Dhaka ০৩:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরে হরিহর নদের বুকে ভাসমান বেডে সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষাণ-কৃষাণী

কেশবপুরে হরিহর নদের বুকে ভাসমান বেডে সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন একদল কৃষাণ-কৃষাণী। যাদের বসতভিটা ছাড়া জমি নেই এমন কিছু কৃষাণ-কৃষাণী ওই নদীর শেওলা দিয়ে ধাপ তৈরি করে তার ওপর বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদ করেছেন।
সরোজমিন দেখা যায়, সবজি বেডে চাষ করা হয়েছে লাল শাক, সবুজ শাক, পুইশাক, ডাটা শাক, পালন শাক, মিষ্টি কুমড়া, কচু শাক, পেয়াজ, রসুন এবং ভাসমান বেডের ওপর মাচা (বান) করে লাউ ও চাল কুমড়ার চাষ করা হয়েছে। তাদের সবজি বেড পরিচর্যা করার করার জন্য ২টি ডোঙ্গা নৌকা দিয়েছে কৃষি বিভাগ।কৃষক নীল রতন বিশ্বাস জানান, সংসারের প্রয়োজন মিটিয়েও অতিরিক্ত সবজি বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।জানা গেছে, হরিহর নদে শেওলায় পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। ওই নদীর তীরবর্তী মধ্যকুল রাজবংশী পাড়ার জেলেরা নদীতে মাছ শিকার করতে ব্যর্থ হয়ে বেকার হয়ে পড়েন। এ সময় ওই নদীর শেওলাকে কাজে লাগিয়ে সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি বিভাগ একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। কৃষি বিভাগ ভাসমান বেডে সবজি চাষের ওপর মধ্যকুল রাজবংশী পাড়ার শতাধিক জন কৃষক-কৃষাণিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মধ্যকুল ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনাথ বন্ধু দাস জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকরা নদীর শেওলা প্রথমে স্তুপ করে রাখেন। শেওলা পঁচে ধাপ তৈরি হলে তার ওপর দেওয়া হয় ভার্মি কমপোস্ট। এরপর সবজির বীজ বপণ করা হয়। প্রতিজন কৃষক ৩৬ টি বেড তৈরি করে তার ওপর সবজি চাষ করেছেন। পর্যায়ক্রমে আরো সবজি বেড তৈরি করার প্রস্তুতি চলছে।রাজবংশী পাড়ার পারুল বিশ্বাস জানান, তিনি ওই নদীতে তিনটি ভাসমান বেড করেছেন। তাতে লাল শাক, সবুজ শাক, পুঁইশাক, ডাটা শাক এবং ভাসমান বেডের ওপর মাচা (বান) করে লাউ ও চাল কুমড়ার চাষ করেছেন। এতে তিনি সংসারের প্রয়োজন মিটিয়ে অতিরিক্ত সবজি বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, যাদের কৃষি জমি নেই তারা এই পদ্ধতিতে সবজি আবাদ করলে লাভবান হবেন। কোন প্রকার কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই তিনি বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছেন। মধ্যকুল রাজবংশী পাড়ায় সবজি আবাদের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি বিভাগ ভাসমান বেডে সবজি ও মশলা চাষ গবেষণা, সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণশীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

Tag :
About Author Information

admin

জনপ্রিয়

​রাজশাহীতে আব্দুল্লাহ মোটর্সের ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

error: Content is protected !!

কেশবপুরে হরিহর নদের বুকে ভাসমান বেডে সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষাণ-কৃষাণী

Update Time : ০৯:২০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২২

কেশবপুরে হরিহর নদের বুকে ভাসমান বেডে সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন একদল কৃষাণ-কৃষাণী। যাদের বসতভিটা ছাড়া জমি নেই এমন কিছু কৃষাণ-কৃষাণী ওই নদীর শেওলা দিয়ে ধাপ তৈরি করে তার ওপর বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদ করেছেন।
সরোজমিন দেখা যায়, সবজি বেডে চাষ করা হয়েছে লাল শাক, সবুজ শাক, পুইশাক, ডাটা শাক, পালন শাক, মিষ্টি কুমড়া, কচু শাক, পেয়াজ, রসুন এবং ভাসমান বেডের ওপর মাচা (বান) করে লাউ ও চাল কুমড়ার চাষ করা হয়েছে। তাদের সবজি বেড পরিচর্যা করার করার জন্য ২টি ডোঙ্গা নৌকা দিয়েছে কৃষি বিভাগ।কৃষক নীল রতন বিশ্বাস জানান, সংসারের প্রয়োজন মিটিয়েও অতিরিক্ত সবজি বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।জানা গেছে, হরিহর নদে শেওলায় পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। ওই নদীর তীরবর্তী মধ্যকুল রাজবংশী পাড়ার জেলেরা নদীতে মাছ শিকার করতে ব্যর্থ হয়ে বেকার হয়ে পড়েন। এ সময় ওই নদীর শেওলাকে কাজে লাগিয়ে সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি বিভাগ একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। কৃষি বিভাগ ভাসমান বেডে সবজি চাষের ওপর মধ্যকুল রাজবংশী পাড়ার শতাধিক জন কৃষক-কৃষাণিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মধ্যকুল ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অনাথ বন্ধু দাস জানান, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকরা নদীর শেওলা প্রথমে স্তুপ করে রাখেন। শেওলা পঁচে ধাপ তৈরি হলে তার ওপর দেওয়া হয় ভার্মি কমপোস্ট। এরপর সবজির বীজ বপণ করা হয়। প্রতিজন কৃষক ৩৬ টি বেড তৈরি করে তার ওপর সবজি চাষ করেছেন। পর্যায়ক্রমে আরো সবজি বেড তৈরি করার প্রস্তুতি চলছে।রাজবংশী পাড়ার পারুল বিশ্বাস জানান, তিনি ওই নদীতে তিনটি ভাসমান বেড করেছেন। তাতে লাল শাক, সবুজ শাক, পুঁইশাক, ডাটা শাক এবং ভাসমান বেডের ওপর মাচা (বান) করে লাউ ও চাল কুমড়ার চাষ করেছেন। এতে তিনি সংসারের প্রয়োজন মিটিয়ে অতিরিক্ত সবজি বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, যাদের কৃষি জমি নেই তারা এই পদ্ধতিতে সবজি আবাদ করলে লাভবান হবেন। কোন প্রকার কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই তিনি বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন করছেন। মধ্যকুল রাজবংশী পাড়ায় সবজি আবাদের লক্ষ্যে উপজেলা কৃষি বিভাগ ভাসমান বেডে সবজি ও মশলা চাষ গবেষণা, সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয়করণশীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে।