Dhaka ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরে যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে মারধর অতঃপর মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রীকে বিবাহ

কেশবপুরে যৌতুকে টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে মারধর করে নির্যাতন চালিয়ে বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছে মাদ্রাসার সহকারী এক শিক্ষক। এ ঘটনায় স্ত্রী প্রতিবাদ করায় অতঃপর ঐ সহকারী শিক্ষক তাঁর প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী লিপিয়া নামের এক ছাত্রীকে বিবাহ করে ঘরে তুলেছেন। এতে প্রথম স্ত্রী মুর্শিদা খাতুন বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বারুইহাটি গ্রামের ওয়াজেদ আলী মোল্যার কন্যা মুর্শিদা খাতুনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে চুটিয়ে প্রেম করে একই উপজেলার প্রতাপুর গ্রামের মৃত পিয়ার গাজীর পুত্র আব্দুল কুদ্দুস। প্রেমের এক পর্যায়ে পারিবারিক ভাবে আব্দুল কুদ্দুস গাজী ১০ বছর পূর্বে বিবাহ করেন। বিবাহের পর তাঁদের দাম্পত্য জীবন ভাল ভাবেই চলছিলো। সংসার জীবনে স্ত্রী মুর্শিদার খাতুনের গর্ভে ৬/৭ মাসের সন্তান আসে। কিন্তু পাষন্ড স্বামী মাদ্রাসার ছাত্রীর সাথে প্রেম থাকায় স্ত্রী মুর্শিদা খাতুনের গলা ব্যাথার(তনসিল)ঔষধ খাইয়ে কৌশলে সেই গর্ভের সন্তন নষ্ট করে দেয়। সন্তান নষ্টের পর একপর্যায়ে স্ত্রী মুর্শিদা খাতুন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে সুস্থ হয়ে উঠেন। কিন্তু থেমে নেই স্বামী আব্দুল কুদ্দুস গাজী। স্বামী মেহেরপুর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক সেই সুবাদে ঐ প্রতিষ্টানের লিপিয়া নামের এক ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে তাঁকে বিবাহ করে ঘরে নিয়ে আসেন। এতে প্রথম স্ত্রী মুর্শিদা খাতুন প্রতিবাদ করলে পাষন্ড স্বামী, দেবর ও শাশুড়ি মিলে তাকে মানুষিক ও শারিরিক নির্যাতন করতে থাকে। অন্য দিকে সংসারের অভাব অনাটন লেগেই আছে। সংসার সামলাতে স্ত্রীকে যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে স্বামী আব্দুল কুদ্দুস গাজী। গরীব পিতা যৌতুকের টাকা যোগাড় না করতে পারায় সম্প্রতি যৌতুক লোভী স্বামী(মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষাক) আব্দুল কুদ্দুস, দেবর ও শাশুড়ি তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় অসহায় স্ত্রী মুর্শিদা খাতুন সঠিক তদন্ত ও ন্যায় বিচার চেয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই বিষয়ে আব্দুল কুদ্দুসের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি পারিবারিক বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম আরাফাত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ পেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

Tag :
About Author Information

admin

জনপ্রিয়

রাজশাহীতে কলেজে মারধরের ঘটনায় অধ্যক্ষ ও নারী শিক্ষিকা অপসারণে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

error: Content is protected !!

কেশবপুরে যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে মারধর অতঃপর মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্রীকে বিবাহ

Update Time : ১১:৪৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২২

কেশবপুরে যৌতুকে টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে মারধর করে নির্যাতন চালিয়ে বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছে মাদ্রাসার সহকারী এক শিক্ষক। এ ঘটনায় স্ত্রী প্রতিবাদ করায় অতঃপর ঐ সহকারী শিক্ষক তাঁর প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী লিপিয়া নামের এক ছাত্রীকে বিবাহ করে ঘরে তুলেছেন। এতে প্রথম স্ত্রী মুর্শিদা খাতুন বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বারুইহাটি গ্রামের ওয়াজেদ আলী মোল্যার কন্যা মুর্শিদা খাতুনের সাথে দীর্ঘদিন ধরে চুটিয়ে প্রেম করে একই উপজেলার প্রতাপুর গ্রামের মৃত পিয়ার গাজীর পুত্র আব্দুল কুদ্দুস। প্রেমের এক পর্যায়ে পারিবারিক ভাবে আব্দুল কুদ্দুস গাজী ১০ বছর পূর্বে বিবাহ করেন। বিবাহের পর তাঁদের দাম্পত্য জীবন ভাল ভাবেই চলছিলো। সংসার জীবনে স্ত্রী মুর্শিদার খাতুনের গর্ভে ৬/৭ মাসের সন্তান আসে। কিন্তু পাষন্ড স্বামী মাদ্রাসার ছাত্রীর সাথে প্রেম থাকায় স্ত্রী মুর্শিদা খাতুনের গলা ব্যাথার(তনসিল)ঔষধ খাইয়ে কৌশলে সেই গর্ভের সন্তন নষ্ট করে দেয়। সন্তান নষ্টের পর একপর্যায়ে স্ত্রী মুর্শিদা খাতুন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে সুস্থ হয়ে উঠেন। কিন্তু থেমে নেই স্বামী আব্দুল কুদ্দুস গাজী। স্বামী মেহেরপুর দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক সেই সুবাদে ঐ প্রতিষ্টানের লিপিয়া নামের এক ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে তাঁকে বিবাহ করে ঘরে নিয়ে আসেন। এতে প্রথম স্ত্রী মুর্শিদা খাতুন প্রতিবাদ করলে পাষন্ড স্বামী, দেবর ও শাশুড়ি মিলে তাকে মানুষিক ও শারিরিক নির্যাতন করতে থাকে। অন্য দিকে সংসারের অভাব অনাটন লেগেই আছে। সংসার সামলাতে স্ত্রীকে যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে স্বামী আব্দুল কুদ্দুস গাজী। গরীব পিতা যৌতুকের টাকা যোগাড় না করতে পারায় সম্প্রতি যৌতুক লোভী স্বামী(মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষাক) আব্দুল কুদ্দুস, দেবর ও শাশুড়ি তাঁকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় অসহায় স্ত্রী মুর্শিদা খাতুন সঠিক তদন্ত ও ন্যায় বিচার চেয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এই বিষয়ে আব্দুল কুদ্দুসের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি পারিবারিক বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম আরাফাত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ পেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।