
পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল থাকার কথা থাকলেও রাজশাহী মহানগরীর বাজারগুলোতে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। লেবু, শসা ও তরমুজের অস্বাভাবিক দামে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ রোজাদাররা।
রাজশাহী সদরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইফতারের অপরিহার্য অনুষঙ্গ লেবু এখন আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। অর্থাৎ একটি লেবুর দাম পড়ছে ২০ টাকা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শসার দামও, যা কেজি প্রতি ১০০ টাকায় ঠেকেছে।
সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে তরমুজের দাম। মৌসুমের শুরুতে কাঁচা তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি দরে। ফলের বাজারেও নেই স্বস্তি; মানভেদে খেজুরের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় অনেকেই প্রয়োজনীয় পরিমাণে কিনতে পারছেন না।
সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে দাম বাড়াচ্ছে। বাজারে প্রশাসনের কার্যকর মনিটরিং না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ নিচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। দ্রুত বাজার তদারকি ও কঠোর পদক্ষেপ না নিলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য রোজা রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এর বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) মো: ইব্রাহিম হোসেন জানান,”বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমাদের মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আমরা নিয়মিত তদারকি করছি।”
তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা ও ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা ভিন্ন একটি দিকও তুলে ধরছেন। তাদের মতে, বর্তমানে বাজারে যে তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে তার পুরোপুরি মৌসুম এখনো শুরু হয়নি। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা চড়া।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করেন, ক্রেতাদেরও অপরিপক্ক বা সিজন শুরু না হওয়া ফলের প্রতি অতি-আগ্রহের বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী রোজাদাররা এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
Reporter Name 

















