Dhaka ০৫:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শ্যামনগরে বাবার মৃত্যুর ২ বছর পর জম্ম ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরীর অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২০
  • ৯২২ Time View

মামুনুর রশিদ

শ্যামনগর(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধিঃ শ্যামনগরে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে মামুনুর রশিদ নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারী চাকরী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাদঘাটা গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের পুত্র তিনি। শ্যামনগর সদর ইউপি সদস্য শেখ মাসুদুর রহমান ও মলয় কুমার গায়েন ঝন্টু ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগে উল্লেখ করেন যে, শিক্ষক মামুনুর রশিদ দীর্ঘদিন যাবৎ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয়ে কতিপয় সন্ত্রাসী শ্রেনীর লোক নিয়ে অত্র এলাকার ভূমি দখল, দালালি ও চাকরী প্রদানের নামে অর্থ আত্মসাৎ সহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত আছে। তার জম্ম তারিখ ০৩/০৪/১৯৮১ পক্ষান্তরে তার পিতার (মুক্তিযোদ্ধা) মৃত্যু তারিখ ১২/০৬/১৯৭৯ সেই হিসাবে তার পিতার মৃত্যুর প্রায় ২২মাস পরে তিনি জম্মগ্রহন করেছেন। আবেদনকারীরা জানান,তার নিকট আত্মীয় স্বজন সহ তার আপন মামা মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক এর বক্তব্য পর্যালোচনা করে ঐ শিক্ষকের পিতার মুক্তিযোদ্ধার সনদে সঠিকতা অত্যন্ত সন্দেহপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তদপরি প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তার পিতা মৃত আবুল কাশেম কে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকার করেন না। উক্ত মামুনুর রশিদ আগদাড়ি মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন এবং মাদ্রাসায় পড়াকালীন সময়ে শিবিরের রাজনীতির সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন তিনি প্রকৃতপক্ষে একটা স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের সদস্য। তার কাজকর্ম বর্তমান সরকারের নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি প্রায়শই তার মামা মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক এর মসজিদে স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে বৈঠক করে থাকেন।

শ্যামনগর থানার ৫৮ নং যাদবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনি বর্তমানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য থেকে জানা যায় যে, তিনি আদৌ তার দ্বায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননা। অধিকাংশ সময়ে উপজেলা সদরে বিভিন্ন দালালি কাজে লিপ্ত থাকেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিভাগীয় মামলা মামলা রুজু হয়েছে। বর্তমানে তিনি অবৈধভাবে নব্য কোটিপতিতে উন্নীত হয়েছে। অভিযোগকরীরা দরখাস্তে আরো উল্লেখ করেছেন শিক্ষক মামুনুর রশিদ কর্মরত বিদ্যালয়ে ৫ ম শ্রেনীর এক ছাত্রীর সাথে যৌন হয়রানীর অভিযোগে অভিযুক্ত হয়। তিনি প্রায়ই তার ফেসবুক আইডিতে প্রধান শিক্ষক সহ উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করে থাকেন। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্ননে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, সেখানে জামাত বিএনপির সময়ে শিবির ক্যাডার পরিচয় দিয়ে মামুন এরুপ ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়ে বর্তমানে অবৈধভাবে চাকুরী করে আসছেন। অভিযোগকারীরা ইতিমধ্যে সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রগহের জন্য
মাননীয় সিনিয়র সচিব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়,মহাপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর,
চেয়ারম্যান দূর্নীতি দমন কমিশন সেগুনবাগিচা ঢাকা,
আঞ্চলিক পরিচালক দূর্নীতি দমন কমিশন খূলনা,
বিভাগীয় উপ পরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা,খূলনা বিভাগ,খূলনা,উপজেলা নির্বাহী অফিসার,শ্যামনগর, সাতক্ষীরা,উপজেলা শিক্ষা অফিসার, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা নিকট দরখাস্ত প্রেরণ করে উক্ত শিক্ষকের ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল সহ বিভাগীয়/ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

Tag :
About Author Information

admin

জনপ্রিয়

​রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব সভাপতির ওপর হামলা, ২ আসামি গ্রেপ্তার

error: Content is protected !!

শ্যামনগরে বাবার মৃত্যুর ২ বছর পর জম্ম ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরীর অভিযোগ

Update Time : ০২:৫৭:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২০

শ্যামনগর(সাতক্ষীরা)প্রতিনিধিঃ শ্যামনগরে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে মামুনুর রশিদ নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারী চাকরী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাদঘাটা গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের পুত্র তিনি। শ্যামনগর সদর ইউপি সদস্য শেখ মাসুদুর রহমান ও মলয় কুমার গায়েন ঝন্টু ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগে উল্লেখ করেন যে, শিক্ষক মামুনুর রশিদ দীর্ঘদিন যাবৎ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয়ে কতিপয় সন্ত্রাসী শ্রেনীর লোক নিয়ে অত্র এলাকার ভূমি দখল, দালালি ও চাকরী প্রদানের নামে অর্থ আত্মসাৎ সহ বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত আছে। তার জম্ম তারিখ ০৩/০৪/১৯৮১ পক্ষান্তরে তার পিতার (মুক্তিযোদ্ধা) মৃত্যু তারিখ ১২/০৬/১৯৭৯ সেই হিসাবে তার পিতার মৃত্যুর প্রায় ২২মাস পরে তিনি জম্মগ্রহন করেছেন। আবেদনকারীরা জানান,তার নিকট আত্মীয় স্বজন সহ তার আপন মামা মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক এর বক্তব্য পর্যালোচনা করে ঐ শিক্ষকের পিতার মুক্তিযোদ্ধার সনদে সঠিকতা অত্যন্ত সন্দেহপূর্ণ বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তদপরি প্রকৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার তার পিতা মৃত আবুল কাশেম কে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকার করেন না। উক্ত মামুনুর রশিদ আগদাড়ি মাদ্রাসার ছাত্র ছিলেন এবং মাদ্রাসায় পড়াকালীন সময়ে শিবিরের রাজনীতির সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন তিনি প্রকৃতপক্ষে একটা স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের সদস্য। তার কাজকর্ম বর্তমান সরকারের নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। তিনি প্রায়শই তার মামা মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক এর মসজিদে স্বাধীনতা বিরোধীদের নিয়ে বৈঠক করে থাকেন।

শ্যামনগর থানার ৫৮ নং যাদবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনি বর্তমানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য থেকে জানা যায় যে, তিনি আদৌ তার দ্বায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননা। অধিকাংশ সময়ে উপজেলা সদরে বিভিন্ন দালালি কাজে লিপ্ত থাকেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিভাগীয় মামলা মামলা রুজু হয়েছে। বর্তমানে তিনি অবৈধভাবে নব্য কোটিপতিতে উন্নীত হয়েছে। অভিযোগকরীরা দরখাস্তে আরো উল্লেখ করেছেন শিক্ষক মামুনুর রশিদ কর্মরত বিদ্যালয়ে ৫ ম শ্রেনীর এক ছাত্রীর সাথে যৌন হয়রানীর অভিযোগে অভিযুক্ত হয়। তিনি প্রায়ই তার ফেসবুক আইডিতে প্রধান শিক্ষক সহ উর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করে থাকেন। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্ননে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, সেখানে জামাত বিএনপির সময়ে শিবির ক্যাডার পরিচয় দিয়ে মামুন এরুপ ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ নিয়ে বর্তমানে অবৈধভাবে চাকুরী করে আসছেন। অভিযোগকারীরা ইতিমধ্যে সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রগহের জন্য
মাননীয় সিনিয়র সচিব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়,মহাপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর,
চেয়ারম্যান দূর্নীতি দমন কমিশন সেগুনবাগিচা ঢাকা,
আঞ্চলিক পরিচালক দূর্নীতি দমন কমিশন খূলনা,
বিভাগীয় উপ পরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা,খূলনা বিভাগ,খূলনা,উপজেলা নির্বাহী অফিসার,শ্যামনগর, সাতক্ষীরা,উপজেলা শিক্ষা অফিসার, শ্যামনগর, সাতক্ষীরা নিকট দরখাস্ত প্রেরণ করে উক্ত শিক্ষকের ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল সহ বিভাগীয়/ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের আকুল আবেদন জানিয়েছেন।