
১২ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হলো ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ঐতিহাসিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। স্বাধীনতার পর এমন ইতিহাস সৃষ্টিকারী নির্বাচন আর কখনো বাঙ্গালী জাতি দেখেননি। নির্বাচন মানেই হামলা, খুন রাহাজানি, সংঘর্ষ। কিন্তু এবারই প্রথম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংঘর্ষহীনভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে। যা সারা বিশ্বের কাছে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচনের পর আলোচনা শুরু হয়েছে কারা এবার মন্ত্রী পরিষদে স্থান পাচ্ছেন। সেই আলোচনার মধ্যে এবার রাজশাহীর নাম আসছে বারবার। প্রতিমন্ত্রী পেলেও দীর্ঘদিন রাজশাহীবাসি মন্ত্রী পাননি। রাজশাহীবাসির দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা একজন মন্ত্রীর। কিন্তু বরাবরই রাজশাহীবাসির সেই আশায় গুড়েবালি হয়েছে। তবে আবারও আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছে রাজশাহীর মানুষ। রাজশাহীবাসির প্রত্যাশা এবার বিএনপি সরকার গঠন করার পর রাজশাহীতে একজন মন্ত্রী পাবেন। নির্বাচনের পর থেকে বিষয়টি নিয়ে সোস্যাল মিডিয়াতে চলছে নানান আলোচনা। নেটিজেনরা এ নিয়ে কথা তুলছেন। দাবি তোলা হচ্ছে রাজশাহী থেকে একজন মন্ত্রী পরিষদে স্থান পাবে। আর রাজশাহী থেকে বিএনপির যে চারজন এমপি নির্বাচিত হয়েছেন তাদের মধ্যে জোরালোভাবে যে নামটি আসছে সেটি হলো উত্তরাঞ্চল রাজনীতির সিংহ পুরুষ, উন্নয়নের কারিগর মিজানুর রহমান মিনুর নাম। মিজানুর রহমান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার তাকে ফুল মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান রাজশাহীবাসি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার নিরস্কুশ জয় পেয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দল জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। এবার নির্বাচনে ২১২টি আসন পেয়েছে বিএনপি। এটি বিএনপির জন্য বড় অর্জন বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে রাজশাহীর ৬টি আসনের মধ্যে চারটি পেয়েছে বিএনপি। নির্বাচিত এ চারজন এমপির মধ্যে উপজেলা সদরের রয়েছেন তিনজন। উপজেলা সদরের তিন এমপিরা সবাই নতুন। এক মাত্র রাজশাহী-২ সদর আসনের এমপি মিজানুর রহমান মিনু রয়েছেন পুরাতনের তালিকায়। মিজানুর রহমান মিনু পরপর তিনবার রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র, একবার সদর আসনের এমপির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনও করেছেন। সেদিক থেকে মিজানুর রহমান মিনু যেমন অভিজ্ঞ তেমনি বর্ষিয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তি। নেটিজেনদের ভাষায় উত্তরাঞ্চলে মিজানুর রহমান মিনুর মত এমন বিচক্ষন রাজনৈতিক ব্যক্তি আর নেই। আর এমন একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে মন্ত্রী পরিষদে জায়গা দিলে শুধু রাজশাহীর নয়, পুরো উত্তরাঞ্চলের চিত্র পরিবর্তন হওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন প্রবীণ রাজনৈতিক বিশ্লেষক, শিক্ষক সমাজ, ব্যবসায়ী মহলসহ সাধারণ মানুষ।
মিজানুর রহমান মিনুর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্রদল দিয়ে। মিজানুর রহমান মিনু ১৯৭৮ সালে বৃহত্তর রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। তিনি তুখোড় ছাত্রনেতা হিসাবে এ অঞ্চলে প্রথম পরিচিতি লাভ করেন। তার বলিষ্ঠ্য নেতৃত্বে বৃহত্তর রাজশাহী জেলা ছাত্রদল ছিল সুসংগঠিত। ১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ছাত্রদল থেকে যুবদলে আসার পর মিজানুর রহমান মিনুর রাজনীতি নতুন মোড় নেয়। মূলত ছাত্রদল পরিচালনার দক্ষতার উপর ভিত্তি করে মিজানুর রহমান মিনুকে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দেয়া হয়। মিনুর সময় জাতীয়তাবাদী যুবদল ছিল অন্যান্য দলের জন্য আইকন। মিনুর দক্ষতা দেখে মাত্র এক বছরের মাথায় ১৯৮৭ সালে কেন্দ্র তাকে বৃহত্তর রাজশাহী জেলা যুবদলের সভাপতি নির্বাচিত করেন। এরপর ১৯৮৯ সালে মিজানুর রহমান মিনু বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। বৃহত্তর রাজশাহীর তৃণমুল থেকে বিএনপির হাইকমান্ড, সব জায়গায় মিজানুর রহমান মিনুর দক্ষতার কারণে কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ তাকে সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠ্য করেন। এরপর ১৯৯১ সালে তিনি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র হন। বিপুল ভোটে মিজানুর রহমান মিনু মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর উত্তরাঞ্চলের দুই বিভাগকে (রাজশাহী ও রংপুর) শক্তিশালি করার লক্ষ্যে ১৯৯৪ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। দুই বছরের মাথায় ১৯৯৬ সালে মিজানুর রহমান মিনু বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। একই সাথে ১৯৯৬ সালে মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি রাজশাহী-২ সদর আসনে বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন। একই বছর ২০০১ সালে তিনি তৃতীয়বারের মত রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১২ সালে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন। এরপর মিজানুর রহমান মিনু প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার অন্যতম উপদেষ্ঠা নির্বাচিত হন। এছাড়াও সর্বশেষ গত জানুয়ারীতে এসে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্ঠা হিসাবে রয়েছেন। এক মাত্র মিজানুর রহমান মিনুর রয়েছে এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ইতিহাস। সেই জায়গা থেকে এবার তাকে মন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান রাজশাহীবাসী।
রাজশাহী সড়ক পরিবহণ গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল বলেন, মিজানুর রহমান মিনুর মত এমন বলিষ্ঠ্য রাজনৈতিক নেতা উত্তরাঞ্চলে নেই। তাকে সড়ক মন্ত্রী করা হলে তার দক্ষতায় এ সেক্টর রোল মডেল হয়ে উঠবে। আমরা বিগত দিনে বঞ্চিত হয়েছি। এবার বঞ্চিত হতে চাই না। আমরা চাই এবার মিজানুর রহমান মিনুকে মন্ত্রী পরিষদে দেখতে চাই। তাকে মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হলে পুরো উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের চিত্র বদলে যাবে।
রাজশাহী মহানগর এমপিওভুক্ত বেসরকারী মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সাদিকুল ইসলাম বলেন, এই নগরীকে শিক্ষা নগরীর রুপ দিয়েছিলেন মিজানুর রহমান মিনু। এবার রাজশাহী থেকে নির্বাচিত চারজন এমপির মধ্যে মিজানুর রহমান মিনু একজন দক্ষ অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তি। তিনি এক সময় প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। শিক্ষার মান ফিরিয়ে আনতে আমরা চাই মিজানুর রহমান মিনুকে এবার মন্ত্রী করা হোক। তাকে মন্ত্রী পরিষদের সদস্য করা হলে আবারো শিক্ষা নগরী তার আসল রুপ ফিরে পাবে।
Reporter Name 

















