Dhaka ০৫:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মই নিয়ম: সরকারি ঔষধ গায়েব, চিকিৎসায় ভরসা ‘ড্রেসার’

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলামের একক নিয়ন্ত্রণে চলছে অফিসের যাবতীয় কার্যক্রম। সরকারি বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে নিজস্ব নিয়মে দপ্তর পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সময়মতো অফিসে না আসা, সরকারি ঔষধ ও ভ্যাকসিন গোপনে বিক্রি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে ড্রেসার দিয়ে পশুর চিকিৎসা করানোর মতো গুরুতর অনিয়মে অতিষ্ঠ স্থানীয় খামারি ও সাধারণ মানুষ।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টায় অফিস শুরুর কথা থাকলেও ভেটেরিনারি সার্জন শরিফুল ইসলাম অফিসে আসেন বেলা ১১টার পর। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রশ্রয়েই তিনি এই স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ডাক্তার পাওয়া যায় না। অথচ অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ফিল্ড ভিজিটের অজুহাত দিয়ে দায় সারেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভ্যাকসিন ও ঔষধ গোপনে বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এই চক্রের মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন রাকিব হাসান নামে এক পল্লী চিকিৎসক (পি-আই লাইসেন্সধারী)। সম্প্রতি হাসপাতাল চত্বরে সরকারি ওষুধসহ তাকে হাতেনাতে ধরা হলেও তিনি মালামাল ফেলে পালিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, ডা. আমিনুল ইসলামের সরাসরি যোগসাজশেই এই কালোবাজারি চলছে। হাসপাতালে আসা রোগীরা জানান, তাদের শুধু প্রেসক্রিপশন লিখে দেওয়া হয় এবং বাইরে থেকে চড়া দামে ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হয়।

ভেটেরিনারি সার্জনের অনুপস্থিতিতে হাসপাতালের ত্রাতা হয়ে ওঠেন ড্রেসার রনি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না হয়েও তিনি অবৈধভাবে গবাদিপশুকে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকসহ ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা প্রদান করছেন। ড্রেসারের লেখা প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার প্রমাণ এখন সংবাদকর্মীদের হাতে। একজন ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, “একজন ড্রেসার যদি ডাক্তারের কাজ করেন, তবে আমাদের পশুর জীবন তো ঝুঁকিতে থাকবেই। আমরা সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।”

দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে ১১ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন। এই জনবল সংকটকে পুঁজি করে অনিয়ম আরও জেঁকে বসেছে। এসব বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

বাঘার প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে এবং খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় এই দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Tag :
About Author Information

Alauddin Mondal

জনপ্রিয়

রামেক হাসপাতালকে ‘ফ্যাসিস্ট ও সিন্ডিকেট মুক্ত’ করার দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন

error: Content is protected !!

বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মই নিয়ম: সরকারি ঔষধ গায়েব, চিকিৎসায় ভরসা ‘ড্রেসার’

Update Time : ০৩:৪৭:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহীর বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলামের একক নিয়ন্ত্রণে চলছে অফিসের যাবতীয় কার্যক্রম। সরকারি বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে নিজস্ব নিয়মে দপ্তর পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সময়মতো অফিসে না আসা, সরকারি ঔষধ ও ভ্যাকসিন গোপনে বিক্রি এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে ড্রেসার দিয়ে পশুর চিকিৎসা করানোর মতো গুরুতর অনিয়মে অতিষ্ঠ স্থানীয় খামারি ও সাধারণ মানুষ।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টায় অফিস শুরুর কথা থাকলেও ভেটেরিনারি সার্জন শরিফুল ইসলাম অফিসে আসেন বেলা ১১টার পর। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার প্রশ্রয়েই তিনি এই স্বেচ্ছাচারিতা চালিয়ে যাচ্ছেন। সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ডাক্তার পাওয়া যায় না। অথচ অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে ফিল্ড ভিজিটের অজুহাত দিয়ে দায় সারেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভ্যাকসিন ও ঔষধ গোপনে বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এই চক্রের মূল সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন রাকিব হাসান নামে এক পল্লী চিকিৎসক (পি-আই লাইসেন্সধারী)। সম্প্রতি হাসপাতাল চত্বরে সরকারি ওষুধসহ তাকে হাতেনাতে ধরা হলেও তিনি মালামাল ফেলে পালিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, ডা. আমিনুল ইসলামের সরাসরি যোগসাজশেই এই কালোবাজারি চলছে। হাসপাতালে আসা রোগীরা জানান, তাদের শুধু প্রেসক্রিপশন লিখে দেওয়া হয় এবং বাইরে থেকে চড়া দামে ওষুধ কিনতে বাধ্য করা হয়।

ভেটেরিনারি সার্জনের অনুপস্থিতিতে হাসপাতালের ত্রাতা হয়ে ওঠেন ড্রেসার রনি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না হয়েও তিনি অবৈধভাবে গবাদিপশুকে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিকসহ ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা প্রদান করছেন। ড্রেসারের লেখা প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসার প্রমাণ এখন সংবাদকর্মীদের হাতে। একজন ভুক্তভোগী আক্ষেপ করে বলেন, “একজন ড্রেসার যদি ডাক্তারের কাজ করেন, তবে আমাদের পশুর জীবন তো ঝুঁকিতে থাকবেই। আমরা সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।”

দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাঘা উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে ১১ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৬ জন। এই জনবল সংকটকে পুঁজি করে অনিয়ম আরও জেঁকে বসেছে। এসব বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

বাঘার প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে এবং খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় এই দুর্নীতিবাজ চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।