানে লোভনীয় অফার করছে। বন্দীর পরিবার বাইরে (বাইরে অবস্থানরত কারা ক্যান্টিন) থেকে টাকা পাঠালে সেই পাওয়া যায় ৩ দিন পর। অর্থাৎ সেই টাকা তিন দিন আটকে রেখে কারা কর্তৃপক্ষ ব্যবসা করেন। যা রীতিমত গোদের উপর বিষপোঁড়া। সেখানকার খাবারের মান এতটাই নিম্নমানের যা মুখে প্রকাশ করা যাবেনা। তাই দ্বিগুন দাম দিয়ে বন্দীদের বাধ্য করা হয় তাদের নিজস্ব ক্যান্টিন থেকে কিনে খেতে। অর্থাৎ এগুলো কারা কর্তৃপক্ষের কৌশল ছাড়া কিছুই না। আর এতেই প্রতিমাসে কারাগার লাভ করেন প্রায় কোটি টাকা। কেউ প্রতিবাদ করলেই তার উপর চালানো হয় নির্যাতন। আবার কাউকে ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে ব্যাপক টর্চার করা হয় সেখানে। এমন এক সাক্ষি নাইম। নাইমের বাড়ি বাগমারা উপজেলার সিকাদারি এলাকায়। সে রাজশাহী শহরের একটি বাসায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতো। গত বছরের নভেম্বরে একটি ধর্ষন চেষ্টার মামলা নিয়ে কারাগারে যায়। তাকে কারাগারের সবচেয়ে খারাপ সেল খ্যাত ৬ নং সেলের ১ নং কক্ষে রাখা হয়। এরপর তাকে সকলের সামনে উলঙ্গ করে লাঠিপেটা করা হয়। এই লাঠি পেটার সাথে জড়িত ছিলেন সেখানে দ্বায়িত্বরত কারারক্ষিরা।
এরপর আরেকজন হলেন ওমর কিসকু। সে গোদাগাড়ী উপজেলার শিমলা (দিঘীপাড়া) এলাকার সাহেব কিসকু এর ছেলে। এই ওমর কিসকুকে মানষিক নির্যাতনের ফলে সেলের ভেতরেই আত্মহত্যা করতে বাধ্য করানো হয়। এব্যাপারে কিসকু’র বোন পাপিয়া কিসকুর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমাদেরকে বলা হয়েছে আমার ভাই অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। আমরা এখনও সেটাই জানি। তার ভাই ওমর কিসকু খুব ছোট বয়সে একটি হত্যা মামলার দায় নিয়ে রাজশাহী কারাগারে যায়। তবে করোনা কালীন (করোনা ভাইরাস) সময় আমার ভাই একবার জেল থেকে পালিয়েছিল। অবশ্য কয়েক ঘন্টা পর তাকে আবার কারাগারে যেতে হয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, ঐ ঘটনার পর আমার ভাইকে একাই কনডেম সেলের (৬ সেলের ৪ নং কক্ষ) একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ ৪-৫ বছর পর বর্তমান জেলার সাহেব তার কাজকর্ম বন্ধ করে দিয়েছে। এর চেয়ে আর বেশি কিছু জানা নাই। তবে তার সাথে দেখা করতে গেলে ভাইয়ের মুখে শুনতাম, তার সামনে অনেক জনকে বেধড়ক পিটানো হতো। এতে সে চরমভাবে আতঙ্কিত ছিল। আমার ভাই যদি সত্যিই এমনটা করে থাকে তাহলে আমি মনে করি, আমার ভাইকে কারা কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে। এরপর ঐ সেলের আশেপাশের বন্দীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে ভিন্ন কথা। তারা বলছে কিসকু খুব হাসি-খুশি মনের ছিল। সে কারাগারের ভিতরে বিভিন্ন কাজ করত। এছাড়া তার কক্ষে টিভি, ফ্যানও ছিল। তার কোন সমস্যা হতো না। কিন্তু হঠাৎ তাকে বর্তমান জেলার কাজ বন্ধ করে দেয় এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ দেয়। এরপর তাকে বেশ আতঙ্কিত থাকতে দেখেছি। অবশেষে গত বছরের নভেম্বরের ২৬ তারিখে কিসকুর মরদেহ বের করে কারা কর্তৃপক্ষ। এরপর প্রতিবেদক সরেজমিনে যে দুর্নীতিগুলো দেখতে পান তা হলো: ১. কারা ক্যান্টিন থেকে একটি পণ্য কিনতে হলে চার জায়গায় লাইন ধরতে হয়। এতে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় যায়। এছাড়াও প্রতিটি পণ্যের মূল্য দ্বিগুন। সেখানে সিগারেট বিড়ি বিক্রি হলেও ম্যাচ ও গ্যাসলাইট বিক্রি ও বন্দীদের কাছে রাখা নিষিদ্ধ। সেখানে পেঁয়াজ, মরিচ, শশা-টমেটোসহ কাঁচা সবজি বিক্রি হলেও কাটার জন্য লোহাজাত দ্রব্য বিক্রি ও বন্দীদের কাছে রাখা নিষিদ্ধ। শুধু তাই নয়, তাদের ব্যবসার স্বার্থে বাইরের সকল কিছু প্রবেশ নিষিদ্ধ। এছাড়াও সেখানকার মেডিকেল ব্যবসা যেন বাম্পার। টাকা হলেই জায়গা মিলবে মেডিকেলের বেডে। এর জন্য বন্দীদের গুনতে হয় প্রথম মাসে দশ হাজার আর পরবর্তী মাস

Tag :
About Author Information

Alauddin Mondal

জনপ্রিয়

সাংবাদিক নেতার ওপর হামলা, রাতেই হাসপাতালে ছুটে গেলেন যুবদল নেতা রবি

error: Content is protected !!

বন্দিরা নিরাপদ নয় রাজশাহী কারাগারে

Update Time : ০৫:০৭:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ মার্চ ২০২৫

প্রতিটি দেয়ালে বড় অক্ষরে লিখা রয়েছে “রাখিবো নিরাপদ, দেখাবো আলোর পথ”। এটি অবশ্য বাংলাদেশ জেল এর মটো বা স্লোগান। অথচ প্রতিটি ধাপে ধাপে দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা আর অনিয়মের জালে ঘেরা। এতে নিষ্পেষিত হচ্ছে বন্দীদের জীবন। শুধু তাই নয়, এসকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলেই তার উপর শুরু হয় নানা নির্যাতন, আর গুনতে হয় নগদ অর্থসহ প্যাকেট প্যাকেট সিগারেট। আবার যেকোন বড় ধরনের অপরাধও সমাধান হয় সামান্য বেনসন সিগারেটের প্যাকেট দিয়ে। সেখানে সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, পুরো কারাগার জুড়ে চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। অর্থাৎ হাত বাড়ালেই অনায়াসে মিলছে গাঁজা, ইয়াবা, ঘুমের বড়িসহ হেরোইনের মত মারাত্মক নেশা। শুধু তাই নয়, কারাগারের ফোন ব্যবহার করেই সেখানে বসেই চালিয়ে যাচ্ছেন মাদকের (হেরোইন) ব্যবসা। এ যেন মাদক ব্যবসার নিরাপদ স্থান। বন্দীরা সপ্তাহের একদিন পরিবারের সাথে কথা বলার সুযোগ পাই। অথচ মাদককারবারিরা প্রতিদিন ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলেন। আর এর বিনিময়ে দিতে হয় হাজার হাজার টাকা। সেখানে একজন কয়েদির (বন্দী) সাথে কথা বললে সে জানাই, এখানে ৩০ মিনিটির বিনিময়ে ১ হাজার টাকা দিতে হয়। আর এভাবে এখানে বসে নিরাপদে মাদকের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে শুধু মাদক ব্যবসায়ী নয়, এই মোবাইল সুবিধা পাই অর্থবিত্ত প্রভাবশালীরাও। গত ৫ আগষ্টের পর এখানে কয়েকজন এমপি রয়েছে। মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদের হাতে দেয়া হয়েছে স্মার্ট ফোন। যা অত্যন্ত গোপন। অথচ সাধারণ বন্দিরা ঘন্টার পর ঘন্টা সিরিয়াল দিয়েও কথা বলতে পারেনা। তবে এমন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে প্রতিবেদনের বর্ণনাকারি সাংবাদিকও। এরকম ঘটনার অসংখ্য নজির মিলেছে রাজশাহী কারাগারে। এমন দৃশ্য রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের যেন নিত্যনৈমিত্য ব্যাপার। এসকল দৃশ্য দেখে বোঝার উপাই নাই, এগুলো নিয়ম নাকি অনিয়ম? রাজশাহী কারাগারের মুল ফটকের সামনে দাঁড়ালেই এমন ঘটনার বর্ণনা শুনবেন জামিনে মুক্তি পাওয়া প্রতিটি বন্দীদের মুখে।

গত ৯ জানুয়ারি মিথ্যা রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে যেতে হয় দৈনিক গণমুক্তি পত্রিকার রাজশাহী ব্যুরো প্রধান মাজহারুল ইসলাম চপলকে। সেখানে প্রবেশের পর প্রতিটি পদে পদে হয়রানীর শিকার হতে হয় সেই সাংবাদিককেও। কারা প্রশাসানের এমন কার্যক্রমে বোঝার উপায় নাই কোনটি নিয়ম আর কোনটি অনিয়ম!
সেখানে (কারাগারে) নগদ টাকা নিয়ে প্রবেশ নিষেধ। অথচ সেখানে নগদ টাকার লেনদেন চলে গোপনে। সেখানে নগদ এক হাজার টাকা দিলে মিলবে দেড় হাজার টাকার বাজার। এমন সিন্ডকেটের লোকজন আপনার কানে কানে লোভনীয় অফার করছে। বন্দীর পরিবার বাইরে (বাইরে অবস্থানরত কারা ক্যান্টিন) থেকে টাকা পাঠালে সেই পাওয়া যায় ৩ দিন পর। অর্থাৎ সেই টাকা তিন দিন আটকে রেখে কারা কর্তৃপক্ষ ব্যবসা করেন। যা রীতিমত গোদের উপর বিষপোঁড়া। সেখানকার খাবারের মান এতটাই নিম্নমানের যা মুখে প্রকাশ করা যাবেনা। তাই দ্বিগুন দাম দিয়ে বন্দীদের বাধ্য করা হয় তাদের নিজস্ব ক্যান্টিন থেকে কিনে খেতে। অর্থাৎ এগুলো কারা কর্তৃপক্ষের কৌশল ছাড়া কিছুই না। আর এতেই প্রতিমাসে কারাগার লাভ করেন প্রায় কোটি টাকা। কেউ প্রতিবাদ করলেই তার উপর চালানো হয় নির্যাতন। আবার কাউকে ব্যক্তিগত শত্রুতার জের ধরে ব্যাপক টর্চার করা হয় সেখানে। এমন এক সাক্ষি নাইম। নাইমের বাড়ি বাগমারা উপজেলার সিকাদারি এলাকায়। সে রাজশাহী শহরের একটি বাসায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতো। গত বছরের নভেম্বরে একটি ধর্ষন চেষ্টার মামলা নিয়ে কারাগারে যায়। তাকে কারাগারের সবচেয়ে খারাপ সেল খ্যাত ৬ নং সেলের ১ নং কক্ষে রাখা হয়। এরপর তাকে সকলের সামনে উলঙ্গ করে লাঠিপেটা করা হয়। এই লাঠি পেটার সাথে জড়িত ছিলেন সেখানে দ্বায়িত্বরত কারারক্ষিরা।
এরপর আরেকজন হলেন ওমর কিসকু। সে গোদাগাড়ী উপজেলার শিমলা (দিঘীপাড়া) এলাকার সাহেব কিসকু এর ছেলে। এই ওমর কিসকুকে মানষিক নির্যাতনের ফলে সেলের ভেতরেই আত্মহত্যা করতে বাধ্য করানো হয়। এব্যাপারে কিসকু’র বোন পাপিয়া কিসকুর সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমাদেরকে বলা হয়েছে আমার ভাই অসুস্থ হয়ে মারা গেছে। আমরা এখনও সেটাই জানি। তার ভাই ওমর কিসকু খুব ছোট বয়সে একটি হত্যা মামলার দায় নিয়ে রাজশাহী কারাগারে যায়। তবে করোনা কালীন (করোনা ভাইরাস) সময় আমার ভাই একবার জেল থেকে পালিয়েছিল। অবশ্য কয়েক ঘন্টা পর তাকে আবার কারাগারে যেতে হয়েছে। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, ঐ ঘটনার পর আমার ভাইকে একাই কনডেম সেলের (৬ সেলের ৪ নং কক্ষ) একটি কক্ষে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ ৪-৫ বছর পর বর্তমান জেলার সাহেব তার কাজকর্ম বন্ধ করে দিয়েছে। এর চেয়ে আর বেশি কিছু জানা নাই। তবে তার সাথে দেখা করতে গেলে ভাইয়ের মুখে শুনতাম, তার সামনে অনেক জনকে বেধড়ক পিটানো হতো। এতে সে চরমভাবে আতঙ্কিত ছিল। আমার ভাই যদি সত্যিই এমনটা করে থাকে তাহলে আমি মনে করি, আমার ভাইকে কারা কর্তৃপক্ষ পরিকল্পিতভাবে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে। এরপর ঐ সেলের আশেপাশের বন্দীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে ভিন্ন কথা। তারা বলছে কিসকু খুব হাসি-খুশি মনের ছিল। সে কারাগারের ভিতরে বিভিন্ন কাজ করত। এছাড়া তার কক্ষে টিভি, ফ্যানও ছিল। তার কোন সমস্যা হতো না। কিন্তু হঠাৎ তাকে বর্তমান জেলার কাজ বন্ধ করে দেয় এবং মোবাইল ফোন ব্যবহারের অভিযোগ দেয়। এরপর তাকে বেশ আতঙ্কিত থাকতে দেখেছি। অবশেষে গত বছরের নভেম্বরের ২৬ তারিখে কিসকুর মরদেহ বের করে কারা কর্তৃপক্ষ। এরপর প্রতিবেদক সরেজমিনে যে দুর্নীতিগুলো দেখতে পান তা হলো: ১. কারা ক্যান্টিন থেকে একটি পণ্য কিনতে হলে চার জায়গায় লাইন ধরতে হয়। এতে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় যায়। এছাড়াও প্রতিটি পণ্যের মূল্য দ্বিগুন। সেখানে সিগারেট বিড়ি বিক্রি হলেও ম্যাচ ও গ্যাসলাইট বিক্রি ও বন্দীদের কাছে রাখা নিষিদ্ধ। সেখানে পেঁয়াজ, মরিচ, শশা-টমেটোসহ কাঁচা সবজি বিক্রি হলেও কাটার জন্য লোহাজাত দ্রব্য বিক্রি ও বন্দীদের কাছে রাখা নিষিদ্ধ। শুধু তাই নয়, তাদের ব্যবসার স্বার্থে বাইরের সকল কিছু প্রবেশ নিষিদ্ধ। এছাড়াও সেখানকার মেডিকেল ব্যবসা যেন বাম্পার। টাকা হলেই জায়গা মিলবে মেডিকেলের বেডে। এর জন্য বন্দীদের গুনতে হয় প্রথম মাসে দশ হাজার আর পরবর্তী মাস