Dhaka ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর প্রভাবে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, কৈখালী, মুন্সিগঞ্জ ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে মঙ্গলবার বিকেল থেকে বেড়িবাঁধ ভেঙে এবং বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি উঠেছে। স্থানীয় লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কারের আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছে। দুপুর থেকে দমকা হাওয়ার সাথে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হচ্ছে। সময় যতোই বাড়ছে ততোই চারিদিকে অন্ধকারাচ্ছন্ন হচ্ছে। নদীর পানি প্রায় তিন ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে আনার আগাম ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা বহনযোগ্য সম্পদ নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাবার জন্য প্রস্তুতও নিয়েছে।

উপকূল এলাকা আশাশুনির প্রতাপনগর, শ্রীউলা, আনুলিয়া, খাজরা এবং শ্যামনগরের পদ্মপুকুর, গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী,আটুলিয়া,কৈখালি,ঈশ্বরীপুর,রমজাননগর, কাশিমারিসহ সুন্দরবন লাগোয়া মুন্সিগঞ্জ হরিনগর এলাকায় মাইকিং করে জনগনকে সতর্ক করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন জানিয়েছে ১৪৫ টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। দেড় হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত করা হয়েছে মানুষের আশ্রয়ের জন্য। এর মধ্যে শ্যামনগর উপজেলার ১০৩ টি আশ্রয়কেন্দ্রের ধারন ক্ষমতা ৭৫ হাজার বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ ন ম আবু জার গিফারি। এ ছাড়াও জেলায় দেড় হাজার স্কুল কলেজ মাদ্রাসাও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। কোভিড পিরিয়ডে নিরাপত্তা বজায় রেখে তাদের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে বলেও জানান ইউএনও।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধগুলি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এছাড়া শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার বেড়িবাঁধের ৫৫ টি পয়েন্ট অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ অবস্থায়। পূর্নিমার ভরাকাটাল ও পূর্নচন্দ্র গ্রহনের সময় ইয়াস এর দাপটে জলোচ্ছাসের আশংকা করছেন উপকূলবাসী। এর ফলে বেড়িবাঁধগুলি ভেঙ্গে পানিতে সয়লাব হতে পারে উপকূলের বিভিন্ন জনপদ।
এদিকে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বন বিভাগের ৮ টি টহল ফাঁড়ির সব সদস্যকে নিরাপদে সরে যাবার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সহকারি বন সংরক্ষক এম এ হাসান বলেন ইয়াস আঘাত করলে এবং অস্বাভাবিক জলোচ্ছাস হলে তাদেরকে উদ্ধার করে আনার জন্য নৌযানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

Tag :
About Author Information

admin

জনপ্রিয়

কেশরহাটে জিয়াউর পরিবারের জন্য মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও ইফতার মাহফিল

error: Content is protected !!

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে

Update Time : ০১:০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ মে ২০২১

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস এর প্রভাবে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, কৈখালী, মুন্সিগঞ্জ ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নের কয়েকটি স্থানে মঙ্গলবার বিকেল থেকে বেড়িবাঁধ ভেঙে এবং বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি উঠেছে। স্থানীয় লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কারের আপ্রান চেষ্টা করে যাচ্ছে। দুপুর থেকে দমকা হাওয়ার সাথে মাঝে মাঝে বৃষ্টি হচ্ছে। সময় যতোই বাড়ছে ততোই চারিদিকে অন্ধকারাচ্ছন্ন হচ্ছে। নদীর পানি প্রায় তিন ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে আনার আগাম ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা বহনযোগ্য সম্পদ নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাবার জন্য প্রস্তুতও নিয়েছে।

উপকূল এলাকা আশাশুনির প্রতাপনগর, শ্রীউলা, আনুলিয়া, খাজরা এবং শ্যামনগরের পদ্মপুকুর, গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী,আটুলিয়া,কৈখালি,ঈশ্বরীপুর,রমজাননগর, কাশিমারিসহ সুন্দরবন লাগোয়া মুন্সিগঞ্জ হরিনগর এলাকায় মাইকিং করে জনগনকে সতর্ক করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন জানিয়েছে ১৪৫ টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। দেড় হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তুত করা হয়েছে মানুষের আশ্রয়ের জন্য। এর মধ্যে শ্যামনগর উপজেলার ১০৩ টি আশ্রয়কেন্দ্রের ধারন ক্ষমতা ৭৫ হাজার বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ ন ম আবু জার গিফারি। এ ছাড়াও জেলায় দেড় হাজার স্কুল কলেজ মাদ্রাসাও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। কোভিড পিরিয়ডে নিরাপত্তা বজায় রেখে তাদের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে বলেও জানান ইউএনও।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধগুলি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এছাড়া শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার বেড়িবাঁধের ৫৫ টি পয়েন্ট অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ অবস্থায়। পূর্নিমার ভরাকাটাল ও পূর্নচন্দ্র গ্রহনের সময় ইয়াস এর দাপটে জলোচ্ছাসের আশংকা করছেন উপকূলবাসী। এর ফলে বেড়িবাঁধগুলি ভেঙ্গে পানিতে সয়লাব হতে পারে উপকূলের বিভিন্ন জনপদ।
এদিকে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বন বিভাগের ৮ টি টহল ফাঁড়ির সব সদস্যকে নিরাপদে সরে যাবার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সহকারি বন সংরক্ষক এম এ হাসান বলেন ইয়াস আঘাত করলে এবং অস্বাভাবিক জলোচ্ছাস হলে তাদেরকে উদ্ধার করে আনার জন্য নৌযানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।