Dhaka ১২:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

​রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে হামলা ও চাঁদাবাজি, সভাপতিকে কুপিয়ে জখম

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৪:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ১১২ Time View

রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানাধীন শিরোইল কাঁচা বাজার এলাকায় অবস্থিত রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে সশস্ত্র হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রেস ক্লাবের সভাপতিকে রেজাউল করিমকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

এ ঘটনায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন, বোয়ালিয়া থানাধীন মিয়াপাড়া এলাকার মৃত ডব্লিউর ছেলে নুরে ইসলাম মিলন (৪৫), রাজপাড়া থানাধীন মৃত মানিকের ছেলে সুরুজ আলী (৩০), নগরীর টিকাপাড়া এলাকার করিমের ছেলে মিশাল (৩০), বোয়ালিয়া থানাধীন ষষ্টিতলা এলাকার সাইদ আলী (৩৮), বহরমপুর এলাকার মৃত মানিকের ছেলে ইব্রাহিম (৪০) ও রেন্টু (৩০)।

এজহার সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে অভিযুক্তরা প্রেস ক্লাব পরিচালনার নামে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। এরই জেরে শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও ধারালো চাকু নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে প্রেস ক্লাবে প্রবেশ করে তারা।

এ সময় তারা প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের কাছে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন পিস্তল বের করে তার মাথায় ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

একপর্যায়ে ক্লাবে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে হামলাকারীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় সুরুজ আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে রেজাউল করিমের পেটে আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে তা প্রতিহত করেন। পরে অভিযুক্তরা তার কোমরের নিচে উরুতে একাধিকবার আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এতে তার উরুতে মোট ১৩টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ সময় অন্যান্য হামলাকারীরা লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে তাকে আহত করে। ক্লাবে উপস্থিত সাংবাদিকদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একটি গাড়ি যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর কুমিল্লা-চ-৫১-০০২৮ ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে আহত রেজাউল করিমকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর নামও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে আলোচনা শেষে চিকিৎসা নিয়ে থানায় গিয়ে এজাহার দায়ের করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

​বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলাকারীদের ব্যবহৃত একটি গাড়ি (কুমিল্লা-চ-৫১-০০২৮) জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

​রাজশাহীর স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

Tag :
About Author Information

Alauddin Mondal

জনপ্রিয়

​রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে হামলা ও চাঁদাবাজি, সভাপতিকে কুপিয়ে জখম

error: Content is protected !!

​রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে হামলা ও চাঁদাবাজি, সভাপতিকে কুপিয়ে জখম

Update Time : ১০:২৪:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানাধীন শিরোইল কাঁচা বাজার এলাকায় অবস্থিত রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেস ক্লাবে সশস্ত্র হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রেস ক্লাবের সভাপতিকে রেজাউল করিমকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে বলে অভিযোগ।

এ ঘটনায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলেন, বোয়ালিয়া থানাধীন মিয়াপাড়া এলাকার মৃত ডব্লিউর ছেলে নুরে ইসলাম মিলন (৪৫), রাজপাড়া থানাধীন মৃত মানিকের ছেলে সুরুজ আলী (৩০), নগরীর টিকাপাড়া এলাকার করিমের ছেলে মিশাল (৩০), বোয়ালিয়া থানাধীন ষষ্টিতলা এলাকার সাইদ আলী (৩৮), বহরমপুর এলাকার মৃত মানিকের ছেলে ইব্রাহিম (৪০) ও রেন্টু (৩০)।

এজহার সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে অভিযুক্তরা প্রেস ক্লাব পরিচালনার নামে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। এরই জেরে শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৮টার দিকে দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল ও ধারালো চাকু নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে প্রেস ক্লাবে প্রবেশ করে তারা।

এ সময় তারা প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিমের কাছে চার লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রধান অভিযুক্ত নুরে ইসলাম মিলন পিস্তল বের করে তার মাথায় ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

একপর্যায়ে ক্লাবে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে হামলাকারীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় সুরুজ আলী ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে রেজাউল করিমের পেটে আঘাত করার চেষ্টা করলে তিনি হাত দিয়ে তা প্রতিহত করেন। পরে অভিযুক্তরা তার কোমরের নিচে উরুতে একাধিকবার আঘাত করে গুরুতর জখম করে। এতে তার উরুতে মোট ১৩টি সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ সময় অন্যান্য হামলাকারীরা লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে তাকে আহত করে। ক্লাবে উপস্থিত সাংবাদিকদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একটি গাড়ি যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর কুমিল্লা-চ-৫১-০০২৮ ফেলে রেখে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে আহত রেজাউল করিমকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর নামও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে আলোচনা শেষে চিকিৎসা নিয়ে থানায় গিয়ে এজাহার দায়ের করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

​বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলাকারীদের ব্যবহৃত একটি গাড়ি (কুমিল্লা-চ-৫১-০০২৮) জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

​রাজশাহীর স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।