Dhaka ১০:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীকে ডিজেল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

রাজশাহীর বাঘায় স্ত্রীর শরীরে ডিজেল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি ঘাতক স্বামী মোঃ সুরুজ (৩২)–কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৫।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর ২০২৫) রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকা মহানগরীর পল্লবী থানাধীন মিরপুর-১২ (লালডেগ) এলাকায় র‍্যাব-৫, সিপিএসসি রাজশাহী ও র‍্যাব-৪, সিপিসি-১ মিরপুর ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সুরুজ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চক নারায়ণপুর গ্রামের মোঃ শহিদুল মাঝির ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে ভিকটিম অনন্যা খাতুন মুন্নি (২৫)–এর সঙ্গে সুরুজের বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন অজুহাতে অনন্যাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করত বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রথমে তাকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। এর মধ্যে ভিকটিমের পরিবার ২০১৮ সালের মে মাসে ১ লাখ টাকা প্রদান করে। এরপরও সুরুজ আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করতে থাকে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে।

গত ৩১ অক্টোবর ২০২৫ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে যৌতুকের দাবিতে তুমুল ঝগড়া ও মারধর করে সুরুজ। এরপর ১ নভেম্বর ভোর ৪টায় বাড়ির উঠানে নিয়ে স্ত্রী অনন্যার শরীরে ডিজেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।

দগ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা অনন্যাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। একই দিন বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

নারকীয় এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এরপর ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে বাঘা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেফতারে র‍্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং বিভিন্ন স্থানে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় যৌথ আভিযানিক দল ঢাকা মহানগরীর মিরপুর-১২ এলাকা থেকে এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি সুরুজকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Tag :
About Author Information

Alauddin Mondal

জনপ্রিয়

বাঘায় পৃথক অভিযানে দুই মামলার আসামি গ্রেপ্তার

error: Content is protected !!

স্ত্রীকে ডিজেল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

Update Time : ০৩:২৬:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর বাঘায় স্ত্রীর শরীরে ডিজেল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি ঘাতক স্বামী মোঃ সুরুজ (৩২)–কে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৫।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর ২০২৫) রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকা মহানগরীর পল্লবী থানাধীন মিরপুর-১২ (লালডেগ) এলাকায় র‍্যাব-৫, সিপিএসসি রাজশাহী ও র‍্যাব-৪, সিপিসি-১ মিরপুর ক্যাম্পের যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সুরুজ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চক নারায়ণপুর গ্রামের মোঃ শহিদুল মাঝির ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে ভিকটিম অনন্যা খাতুন মুন্নি (২৫)–এর সঙ্গে সুরুজের বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন অজুহাতে অনন্যাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করত বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রথমে তাকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। এর মধ্যে ভিকটিমের পরিবার ২০১৮ সালের মে মাসে ১ লাখ টাকা প্রদান করে। এরপরও সুরুজ আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করতে থাকে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে।

গত ৩১ অক্টোবর ২০২৫ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে যৌতুকের দাবিতে তুমুল ঝগড়া ও মারধর করে সুরুজ। এরপর ১ নভেম্বর ভোর ৪টায় বাড়ির উঠানে নিয়ে স্ত্রী অনন্যার শরীরে ডিজেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ।

দগ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা অনন্যাকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। একই দিন বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

নারকীয় এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এরপর ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে বাঘা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের গ্রেফতারে র‍্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং বিভিন্ন স্থানে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় যৌথ আভিযানিক দল ঢাকা মহানগরীর মিরপুর-১২ এলাকা থেকে এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি সুরুজকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।