Dhaka ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​আনন্দ-উচ্ছ্বাসে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের পারিবারিক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪০৮ Time View

শীতের স্নিগ্ধ সকালে কুয়াশার চাদর ভেদ করে ছুটে চলা। গন্তব্য উত্তরের পুণ্যভূমি বগুড়া। উদ্দেশ্য—পেশাগত জীবনের ব্যস্ততা একপাশে সরিয়ে রেখে সহকর্মী ও পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এমনই এক আনন্দঘন পরিবেশে বগুড়ার ‘মম ইন’ পার্কে অনুষ্ঠিত হলো রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের বার্ষিক পারিবারিক মিলনমেলা-২০২৬।

​দিনভর নানা আয়োজন, হাসি-ঠাট্টা আর বনভোজনের আমেজে মুখরিত ছিল পার্ক প্রাঙ্গণ।

​১০২ জন সদস্য নিয়ে গঠিত এই ক্লাবটি তাদের ঐক্য ও পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এই আয়োজন করে। প্রেসক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের সদস্যরাও এই আনন্দে শরিক হন।

সকাল থেকেই শুরু হয় উৎসবের আমেজ। পার্কের মনোরম পরিবেশে শিশুদের জন্য ছিল বিভিন্ন রাইডে চড়ার সুযোগ। আর বড়রা মেতে ওঠেন আড্ডা ও স্মৃতিচারণে।

​দুপুরের খাবারের পর বিকেলে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। সারাক্ষণ খবরের পেছনে ছুটতে গিয়ে পরিবারকে খুব একটা সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। এ ধরনের আয়োজন সহকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক হৃদ্যতা বাড়াতে এবং ক্লান্তি দূর করতে টনিক হিসেবে কাজ করে।

​অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক কাজী শাহেদ। তিনি বলেন, “রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের কর্মপদ্ধতি ও সদস্যদের মধ্যকার আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করে। এইজন্য আমি এই ক্লাবের উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত আছি। এই ক্লাবের প্রতিটি সদস্য একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, যা অন্য অনেক সংগঠনের জন্য অনুকরণীয়। তাদের এই পারিবারিক আবহ সত্যিই বিরল এবং প্রশংসার দাবি রাখে।”

​রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম জানান, এ ধরনের আয়োজন কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি সহকর্মীদের মধ্যে পেশাগত বিদ্বেষ বা দূরত্ব ঘুচিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে। একটি ঐক্যবদ্ধ প্রেসক্লাবই পারে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে।

সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করেন, পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করার যে নজির রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব স্থাপন করেছে, তা দেশের সাংবাদিক মহলে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।

​অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

পড়ন্ত বিকেলে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয় এই আনন্দযাত্রা। তবে ফেরার পথে সবার চোখেমুখে ছিল প্রশান্তি আর একরাশ রঙিন স্মৃতি।

Tag :
About Author Information

admin

জনপ্রিয়

রাজশাহীর পবায় অনুমতি ছাড়াই সরকারি গাছের ডাল কাটার অভিযোগ, স্থানীয়দের ক্ষোভ

​আনন্দ-উচ্ছ্বাসে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের পারিবারিক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

Update Time : ০৩:৫৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

শীতের স্নিগ্ধ সকালে কুয়াশার চাদর ভেদ করে ছুটে চলা। গন্তব্য উত্তরের পুণ্যভূমি বগুড়া। উদ্দেশ্য—পেশাগত জীবনের ব্যস্ততা একপাশে সরিয়ে রেখে সহকর্মী ও পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানো।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) এমনই এক আনন্দঘন পরিবেশে বগুড়ার ‘মম ইন’ পার্কে অনুষ্ঠিত হলো রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের বার্ষিক পারিবারিক মিলনমেলা-২০২৬।

​দিনভর নানা আয়োজন, হাসি-ঠাট্টা আর বনভোজনের আমেজে মুখরিত ছিল পার্ক প্রাঙ্গণ।

​১০২ জন সদস্য নিয়ে গঠিত এই ক্লাবটি তাদের ঐক্য ও পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এই আয়োজন করে। প্রেসক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের সদস্যরাও এই আনন্দে শরিক হন।

সকাল থেকেই শুরু হয় উৎসবের আমেজ। পার্কের মনোরম পরিবেশে শিশুদের জন্য ছিল বিভিন্ন রাইডে চড়ার সুযোগ। আর বড়রা মেতে ওঠেন আড্ডা ও স্মৃতিচারণে।

​দুপুরের খাবারের পর বিকেলে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা একটি চ্যালেঞ্জিং পেশা। সারাক্ষণ খবরের পেছনে ছুটতে গিয়ে পরিবারকে খুব একটা সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। এ ধরনের আয়োজন সহকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক হৃদ্যতা বাড়াতে এবং ক্লান্তি দূর করতে টনিক হিসেবে কাজ করে।

​অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা ও সিনিয়র সাংবাদিক কাজী শাহেদ। তিনি বলেন, “রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের কর্মপদ্ধতি ও সদস্যদের মধ্যকার আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করে। এইজন্য আমি এই ক্লাবের উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত আছি। এই ক্লাবের প্রতিটি সদস্য একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, যা অন্য অনেক সংগঠনের জন্য অনুকরণীয়। তাদের এই পারিবারিক আবহ সত্যিই বিরল এবং প্রশংসার দাবি রাখে।”

​রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল করিম ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম জানান, এ ধরনের আয়োজন কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং এটি সহকর্মীদের মধ্যে পেশাগত বিদ্বেষ বা দূরত্ব ঘুচিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করে। একটি ঐক্যবদ্ধ প্রেসক্লাবই পারে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে।

সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করেন, পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করার যে নজির রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব স্থাপন করেছে, তা দেশের সাংবাদিক মহলে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।

​অনুষ্ঠানে প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ সদস্য ও তাঁদের পরিবারের প্রায় দুই শতাধিক ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।

পড়ন্ত বিকেলে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয় এই আনন্দযাত্রা। তবে ফেরার পথে সবার চোখেমুখে ছিল প্রশান্তি আর একরাশ রঙিন স্মৃতি।