লাইসেন্স ছাড়াই রাজশাহীতে এসিড আমদানি, ব্যবহার ও বিক্রয়ের গুরুতর অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩৫ Time View

এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে চরম শৈথিল্যের অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীতে। সরকারি অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে এসিড আমদানি, ব্যবহার ও বিক্রয়ের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ করা হয়েছে নগরীর বোসপাড়া এলাকার মেসার্স আনোয়ার কেমিক্যাল, বাংলাদেশ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এসিড নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এসিড আমদানি, পরিবহন, সংরক্ষণ, ব্যবহার কিংবা বিক্রয় করতে পারে না। আইনটি মূলত এসিডের অপব্যবহার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত। কিন্তু বাস্তবে এই আইনের তোয়াক্কা না করেই একটি প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মেসার্স আনোয়ার কেমিক্যাল, বাংলাদেশ কোনো বৈধ এসিড লাইসেন্স ছাড়াই এসিড আমদানি করে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে ড্যাম ফিক্সসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল পণ্য উৎপাদন করছে। এসব পণ্য পরে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের কাছেও বেআইনিভাবে এসিড বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা সরাসরি আইন লঙ্ঘনের শামিল।

এসব কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যকর তদারকি বা দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বৈধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

বৈধ লাইসেন্সধারীদের ক্ষতির মুখে পড়ার অভিযোগ
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ওয়ারিশ শাহ কেমিক্যাল বাংলাদেশ-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ কাওসার আলী।

অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি ২০১৬ সালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ৯২/২০১৬ নম্বর এসিড ব্যবহার সংক্রান্ত লাইসেন্স গ্রহণ করেন এবং প্রতিবছর নিয়মিত নবায়নের মাধ্যমে এসিড নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা মেনে ক্ষুদ্র পরিসরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া এসিড ব্যবহার ও বিক্রয়ের কারণে বৈধ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার শিকার হচ্ছে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে এসিডের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অভিযোগকারীর প্রশ্ন—যেখানে লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর নিয়ম, নবায়ন প্রক্রিয়া ও নিয়মিত তদারকির মধ্যে থাকতে হচ্ছে, সেখানে কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স ছাড়াই এসিড ব্যবহার ও বিক্রয় চালিয়ে যেতে পারে? তাহলে কি প্রশাসনের নজরদারিতে ঘাটতি রয়েছে, নাকি বিষয়টি জেনেও উপেক্ষা করা হচ্ছে?

এসিডের মতো সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের ক্ষেত্রে এমন অবহেলা ভয়াবহ পরিণতির আশঙ্কা তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

লিখিত অভিযোগে অবিলম্বে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাজশাহীতে এসিড ব্যবহার ও বিক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠান বৈধ লাইসেন্সের আওতায় আছে কি না—তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মেসার্স আনোয়ার কেমিক্যালের কতৃপক্ষ আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,“আমি আমার পার্টনার প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স কেমিক্যাল-এর সঙ্গে যৌথভাবে বৈধ প্রক্রিয়ায় সব কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের কোনো অবৈধ কার্যক্রম নেই।”

Tag :
About Author Information

Alauddin Mondal

​রাজশাহীতে থিম ওমর প্লাজা দখল ও লুটপাট: আদালতে মামলা, তদন্তে পিবিআই

error: Content is protected !!

লাইসেন্স ছাড়াই রাজশাহীতে এসিড আমদানি, ব্যবহার ও বিক্রয়ের গুরুতর অভিযোগ

Update Time : ০৬:৪৫:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে চরম শৈথিল্যের অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীতে। সরকারি অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে এসিড আমদানি, ব্যবহার ও বিক্রয়ের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ করা হয়েছে নগরীর বোসপাড়া এলাকার মেসার্স আনোয়ার কেমিক্যাল, বাংলাদেশ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এসিড নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এসিড আমদানি, পরিবহন, সংরক্ষণ, ব্যবহার কিংবা বিক্রয় করতে পারে না। আইনটি মূলত এসিডের অপব্যবহার রোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত। কিন্তু বাস্তবে এই আইনের তোয়াক্কা না করেই একটি প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মেসার্স আনোয়ার কেমিক্যাল, বাংলাদেশ কোনো বৈধ এসিড লাইসেন্স ছাড়াই এসিড আমদানি করে নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে ড্যাম ফিক্সসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল পণ্য উৎপাদন করছে। এসব পণ্য পরে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের কাছেও বেআইনিভাবে এসিড বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা সরাসরি আইন লঙ্ঘনের শামিল।

এসব কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যকর তদারকি বা দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বৈধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

বৈধ লাইসেন্সধারীদের ক্ষতির মুখে পড়ার অভিযোগ
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ওয়ারিশ শাহ কেমিক্যাল বাংলাদেশ-এর স্বত্বাধিকারী মোঃ কাওসার আলী।

অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি ২০১৬ সালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ৯২/২০১৬ নম্বর এসিড ব্যবহার সংক্রান্ত লাইসেন্স গ্রহণ করেন এবং প্রতিবছর নিয়মিত নবায়নের মাধ্যমে এসিড নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা মেনে ক্ষুদ্র পরিসরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, লাইসেন্স ছাড়া এসিড ব্যবহার ও বিক্রয়ের কারণে বৈধ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলো অসম প্রতিযোগিতার শিকার হচ্ছে এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে এসিডের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অভিযোগকারীর প্রশ্ন—যেখানে লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কঠোর নিয়ম, নবায়ন প্রক্রিয়া ও নিয়মিত তদারকির মধ্যে থাকতে হচ্ছে, সেখানে কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্স ছাড়াই এসিড ব্যবহার ও বিক্রয় চালিয়ে যেতে পারে? তাহলে কি প্রশাসনের নজরদারিতে ঘাটতি রয়েছে, নাকি বিষয়টি জেনেও উপেক্ষা করা হচ্ছে?

এসিডের মতো সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক দ্রব্যের ক্ষেত্রে এমন অবহেলা ভয়াবহ পরিণতির আশঙ্কা তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

লিখিত অভিযোগে অবিলম্বে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাজশাহীতে এসিড ব্যবহার ও বিক্রয়ের সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠান বৈধ লাইসেন্সের আওতায় আছে কি না—তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মেসার্স আনোয়ার কেমিক্যালের কতৃপক্ষ আনোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,“আমি আমার পার্টনার প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স কেমিক্যাল-এর সঙ্গে যৌথভাবে বৈধ প্রক্রিয়ায় সব কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের কোনো অবৈধ কার্যক্রম নেই।”