জাতীয় লিগে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা

  • ক্রীড়া ডেক্স
  • Update Time : ০৩:২০:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২১
  • ৬৫৯ Time View

বাংলাদেশের প্রধানতম ঘরোয়া টুর্নামেন্ট জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) এবারের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছ ঢাকা বিভাগ। ষষ্ঠ রাউন্ডে খুলনা বিভাগকে ১৭৯ রানে হারিয়ে সাত বছর পর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজধানীর দলটি।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে ঢাকার দেওয়া ৩৭৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১৯৯ রানে অলআউট হয় খুলনা। ষষ্ঠবারের মতো জাতীয় লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তাইবুর রহমানের দল।

৩৭৯ রানের চাপ মাথায় নিয়ে গতকাল শেষ বিকেলে ব্যাটিং শুরু করেছিল খুলনা। ইমরুল কায়েস-অমিত মজুমদার কোনো বিপদ ছাড়াই দিন শেষ করে আসেন। চতুর্থ দিন সকালে শুরুতেই ফেরেন ইমরুল। এরপর অমিতের সঙ্গী হন রবিউল ইসলাম। দুজনে পানি পানের বিরতি পর্যন্ত ব্যাটিং করেন নির্বিঘ্নে। কিন্তু এর পরেই যেন ধস নামে খুলনার ব্যাটিংয়ে।

দলীয় ৪৩ রানে অমিত আউট হন ব্যক্তিগত ২০ রানে। এরপর মাত্র ২৯ রান না যোগ হতেই খুলনা হারায় আরো ৪ উইকেট। শূন্য রানে ফেরেন সৌম্য। তার আউটের ক্ষত না মুছতেই সাজঘরে ফেরেন ক্রিজে থিতু হওয়া ব্যাটসম্যান রবি। তার ব্যাট থেকে আসে ৯২ বলে ২০ রান।

আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে মোহাম্মদ মিঠুন ফেরেন ১৪ রানে। তার আউটের পর ক্রিজে এসে রানের খাতা খুলতে পারেননি জিয়া। পানি পানের বিরতি থেকে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগে খুলনার হারের চিত্রনাট্য লেখা হয়ে যায়।

এরপর নাহিদুল ইসলাম-ইমরানুজ্জামানের ব্যাটে লড়াই করেছিল খুলনা। দুজনে টুকে টুকে সময় পার করে ড্রয়ের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করলেছিলেন। কিন্তু নাহিদুল ১০৯ বলে ৪০ রানের বেশি করতে পারেননি। তার পরেই ফেরেন ইমরানুজ্জমান। ১০৭ বলে ৩২ রান আসে ইমরানের ব্যাট থেকে।

এরপর ক্রিজে আসেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। তিনি ৬৩ বলে ২৯ রান করে লড়াই করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেননি। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আল আমিন ১৯ রানে আউট হলে বড় ব্যবধানে জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পায় ঢাকা। ঢাকার হয়ে একাই ৫ উইকেট নেন অধিনায়ক তাইবুর। ১৭.১ ওভারে ৮৯ রান দিয়ে তিনি এই উইকেটগুলো নেন। এ ছাড়া তিন উইকেট নেন শুভাগত হোম। ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠে তার হাতে।

প্রথম স্তরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ ছিল রংপুরের সামনেও। ২৮.৮৯ পয়েন্ট নিয়ে তারা শীর্ষে ছিল। কিন্তু সিলেটের বিপক্ষে ড্র হওয়ায়, আর ঢাকা ম্যাচ জেতায় ভাগ্য সহায় হয়নি।

জাতীয় লিগে ঢাকা সর্বশেষ ২০১৩-১৪ সেশনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ছিল খুলনা। মোট সাতবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। আর এবার চ্যাম্পিয়নতো দূরে থাক, দলটিকে নেমে যেতে হচ্ছে এক ধাপ নিচে, দ্বিতীয় স্তরে। সিলেট রংপুরের বিপক্ষে ড্র হওয়ায় রুপসা পাড়ের দলটি নেমে যাচ্ছে পরের স্তরে।

১৭ অক্টোবর থেকে ওয়ালটন গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু হয়েছিল এই প্রতিযোগিতা। আজ ঢাকা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে এর পর্দা নামে।

Tag :
About Author Information

admin

জনপ্রিয়

মোহনপুরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগে লিগ্যাল নোটিশ

error: Content is protected !!

জাতীয় লিগে চ্যাম্পিয়ন ঢাকা

Update Time : ০৩:২০:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ নভেম্বর ২০২১

বাংলাদেশের প্রধানতম ঘরোয়া টুর্নামেন্ট জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) এবারের আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছ ঢাকা বিভাগ। ষষ্ঠ রাউন্ডে খুলনা বিভাগকে ১৭৯ রানে হারিয়ে সাত বছর পর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজধানীর দলটি।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) বিকেএসপির তিন নম্বর মাঠে ঢাকার দেওয়া ৩৭৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১৯৯ রানে অলআউট হয় খুলনা। ষষ্ঠবারের মতো জাতীয় লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তাইবুর রহমানের দল।

৩৭৯ রানের চাপ মাথায় নিয়ে গতকাল শেষ বিকেলে ব্যাটিং শুরু করেছিল খুলনা। ইমরুল কায়েস-অমিত মজুমদার কোনো বিপদ ছাড়াই দিন শেষ করে আসেন। চতুর্থ দিন সকালে শুরুতেই ফেরেন ইমরুল। এরপর অমিতের সঙ্গী হন রবিউল ইসলাম। দুজনে পানি পানের বিরতি পর্যন্ত ব্যাটিং করেন নির্বিঘ্নে। কিন্তু এর পরেই যেন ধস নামে খুলনার ব্যাটিংয়ে।

দলীয় ৪৩ রানে অমিত আউট হন ব্যক্তিগত ২০ রানে। এরপর মাত্র ২৯ রান না যোগ হতেই খুলনা হারায় আরো ৪ উইকেট। শূন্য রানে ফেরেন সৌম্য। তার আউটের ক্ষত না মুছতেই সাজঘরে ফেরেন ক্রিজে থিতু হওয়া ব্যাটসম্যান রবি। তার ব্যাট থেকে আসে ৯২ বলে ২০ রান।

আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে মোহাম্মদ মিঠুন ফেরেন ১৪ রানে। তার আউটের পর ক্রিজে এসে রানের খাতা খুলতে পারেননি জিয়া। পানি পানের বিরতি থেকে মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগে খুলনার হারের চিত্রনাট্য লেখা হয়ে যায়।

এরপর নাহিদুল ইসলাম-ইমরানুজ্জামানের ব্যাটে লড়াই করেছিল খুলনা। দুজনে টুকে টুকে সময় পার করে ড্রয়ের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করলেছিলেন। কিন্তু নাহিদুল ১০৯ বলে ৪০ রানের বেশি করতে পারেননি। তার পরেই ফেরেন ইমরানুজ্জমান। ১০৭ বলে ৩২ রান আসে ইমরানের ব্যাট থেকে।

এরপর ক্রিজে আসেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। তিনি ৬৩ বলে ২৯ রান করে লড়াই করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারেননি। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আল আমিন ১৯ রানে আউট হলে বড় ব্যবধানে জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পায় ঢাকা। ঢাকার হয়ে একাই ৫ উইকেট নেন অধিনায়ক তাইবুর। ১৭.১ ওভারে ৮৯ রান দিয়ে তিনি এই উইকেটগুলো নেন। এ ছাড়া তিন উইকেট নেন শুভাগত হোম। ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠে তার হাতে।

প্রথম স্তরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ ছিল রংপুরের সামনেও। ২৮.৮৯ পয়েন্ট নিয়ে তারা শীর্ষে ছিল। কিন্তু সিলেটের বিপক্ষে ড্র হওয়ায়, আর ঢাকা ম্যাচ জেতায় ভাগ্য সহায় হয়নি।

জাতীয় লিগে ঢাকা সর্বশেষ ২০১৩-১৪ সেশনে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ছিল খুলনা। মোট সাতবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। আর এবার চ্যাম্পিয়নতো দূরে থাক, দলটিকে নেমে যেতে হচ্ছে এক ধাপ নিচে, দ্বিতীয় স্তরে। সিলেট রংপুরের বিপক্ষে ড্র হওয়ায় রুপসা পাড়ের দলটি নেমে যাচ্ছে পরের স্তরে।

১৭ অক্টোবর থেকে ওয়ালটন গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু হয়েছিল এই প্রতিযোগিতা। আজ ঢাকা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মাধ্যমে এর পর্দা নামে।