
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কালিনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক অতিথি শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শ্রেণিকক্ষে ফেরার পথে ওই শিক্ষার্থীকে চুল ধরে টানা, দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে আঘাত এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীর অভিভাবক জেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ক্ষমতার অপব্যবহার ও গোপনীয়তার চেষ্টার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এক নজরে ঘটনার সারসংক্ষেপ:-
- ঘটনার স্থান: কালিনগর উচ্চ বিদ্যালয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর।
- ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী: মো. আরাফাত রহমান (অষ্টম শ্রেণি, ‘ক’ শাখা)।
- অভিযুক্ত শিক্ষক: মো. কাওসার আযম (অতিথি শিক্ষক)।
- প্রধান অভিযুক্তের ভূমিকা: চুল ধরে টানা, দেয়ালের সঙ্গে চেপে আঘাত এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন।
- চিকিৎসা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতাল হয়ে পরবর্তীতে রাজশাহী ইসলামী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা।
পানি পান করে ফেরার পথে মারধরের অভিযোগ:-
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে বৃত্তি ক্লাসের বিরতিতে পানি পান করতে শ্রেণিকক্ষের বাইরে যায় আরাফাত। পানি পান শেষে ফেরার সময় শ্রেণিশিক্ষক মো. মতিউর রহমানকে দেখে ভয় পেয়ে দ্রুত কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করে সে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো ধরনের কারণ বা ব্যাখ্যা না চেয়ে অতিথি শিক্ষক কাওসার আযম পেছন থেকে তাকে ধরে মারধর শুরু করেন। এ সময় তার মাথার চুল ধরে টানা, দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে মাথা ও শরীরে আঘাত করা হয়। এমনকি ‘তোর কলিজা টেনে বের করব’ বলে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
শারীরিক অবনতি ও হাসপাতালে ভর্তি:-
বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পর আরাফাতের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী ইসলামী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট তিনি অচেতন ছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রধান শিক্ষকের রাজনৈতিক পরিচয়, গোপনীয়তার নির্দেশ ও ভূমিকা:-
- রাজনৈতিক পরিচয়: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান একই সঙ্গে ওই ইউনিয়ন পরিষদের একজন চেয়ারম্যান ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে তিনি দলটির একজন প্রভাবশালী ক্যাডার বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং সেই ক্ষমতার জোরে প্রতিষ্ঠানে একক আধিপত্য বজায় রেখে আসছিলেন।
- গোপনীয়তার চেষ্টা: ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান বিষয়টি বাইরে প্রকাশ না করে ‘অ্যাসেম্বলিতে মাথা ঘুরে পড়ে গেছে’ বলে প্রচার করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকরা। এছাড়া হাসপাতালে দেখতে আসা সহপাঠীদেরও ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
- শিক্ষক বরখাস্ত: প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান ঘটনা সম্পর্কে অবগত থাকার কথা স্বীকার করলেও অভিযুক্ত অতিথি শিক্ষক কাওসার আযমকে মৌখিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা যায়; তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ও লিখিত বরখাস্তের নথি এখনো পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও অভিভাবকের উদ্বেগ:-
ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুল মতিন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি কর্মকর্তাদের নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে শিক্ষার্থীকে দেখে এসেছেন। বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে একজন বিতর্কিত রাজনৈতিক ক্যাডার ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রধান শিক্ষকের অধীনে বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা, শিশু সুরক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক নিরাপত্তা চরমভাবে হুমকির মুখে পড়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তারা অবিলম্বে শারীরিক শাস্তির সংস্কৃতি দূর করে এবং দোষী প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ডেস্ক নিউজ 


















