Dhaka ০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় তেল বাণিজ্য, মোহনপুরে উপজেলা প্রশাসনকে দুষছেন জনতা

রাজশাহীর মোহনপুরে জ্বালানি তেল বিতরণকে কেন্দ্র করে চরম অনিয়ম, সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি।

অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে স্থানীয় রহমান ফিলিং স্টেশনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, যারা টাকার বিনিময়ে নিয়ম ভেঙে তেল বিক্রি করছে।

সকালে তেল বিতরণ শুরু হওয়ার পর থেকে রহমান ফিলিং স্টেশনে কয়েক দফা গন্ডগোল হয়। বেলা ১২ টার দিকে পাম্প মালিক মিজান টাকার বিনিময়ে পছন্দের লোকজনকে জারকিনে করে পেট্রোল বিক্রি শুরু করলে বাঁধে বিপত্তি। ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে তেল না পাওয়া গ্রাহকরা উচ্চস্বরে মোটরসাইকেল এর হর্ণ বাজিয়ে প্রতিবাদ শুরু করলে পাম্প মালিক মিজান ও তার লোকজন তেল নিতে অপেক্ষমান গ্রাহকদের নানা রকম ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন। এসময় পাম্পের বাহিরে পাম্প মালিক মিজানের লোক কেশরহাট পৌর বাকশৈল গ্রামের সোহেল রানা (৩৫) এর সাথে তেল নেওয়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে পৌর এলাকার হরিদাগাছি এলাকার আলতাব ও জয়নাল তেল সিন্ডিকেট করার জন্য সোহেলকে হেলমেট দিয়ে মাথায় আঘাত করে।

ঘটনার পরপরই পাম্পের বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এনে উল্টো ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ করে দেন মালিক মিজান। এতে তপ্ত রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা শত শত তেল প্রত্যাশী ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং সড়ক অবরোধে নামেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ফিলিং স্টেশনে টোকেন বাণিজ্য চালু রয়েছে। টাকার বিনিময়ে বিশেষ কিছু ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে তেল দেওয়া হয়, এমনকি বোতলেও তেল বিক্রি করা হচ্ছে। সাধারণ গ্রাহকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না।
অভিযোগ রয়েছে, পাম্পের কর্মচারীরা ৩০০ টাকার বিনিময়ে সিরিয়াল ভেঙে লোক ঢুকিয়ে তেল সরবরাহ করছে। অন্যদিকে, কৃষকরা সেচ পাম্প নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। চাকরিজীবী নারীসহ জরুরি প্রয়োজনের গ্রাহকদেরও কোনো অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না।

এছাড়া, কেশরহাট পৌর দুইজন নামধারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে—তারা কৌশলে তার পছন্দের লোকদের ট্যাংকি ফুল করে দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন। সারাদিন পেট্রোল পাম্পে অবস্থান করে তেল সিন্ডিকেটকে সাহস যুগিয়েছেন। দিন শেষে একহাজার করে টাকা নিয়ে সুষ্ঠুভাবে তেল বিতরণ করা হয়ে মর্মে নিউজ ছাপিয়ে অবৈধভাবে রাতের আধারে কালোবাজারে তেল বিক্রি করতে পাম্প মালিক মিজানের দোসর হয়ে কাজ করার ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ আরও বাড়ছে।

সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তেল না পেয়ে বাধ্য হয়ে উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসের এক কর্মকর্তা ফিরে যাচ্ছেন। কৃষকরা সেচ পাম্প মেশিন নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা রোদে পুড়লেও তেল দেওয়া হচ্ছেনা। চাকুরিজীবি নারীরা তেল নিতে গিয়ে পাম্প মালিকদের লোকের কাছে কথার মাধ্যমে লান্ছিতের শিকার হচ্ছেন যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে।

পরবর্তীতে বেলা দুইটার দিকে মোহনপুর থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে নারী পুরুষ ও কৃষকদের মাঝে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল বিতরণ শুরু করলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একের অধিক তেল গ্রাহক জানান, জরুরি তেল নেওয়ার কারনে রহমান ফিলিং স্টেশনের মেশিন থেকে পরিমানে তেল কম দেওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মোহনপুর থানার এক পুলিশ সদস্য জানান, সকাল থেকে পুলিশ সদস্যরা সঠিকভাবে সারিবদ্ধ মোটরসাইকেল মালিকদের মাঝে সুষ্ঠু ভাবে তেল বিতরণ করছিল। হঠাত করে পাম্প মালিক মিজানসহ তার লোকজন সিরিয়াল ভেঙে তেল বিতরণ শুরু করায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আমরা একাধিকবার পাম্প মালিককে নিষেধ করলে তিনি আমাদের কথা না শুনে বলেন আপনারা শুধু দাড়িয়ে থাকেন যা হয় আমি দেখছি। এমন কথা শোনার পরে আমরা শুধু আমাদের কর্তব্য পালন করার চেষ্টা করেছি।

স্থানীয়দের দাবি, মোহনপুর উপজেলা প্রশাসনের অদূরদর্শিতা ও কঠোর তদারকির অভাবেই এই সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রহমান ফিলিং স্টেশন মালিক ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বচ্ছভাবে তেল বিতরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

Tag :
About Author Information

Alauddin Mondal

জনপ্রিয়

সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় তেল বাণিজ্য, মোহনপুরে উপজেলা প্রশাসনকে দুষছেন জনতা

error: Content is protected !!

সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় তেল বাণিজ্য, মোহনপুরে উপজেলা প্রশাসনকে দুষছেন জনতা

Update Time : ১২:১০:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহীর মোহনপুরে জ্বালানি তেল বিতরণকে কেন্দ্র করে চরম অনিয়ম, সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি।

অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে স্থানীয় রহমান ফিলিং স্টেশনকে ঘিরে গড়ে উঠেছে প্রভাবশালী সিন্ডিকেট, যারা টাকার বিনিময়ে নিয়ম ভেঙে তেল বিক্রি করছে।

সকালে তেল বিতরণ শুরু হওয়ার পর থেকে রহমান ফিলিং স্টেশনে কয়েক দফা গন্ডগোল হয়। বেলা ১২ টার দিকে পাম্প মালিক মিজান টাকার বিনিময়ে পছন্দের লোকজনকে জারকিনে করে পেট্রোল বিক্রি শুরু করলে বাঁধে বিপত্তি। ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে তেল না পাওয়া গ্রাহকরা উচ্চস্বরে মোটরসাইকেল এর হর্ণ বাজিয়ে প্রতিবাদ শুরু করলে পাম্প মালিক মিজান ও তার লোকজন তেল নিতে অপেক্ষমান গ্রাহকদের নানা রকম ভয়ভীতি দেখাতে শুরু করেন। এসময় পাম্পের বাহিরে পাম্প মালিক মিজানের লোক কেশরহাট পৌর বাকশৈল গ্রামের সোহেল রানা (৩৫) এর সাথে তেল নেওয়া দেওয়াকে কেন্দ্র করে পৌর এলাকার হরিদাগাছি এলাকার আলতাব ও জয়নাল তেল সিন্ডিকেট করার জন্য সোহেলকে হেলমেট দিয়ে মাথায় আঘাত করে।

ঘটনার পরপরই পাম্পের বাইরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এনে উল্টো ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ করে দেন মালিক মিজান। এতে তপ্ত রোদে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা শত শত তেল প্রত্যাশী ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং সড়ক অবরোধে নামেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ফিলিং স্টেশনে টোকেন বাণিজ্য চালু রয়েছে। টাকার বিনিময়ে বিশেষ কিছু ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে তেল দেওয়া হয়, এমনকি বোতলেও তেল বিক্রি করা হচ্ছে। সাধারণ গ্রাহকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না।
অভিযোগ রয়েছে, পাম্পের কর্মচারীরা ৩০০ টাকার বিনিময়ে সিরিয়াল ভেঙে লোক ঢুকিয়ে তেল সরবরাহ করছে। অন্যদিকে, কৃষকরা সেচ পাম্প নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। চাকরিজীবী নারীসহ জরুরি প্রয়োজনের গ্রাহকদেরও কোনো অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে না।

এছাড়া, কেশরহাট পৌর দুইজন নামধারী সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে—তারা কৌশলে তার পছন্দের লোকদের ট্যাংকি ফুল করে দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন। সারাদিন পেট্রোল পাম্পে অবস্থান করে তেল সিন্ডিকেটকে সাহস যুগিয়েছেন। দিন শেষে একহাজার করে টাকা নিয়ে সুষ্ঠুভাবে তেল বিতরণ করা হয়ে মর্মে নিউজ ছাপিয়ে অবৈধভাবে রাতের আধারে কালোবাজারে তেল বিক্রি করতে পাম্প মালিক মিজানের দোসর হয়ে কাজ করার ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ আরও বাড়ছে।

সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তেল না পেয়ে বাধ্য হয়ে উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসের এক কর্মকর্তা ফিরে যাচ্ছেন। কৃষকরা সেচ পাম্প মেশিন নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা রোদে পুড়লেও তেল দেওয়া হচ্ছেনা। চাকুরিজীবি নারীরা তেল নিতে গিয়ে পাম্প মালিকদের লোকের কাছে কথার মাধ্যমে লান্ছিতের শিকার হচ্ছেন যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে।

পরবর্তীতে বেলা দুইটার দিকে মোহনপুর থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে নারী পুরুষ ও কৃষকদের মাঝে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল বিতরণ শুরু করলে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একের অধিক তেল গ্রাহক জানান, জরুরি তেল নেওয়ার কারনে রহমান ফিলিং স্টেশনের মেশিন থেকে পরিমানে তেল কম দেওয়া হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মোহনপুর থানার এক পুলিশ সদস্য জানান, সকাল থেকে পুলিশ সদস্যরা সঠিকভাবে সারিবদ্ধ মোটরসাইকেল মালিকদের মাঝে সুষ্ঠু ভাবে তেল বিতরণ করছিল। হঠাত করে পাম্প মালিক মিজানসহ তার লোকজন সিরিয়াল ভেঙে তেল বিতরণ শুরু করায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আমরা একাধিকবার পাম্প মালিককে নিষেধ করলে তিনি আমাদের কথা না শুনে বলেন আপনারা শুধু দাড়িয়ে থাকেন যা হয় আমি দেখছি। এমন কথা শোনার পরে আমরা শুধু আমাদের কর্তব্য পালন করার চেষ্টা করেছি।

স্থানীয়দের দাবি, মোহনপুর উপজেলা প্রশাসনের অদূরদর্শিতা ও কঠোর তদারকির অভাবেই এই সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রহমান ফিলিং স্টেশন মালিক ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্বচ্ছভাবে তেল বিতরণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।