Dhaka ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই রেলওয়ে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করছেন যাত্রীরা ২৫ বছর আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয় ব্রিজটি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫
  • ২৪০ Time View

লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনের ফুট ওভার ব্রিজটি ২০০১ সালে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঘোষণা করে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় । লোহা ও কংক্রিটের তৈরি ৪৬৭ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট প্রস্থ এই ব্রিজটি ব্রিটিশ আমলের নির্মাণ । দীর্ঘ দুই দশক ধরে এটি অরক্ষণাবেক্ষণে পড়ে রয়েছে ফলে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজটি ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছে । জরাজীর্ণ ফুটাবার ব্রিজটি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন যাত্রীরা ।

২০২০ সালের মার্চে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ব্রিজটি পূর্ণনির্মাণ কাজ শুরু করলেও মাত্র ৭৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৬৬৭ ফুটের মধ্যে ২১০ ফুট অংশ পূর্ণ নির্মাণের পর বাকি কাজ আর এগোয়নি । ফলে অবশিষ্ট ২৫৭ ফুট আগের মতই নাজুক কাঁপুনিসহ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে

রেলওয়ে তথ্য অনুযায়ী লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন প্রতিদিন ব্রিজটি যাত্রীবাহী ট্রেন আসে যায় এসব ট্রেনের যাত্রীদের ঐ প্লাটফর্মে ওঠানামার জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ফুটওভার ব্রিজটি ব্যবহার করতে হয়। শুধু যাত্রীরাই নয় লোকজন শহরের পশ্চিম প্রান্ত থেকে পূর্ব প্রান্তে যেতে সময় ও পথ সাশ্রয়ের জন্য নিয়মিত এই ব্রিজটি ওপর দিয়ে চলাচল করেন। ব্রিজ ব্যবহারকারীদের অভিযোগ ব্রিজটির বাকি অংশ পূর্ণনির্মাণ না হওয়া সিঁড়িতে উঠানামা করতে ভয় লাগে একসঙ্গে অনেক মানুষ উঠলে গোটা কাঠামো দুলতে থাকে।

৬৫ বছর বয়সি ট্রেন যাত্রী মকবুল হোসেন বলেন শৈশব থেকে এই ব্রিজের উপর দিয়েই চলছে এখন একসঙ্গে অনেক মানুষ উঠলে মনে হয় নিচে ভেঙ্গে পড়বে ব্রিজের একাংশ ঠিক করা হলেও বাকি অংশ আগের মতোই ঝুঁকিপূর্ণ তিনি দ্রুত পুরো ব্রিজ পূর্ণ নির্মাণের দাবি জানান।

লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার নূরনবী ইসলাম বলেন ট্রেন ঢোকার সময় প্রায় ২ শতাধিক যাত্রী একসঙ্গে ব্রিজে ওঠেন ব্রিজে ওঠার সিঁড়িগুলো লাজুক সেতু বিভাগ কয়েক দফায় পরিদর্শন করেছে তবে দেরি কেন তা আমি বলতে পারছি না।

রেলওয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী শিপন আলী বলেন ফুটওভার ব্রিজটির মেয়াদ ২৫ বছর আগেই শেষ হয়েছে কিছু অংশ পূর্ণনির্মাণ হলেও বাকি অংশ জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে বিষয়টি আমরা সেতু বিভাগকে জানিয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছি।

রেলওয়ে সেতু বিভাগের প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান ২০২০ সালে কাজ শুরু হলেও পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় ব্রিজটির সম্পূর্ণ অংশ পূর্ণ নির্মাণ করা হয়নি অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ নির্মাণে নতুন প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু হবে আশা করছি আগামী বছর নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে ।
মোবাইল ০১৭৬১৩১১৫৯৩

Tag :
About Author Information

Alauddin Mondal

জনপ্রিয়

​রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর হামলা, ২ আসামি গ্রেপ্তার

error: Content is protected !!

লালমনিরহাটে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই রেলওয়ে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করছেন যাত্রীরা ২৫ বছর আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয় ব্রিজটি

Update Time : ০৩:৪২:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনের ফুট ওভার ব্রিজটি ২০০১ সালে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঘোষণা করে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় । লোহা ও কংক্রিটের তৈরি ৪৬৭ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬ ফুট প্রস্থ এই ব্রিজটি ব্রিটিশ আমলের নির্মাণ । দীর্ঘ দুই দশক ধরে এটি অরক্ষণাবেক্ষণে পড়ে রয়েছে ফলে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে ব্রিজটি ব্যবহার করতে বাধ্য হয়েছে । জরাজীর্ণ ফুটাবার ব্রিজটি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন যাত্রীরা ।

২০২০ সালের মার্চে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ব্রিজটি পূর্ণনির্মাণ কাজ শুরু করলেও মাত্র ৭৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৬৬৭ ফুটের মধ্যে ২১০ ফুট অংশ পূর্ণ নির্মাণের পর বাকি কাজ আর এগোয়নি । ফলে অবশিষ্ট ২৫৭ ফুট আগের মতই নাজুক কাঁপুনিসহ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে

রেলওয়ে তথ্য অনুযায়ী লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন প্রতিদিন ব্রিজটি যাত্রীবাহী ট্রেন আসে যায় এসব ট্রেনের যাত্রীদের ঐ প্লাটফর্মে ওঠানামার জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ফুটওভার ব্রিজটি ব্যবহার করতে হয়। শুধু যাত্রীরাই নয় লোকজন শহরের পশ্চিম প্রান্ত থেকে পূর্ব প্রান্তে যেতে সময় ও পথ সাশ্রয়ের জন্য নিয়মিত এই ব্রিজটি ওপর দিয়ে চলাচল করেন। ব্রিজ ব্যবহারকারীদের অভিযোগ ব্রিজটির বাকি অংশ পূর্ণনির্মাণ না হওয়া সিঁড়িতে উঠানামা করতে ভয় লাগে একসঙ্গে অনেক মানুষ উঠলে গোটা কাঠামো দুলতে থাকে।

৬৫ বছর বয়সি ট্রেন যাত্রী মকবুল হোসেন বলেন শৈশব থেকে এই ব্রিজের উপর দিয়েই চলছে এখন একসঙ্গে অনেক মানুষ উঠলে মনে হয় নিচে ভেঙ্গে পড়বে ব্রিজের একাংশ ঠিক করা হলেও বাকি অংশ আগের মতোই ঝুঁকিপূর্ণ তিনি দ্রুত পুরো ব্রিজ পূর্ণ নির্মাণের দাবি জানান।

লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার নূরনবী ইসলাম বলেন ট্রেন ঢোকার সময় প্রায় ২ শতাধিক যাত্রী একসঙ্গে ব্রিজে ওঠেন ব্রিজে ওঠার সিঁড়িগুলো লাজুক সেতু বিভাগ কয়েক দফায় পরিদর্শন করেছে তবে দেরি কেন তা আমি বলতে পারছি না।

রেলওয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী শিপন আলী বলেন ফুটওভার ব্রিজটির মেয়াদ ২৫ বছর আগেই শেষ হয়েছে কিছু অংশ পূর্ণনির্মাণ হলেও বাকি অংশ জরাজীর্ণ অবস্থায় আছে বিষয়টি আমরা সেতু বিভাগকে জানিয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করছি।

রেলওয়ে সেতু বিভাগের প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন জানান ২০২০ সালে কাজ শুরু হলেও পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় ব্রিজটির সম্পূর্ণ অংশ পূর্ণ নির্মাণ করা হয়নি অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ নির্মাণে নতুন প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়েছে বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু হবে আশা করছি আগামী বছর নির্মাণ কাজ শুরু করা যাবে ।
মোবাইল ০১৭৬১৩১১৫৯৩