Dhaka ০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরে প্রতিবন্ধী শিশু মুস্তাকিমের হুইলচেয়ার পাওয়ার আকুতি

কেশবপুর উপজেলার শেখপুরা গ্রামের দিনমজুরের ছেলে জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী শিশু মুস্তাকিম (১২) একটি হুইলচেয়ার পাওয়ার জন্য আকুতি জানিয়েছেন। সমাজের বিত্তবান ও সম্পদশালী ব্যক্তি একটি হুইলচেয়ার প্রদান করে তাহলে তার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকবে শিশু মুস্তাকিম ও তার পরিবার। আমরা কি পারিনা! আত্মমানবতার সেবায় এগিয়ে এসে শিশু মুস্তাকিমের মুখের হাসি ফিরিয়ে দিতে।

জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার ২নং সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের শেখপুরা গ্রামের দিনমজুর মিজানুর রহমান এর ছেলে মুস্তাকিম হাসান (১২) জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। শিশু মুস্তাকিমের হাত-পা চিকন ও বাঁকা হওয়ায় হামাগুড়ি দিয়েও চলাফেরা করতে পারে না, এমনকি হাত দিয়ে মুখে খাবার পর্যন্ত তুলে খেতে পারে না। জন্মের পর থেকে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠায় প্রতিবন্ধী শিশুকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন হতদরিদ্র পিতা-মাতা। পিতা দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। জরাজীর্ণ মাটির ঘরে তাদের বসবাস। অল্প উপার্জনে সংসার চলে অভাব-অনাটনের মধ্যে দিয়ে। দ্রারিদ্রতার কষাঘাতে দিনমজুর পিতার পক্ষে প্রতিবন্ধী পুত্রের জন্য একটি হুইলচেয়ার কিনে দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের কাছে প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য অসহায় পিতামাতা একটি হুইল চেয়ারের সহযোগিতা চেয়েও সেটি পাইনি, পেয়েছে শুধুই আশ্বাস। শুধুমাত্র একটি হুইল চেয়ার হলেই প্রতিবন্ধী মুস্তাকিমের জীবনের অনেকটা কষ্ট কমে যাবে। চলাফেরা করার জন্য একটি হুইল চেয়ারের আকুতি জানান শিশু প্রতিবন্ধী মুস্তাকিম ও তার পরিবার।

ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা কেশবপুর উপজেলা শাখার উদ্দ্যোগে বুধবার (২৫ মে) উপজেলার শেখপুরা গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ সামগ্রী বিতরণ করতে গেলে দেখা মেলে রাস্তার পাশে একটি চেয়ারে বসে থাকা প্রতিবন্ধী শিশু মুস্তাকিমের। ওই সময় তাকে দেখে মোটরসাইকেল থেকে নামার সাথে সাথেই মুস্তাকিম বলতে থাকে আমার একটা গাড়ী চাই, আমার গাড়ি চাই, আমি গাড়ি চড়বো। তার আকুতি শুনে খুবই খারাপ লাগলো। এমন একটি নির্মম কাহিনী দেখে তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য কাছে গেলেই শিশু মুস্তাকিম নীরবে কাঁদতে থাকে, কোন ভাবেই কান্না থামেনা, কি করবো হুইলচেয়ার জন্য আশ্বাস প্রদান করা হলো এবং সামান্য কিছু টাকা দিয়ে মুখের হাসিটা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করা হয়।

শিশু প্রতিবন্ধী মুস্তাকিম এর বিষয়টি সত্যিই হৃদয় বিদারক হওয়ায় তাৎক্ষনিকভাবে ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি’র পক্ষ থেকে এমন একজন প্রতিবন্ধীর জন্য মানবতার দৃষ্টিতে একটি হুইলচেয়ারের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন এর নিকট সবিনয়ে অনুরোধ করা হয় এবং অনুরোধ এর ভিত্তিতে তিনি খুব দ্রুত শিশু প্রতিবন্ধী মুস্তাকিমকে একটি হুইলচেয়ার দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেছেন।

প্রতিবন্ধী শিশু মুস্তাকিমের পিতা মিজানুর রহমান ও মাতা বলেন, জন্ম থেকেই আমার ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আমার ছেলে প্রতিবন্ধী হলেও স্বামী-স্ত্রী মিলে তার কখনো অযত্ন বা অবহেলা করিনি। ছেলেটা ধীরে ধীরে বড় হওয়ায় অনেক কষ্ট হয় এখন তাকে নিয়ে চলাফেরা করতে। সংসারে অভাব অনাটন থাকায় ছেলেটির একটি হুইলচেয়ার কিনে দেওয়ার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের কাছে প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য একটি হুইল চেয়ারের সহযোগিতা চেয়েছি, কিন্তু আজও পাইনি, পেয়েছি শুধুই আশ্বাস। একটা হুইলচেয়ার পেলে ছেলের চলাফেরা ও আমাদের অনেকটা কষ্ট কম হবে।

এ ব্যাপারে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু মুস্তাকিমের বিষয়টি খুবই মানবিক। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে একটা হুইলচেয়ার প্রদান করা হবে। প্রতিবন্ধী, অসহায় মানুষের জন্য উপজেলা প্রশাসনের এমন ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

Tag :
About Author Information

admin

জনপ্রিয়

​রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর হামলা, ২ আসামি গ্রেপ্তার

error: Content is protected !!

কেশবপুরে প্রতিবন্ধী শিশু মুস্তাকিমের হুইলচেয়ার পাওয়ার আকুতি

Update Time : ০৯:৫১:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মে ২০২২

কেশবপুর উপজেলার শেখপুরা গ্রামের দিনমজুরের ছেলে জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী শিশু মুস্তাকিম (১২) একটি হুইলচেয়ার পাওয়ার জন্য আকুতি জানিয়েছেন। সমাজের বিত্তবান ও সম্পদশালী ব্যক্তি একটি হুইলচেয়ার প্রদান করে তাহলে তার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ থাকবে শিশু মুস্তাকিম ও তার পরিবার। আমরা কি পারিনা! আত্মমানবতার সেবায় এগিয়ে এসে শিশু মুস্তাকিমের মুখের হাসি ফিরিয়ে দিতে।

জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলার ২নং সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের শেখপুরা গ্রামের দিনমজুর মিজানুর রহমান এর ছেলে মুস্তাকিম হাসান (১২) জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। শিশু মুস্তাকিমের হাত-পা চিকন ও বাঁকা হওয়ায় হামাগুড়ি দিয়েও চলাফেরা করতে পারে না, এমনকি হাত দিয়ে মুখে খাবার পর্যন্ত তুলে খেতে পারে না। জন্মের পর থেকে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠায় প্রতিবন্ধী শিশুকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন হতদরিদ্র পিতা-মাতা। পিতা দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। জরাজীর্ণ মাটির ঘরে তাদের বসবাস। অল্প উপার্জনে সংসার চলে অভাব-অনাটনের মধ্যে দিয়ে। দ্রারিদ্রতার কষাঘাতে দিনমজুর পিতার পক্ষে প্রতিবন্ধী পুত্রের জন্য একটি হুইলচেয়ার কিনে দেওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের কাছে প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য অসহায় পিতামাতা একটি হুইল চেয়ারের সহযোগিতা চেয়েও সেটি পাইনি, পেয়েছে শুধুই আশ্বাস। শুধুমাত্র একটি হুইল চেয়ার হলেই প্রতিবন্ধী মুস্তাকিমের জীবনের অনেকটা কষ্ট কমে যাবে। চলাফেরা করার জন্য একটি হুইল চেয়ারের আকুতি জানান শিশু প্রতিবন্ধী মুস্তাকিম ও তার পরিবার।

ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা কেশবপুর উপজেলা শাখার উদ্দ্যোগে বুধবার (২৫ মে) উপজেলার শেখপুরা গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ সামগ্রী বিতরণ করতে গেলে দেখা মেলে রাস্তার পাশে একটি চেয়ারে বসে থাকা প্রতিবন্ধী শিশু মুস্তাকিমের। ওই সময় তাকে দেখে মোটরসাইকেল থেকে নামার সাথে সাথেই মুস্তাকিম বলতে থাকে আমার একটা গাড়ী চাই, আমার গাড়ি চাই, আমি গাড়ি চড়বো। তার আকুতি শুনে খুবই খারাপ লাগলো। এমন একটি নির্মম কাহিনী দেখে তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য কাছে গেলেই শিশু মুস্তাকিম নীরবে কাঁদতে থাকে, কোন ভাবেই কান্না থামেনা, কি করবো হুইলচেয়ার জন্য আশ্বাস প্রদান করা হলো এবং সামান্য কিছু টাকা দিয়ে মুখের হাসিটা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করা হয়।

শিশু প্রতিবন্ধী মুস্তাকিম এর বিষয়টি সত্যিই হৃদয় বিদারক হওয়ায় তাৎক্ষনিকভাবে ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি’র পক্ষ থেকে এমন একজন প্রতিবন্ধীর জন্য মানবতার দৃষ্টিতে একটি হুইলচেয়ারের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন এর নিকট সবিনয়ে অনুরোধ করা হয় এবং অনুরোধ এর ভিত্তিতে তিনি খুব দ্রুত শিশু প্রতিবন্ধী মুস্তাকিমকে একটি হুইলচেয়ার দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেছেন।

প্রতিবন্ধী শিশু মুস্তাকিমের পিতা মিজানুর রহমান ও মাতা বলেন, জন্ম থেকেই আমার ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আমার ছেলে প্রতিবন্ধী হলেও স্বামী-স্ত্রী মিলে তার কখনো অযত্ন বা অবহেলা করিনি। ছেলেটা ধীরে ধীরে বড় হওয়ায় অনেক কষ্ট হয় এখন তাকে নিয়ে চলাফেরা করতে। সংসারে অভাব অনাটন থাকায় ছেলেটির একটি হুইলচেয়ার কিনে দেওয়ার মতো সামর্থ্য আমাদের নেই। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষের কাছে প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য একটি হুইল চেয়ারের সহযোগিতা চেয়েছি, কিন্তু আজও পাইনি, পেয়েছি শুধুই আশ্বাস। একটা হুইলচেয়ার পেলে ছেলের চলাফেরা ও আমাদের অনেকটা কষ্ট কম হবে।

এ ব্যাপারে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু মুস্তাকিমের বিষয়টি খুবই মানবিক। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে একটা হুইলচেয়ার প্রদান করা হবে। প্রতিবন্ধী, অসহায় মানুষের জন্য উপজেলা প্রশাসনের এমন ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।