মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েও অর্থাভাবে দুশ্চিন্তায় কেশবপুরের দরিদ্র পরিবারের সন্তান সুব্রত গাইন

 

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন দরিদ্র পরিবারের সন্তান সুব্রত গাইন। এতে খুশি হওয়ার কথা থাকলেও তার মুখে হাসি নেই। কারণ তার পড়াশুনার খরচ কীভাবে চলবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। অর্থের অভাবে তার মেডিকেলে ভর্তিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ছেলের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার বাবা-মা।
সুব্রত গাইন যশোরের কেশবপুর উপজেলার বড় পাথরা গ্রামের দিনমজুর নারায়ন চন্দ্র গাইন ও গৃহিনী জবা গাইনের পূত্র। তারা দুই বোন আর এক ভাই। ভাইবোনের মধ্যে সুব্রত গাইন সকলের ছোট। তার বড় বোন কাজলী গাইন খুলনা আজমখান কলেজে মাষ্টারর্সে অধ্যায়নরত এবং ছোট বোন রূপা গাইন সাতক্ষীরা সরকারী কলেজে অনার্সে অধ্যায়নরত।
সুব্রত গাইন ছোটবেলা থেকেই লেখাপাড়ার প্রতি খুব আগ্রহী ছিল। পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫, এবং এসএসসি ও এইচএসসিতেও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পেয়েছেন জিপিএ-৫।
খুলনা সরকারি মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে সুব্রত গাইন।
এদিকে অর্থের অভাবে ছেলেকে মেডিকেলে ভর্তি করা নিয়ে অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়েছেন হত দরিদ্র পিতা নারায়ন চন্দ্র গাইন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি গরিব মানুষ। আমার দুইটি মেয়ে ও একটা ছেলে। খুব দুঃখ-কষ্টের মধ্যে দিয়ে আমার ছেলে-মেয়েরা বড় হয়েছে। কখনো খাবার জুটেছে, কখনো জোটেনি। আমি বিভিন্ন মৎস্য ঘেরে মাছধরা শ্রমিকের কাজ করি। অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যেও সন্তানের পড়ালেখার উৎসাহ দিয়েছি। আমি বহু কষ্টে ধার-দেনা করে তাদের লেখা-পড়া চালিয়ে যাচ্ছি। আমার মাথাগোজার ঠাই হিসেবে একটি টিনসেটের বাড়ি ও এক বিঘা জমি ছাড়া আর কিছুই নেই।
তিনি বলেন, আমার ছেলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে। কিন্তু তাকে ভর্তি করার মতো টাকা-পয়সা আমাদের নেই। আমি চিন্তা করে কোনো কূলকিনারা পাচ্ছি না, কীভাবে ছেলেকে ভর্তি করাব? কীভাবে বই কিনে দিব? কীভাবে খরচ চালাব? সাহায্যের জন্য আমি মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ বিত্তবানদের কাছে আবেদন করছি। আপনারা সবাই আমার ছেলের জন্য সাহায্য করুন। আপনারা যদি সহযোগিতা করেন তবে আমার ছেলে ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষের সেবা করবে। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া আমার কোনো ক্ষমতা নেই তাকে পড়ানোর। হত দরিদ্র নারায়ন চন্দ্র গাইন তার ছেলে সুব্রত গাইনকে মেডিকেলে পড়ানোর জন্য তার ছেলের ০১৮৭৯৩৫৫২৮৪ নম্বর মবোইলে বিকাশ করে সহযোগিতা করার জন্য বিত্তবানদের নিকট আবেদন করেছেন।

Tag :
About Author Information

admin

জনপ্রিয়

দৈনিক উপচার সম্পাদক বাবলুর ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

error: Content is protected !!

মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েও অর্থাভাবে দুশ্চিন্তায় কেশবপুরের দরিদ্র পরিবারের সন্তান সুব্রত গাইন

Update Time : ১০:১২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ এপ্রিল ২০২২

 

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন দরিদ্র পরিবারের সন্তান সুব্রত গাইন। এতে খুশি হওয়ার কথা থাকলেও তার মুখে হাসি নেই। কারণ তার পড়াশুনার খরচ কীভাবে চলবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। অর্থের অভাবে তার মেডিকেলে ভর্তিও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ছেলের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী ও বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার বাবা-মা।
সুব্রত গাইন যশোরের কেশবপুর উপজেলার বড় পাথরা গ্রামের দিনমজুর নারায়ন চন্দ্র গাইন ও গৃহিনী জবা গাইনের পূত্র। তারা দুই বোন আর এক ভাই। ভাইবোনের মধ্যে সুব্রত গাইন সকলের ছোট। তার বড় বোন কাজলী গাইন খুলনা আজমখান কলেজে মাষ্টারর্সে অধ্যায়নরত এবং ছোট বোন রূপা গাইন সাতক্ষীরা সরকারী কলেজে অনার্সে অধ্যায়নরত।
সুব্রত গাইন ছোটবেলা থেকেই লেখাপাড়ার প্রতি খুব আগ্রহী ছিল। পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫, এবং এসএসসি ও এইচএসসিতেও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পেয়েছেন জিপিএ-৫।
খুলনা সরকারি মেডিকেল কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়ে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে সুব্রত গাইন।
এদিকে অর্থের অভাবে ছেলেকে মেডিকেলে ভর্তি করা নিয়ে অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়েছেন হত দরিদ্র পিতা নারায়ন চন্দ্র গাইন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমি গরিব মানুষ। আমার দুইটি মেয়ে ও একটা ছেলে। খুব দুঃখ-কষ্টের মধ্যে দিয়ে আমার ছেলে-মেয়েরা বড় হয়েছে। কখনো খাবার জুটেছে, কখনো জোটেনি। আমি বিভিন্ন মৎস্য ঘেরে মাছধরা শ্রমিকের কাজ করি। অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যেও সন্তানের পড়ালেখার উৎসাহ দিয়েছি। আমি বহু কষ্টে ধার-দেনা করে তাদের লেখা-পড়া চালিয়ে যাচ্ছি। আমার মাথাগোজার ঠাই হিসেবে একটি টিনসেটের বাড়ি ও এক বিঘা জমি ছাড়া আর কিছুই নেই।
তিনি বলেন, আমার ছেলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে। কিন্তু তাকে ভর্তি করার মতো টাকা-পয়সা আমাদের নেই। আমি চিন্তা করে কোনো কূলকিনারা পাচ্ছি না, কীভাবে ছেলেকে ভর্তি করাব? কীভাবে বই কিনে দিব? কীভাবে খরচ চালাব? সাহায্যের জন্য আমি মানবতার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ বিত্তবানদের কাছে আবেদন করছি। আপনারা সবাই আমার ছেলের জন্য সাহায্য করুন। আপনারা যদি সহযোগিতা করেন তবে আমার ছেলে ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষের সেবা করবে। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া আমার কোনো ক্ষমতা নেই তাকে পড়ানোর। হত দরিদ্র নারায়ন চন্দ্র গাইন তার ছেলে সুব্রত গাইনকে মেডিকেলে পড়ানোর জন্য তার ছেলের ০১৮৭৯৩৫৫২৮৪ নম্বর মবোইলে বিকাশ করে সহযোগিতা করার জন্য বিত্তবানদের নিকট আবেদন করেছেন।