Dhaka ০৩:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীর মোহনপুরে পুকুর খননে বাধা দেওয়ায় ভেকুর নিচে চাপা পড়ে জুবায়ের (২৫) নামের এক কৃষক নিহত

রাজশাহীর মোহনপুরে পুকুর খননে বাধা দেওয়ায় ভেকুর নিচে চাপা পড়ে জুবায়ের (২৫) নামের এক কৃষক নিহত হয়েছেন।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নের বড় পালশা গ্রামের বিলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত জুবায়ের ওই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বড় পালশা গ্রামের আব্দুল মজিদ ওরফে মঞ্জিলের ছেলে আনিসুজ্জামান রহমান বকুল, মুনতাজ হাজির ছেলে রুহুল ও রুবেলের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন মিলে ভেকু মেশিন দিয়ে পুকুর খনন চলছিল। এসময় কৃষিজমি রক্ষায় স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা ভেকু চালককে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ওদের পিষে দে।” তাদের কথার পরপরই ভেকুর নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন কৃষক জুবায়ের। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, পুকুর খননকাজে এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত। তবে পরিবারের নিরাপত্তার কারণে তারা কারও নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জানা যায়, নিহতের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দ্রুত লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার এবং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করেন।

ইউএনও ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত ভেকু চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।”

ওসি মঈনুদ্দীন জানান, “পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের পরিবারকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।”

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সাতজনকে এজাহারনামীয় ও ১০–১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মোহনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তার হওয়া ভেকু চালক মো. আব্দুল হামিদ (২৮)-কে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান ওসি। তিনি আরও বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইয়ামিন হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সন্ধ্যায় (বাদ মাগরিব) জানাজা শেষে জুবায়েরকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবার দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

Tag :
About Author Information

Alauddin Mondal

জনপ্রিয়

​রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর হামলা, ২ আসামি গ্রেপ্তার

error: Content is protected !!

রাজশাহীর মোহনপুরে পুকুর খননে বাধা দেওয়ায় ভেকুর নিচে চাপা পড়ে জুবায়ের (২৫) নামের এক কৃষক নিহত

Update Time : ০৫:১৬:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর মোহনপুরে পুকুর খননে বাধা দেওয়ায় ভেকুর নিচে চাপা পড়ে জুবায়ের (২৫) নামের এক কৃষক নিহত হয়েছেন।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নের বড় পালশা গ্রামের বিলে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত জুবায়ের ওই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, বড় পালশা গ্রামের আব্দুল মজিদ ওরফে মঞ্জিলের ছেলে আনিসুজ্জামান রহমান বকুল, মুনতাজ হাজির ছেলে রুহুল ও রুবেলের নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন মিলে ভেকু মেশিন দিয়ে পুকুর খনন চলছিল। এসময় কৃষিজমি রক্ষায় স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা ভেকু চালককে উদ্দেশ্য করে বলেন, “ওদের পিষে দে।” তাদের কথার পরপরই ভেকুর নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন কৃষক জুবায়ের। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, পুকুর খননকাজে এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত। তবে পরিবারের নিরাপত্তার কারণে তারা কারও নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

সরেজমিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে জানা যায়, নিহতের পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দ্রুত লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার এবং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করেন।

ইউএনও ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত ভেকু চালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।”

ওসি মঈনুদ্দীন জানান, “পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের পরিবারকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।”

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে নিহতের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে সাতজনকে এজাহারনামীয় ও ১০–১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মোহনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তার হওয়া ভেকু চালক মো. আব্দুল হামিদ (২৮)-কে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান ওসি। তিনি আরও বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইয়ামিন হোসেন ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সন্ধ্যায় (বাদ মাগরিব) জানাজা শেষে জুবায়েরকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবার দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।