Dhaka ১০:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কর্মহীন মৌগাছি হাটের পাদুকাশিল্পীরা: জীবিকার তাগিদেও মেলেনি কাজ

সকাল গড়িয়ে দুপুর নামলেও খরিদ্দারের দেখা নেই। হাতুড়ি, সেলাইয়ের সুতো আর চামড়া কাটার বিশেষ ছুরিগুলো সামনে সাজিয়ে অলস সময় পার করছেন মোহনপুর উপজেলার ঐতিহাসিক মৌগাছি হাটের পাদুকাশিল্পী বা পাদুকা মেরামতকারীরা। জীবিকার তাগিদে হাটে এসে বসলেও সারাদিন কর্মহীন অবস্থায় অপেক্ষা করাই যেন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​সোমবার মৌগাছি হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটের এক কোণে বসে আছেন বেশ কয়েকজন পাদুকা মেরামতকারী। অন্য সময় রেডিমেড জুতা সেলাই, স্যান্ডেল রিপেয়ার কিংবা কালি করার কাজে ব্যস্ততা থাকলেও আজ পুরো চিত্রই ভিন্ন। বাজারের অন্যান্য অংশে ভিড় থাকলেও তাদের চট বিছানো জায়গায় নেমে এসেছে শুনশান নীরবতা।

​স্থানীয় পাদুকাশিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। এছাড়া সস্তা দামের চীন বা স্থানীয় কারখানার থাই-স্যান্ডেল ও রেডিমেড জুতায় বাজার সয়লাব হওয়ায় পুরোনো জুতা সেলাই বা মেরামত করার প্রবণতা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে।

​হাটে বসে থাকা এক বয়োজ্যেষ্ঠ পাদুকা মেরামতকারী হতাশা প্রকাশ করে জানান, “সকাল থেকে বসে আছি, একটা স্যান্ডেল সেলাইয়ের কাজও পাইনি। এখনকার দিনে রেডিমেড জুতার ব্যবহার বাড়ায় আমাদের মতো ছোট কারিগরদের কাজ দিন দিন কমে যাচ্ছে। হাটের দিনেও যদি কাজ না পাই, তবে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব?”

​উপজেলার মৌগাছি হাটটি এলাকার অন্যতম বড় ও ঐতিহ্যবাহী হাট হলেও সেখানকার প্রান্তিক শ্রমজীবী এই ক্ষুদ্র কারিগরদের দিন কাটছে দারুণ অনিশ্চয়তায়। আধুনিকতার ছোঁয়া ও প্রযুক্তির প্রসারে ঐতিহ্যবাহী এই পেশাটি আজ মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। সরকারি কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে এদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা বা বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হলে অচিরেই এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলো চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

Tag :
About Author Information

Alauddin Mondal

জনপ্রিয়

মহাতীর্থের আলো: মোহনপুরে নিজস্ব উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার, সুশীল সমাজের সাধুবাদ

কর্মহীন মৌগাছি হাটের পাদুকাশিল্পীরা: জীবিকার তাগিদেও মেলেনি কাজ

Update Time : ০৭:৫২:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সকাল গড়িয়ে দুপুর নামলেও খরিদ্দারের দেখা নেই। হাতুড়ি, সেলাইয়ের সুতো আর চামড়া কাটার বিশেষ ছুরিগুলো সামনে সাজিয়ে অলস সময় পার করছেন মোহনপুর উপজেলার ঐতিহাসিক মৌগাছি হাটের পাদুকাশিল্পী বা পাদুকা মেরামতকারীরা। জীবিকার তাগিদে হাটে এসে বসলেও সারাদিন কর্মহীন অবস্থায় অপেক্ষা করাই যেন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​সোমবার মৌগাছি হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটের এক কোণে বসে আছেন বেশ কয়েকজন পাদুকা মেরামতকারী। অন্য সময় রেডিমেড জুতা সেলাই, স্যান্ডেল রিপেয়ার কিংবা কালি করার কাজে ব্যস্ততা থাকলেও আজ পুরো চিত্রই ভিন্ন। বাজারের অন্যান্য অংশে ভিড় থাকলেও তাদের চট বিছানো জায়গায় নেমে এসেছে শুনশান নীরবতা।

​স্থানীয় পাদুকাশিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। এছাড়া সস্তা দামের চীন বা স্থানীয় কারখানার থাই-স্যান্ডেল ও রেডিমেড জুতায় বাজার সয়লাব হওয়ায় পুরোনো জুতা সেলাই বা মেরামত করার প্রবণতা আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে।

​হাটে বসে থাকা এক বয়োজ্যেষ্ঠ পাদুকা মেরামতকারী হতাশা প্রকাশ করে জানান, “সকাল থেকে বসে আছি, একটা স্যান্ডেল সেলাইয়ের কাজও পাইনি। এখনকার দিনে রেডিমেড জুতার ব্যবহার বাড়ায় আমাদের মতো ছোট কারিগরদের কাজ দিন দিন কমে যাচ্ছে। হাটের দিনেও যদি কাজ না পাই, তবে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব?”

​উপজেলার মৌগাছি হাটটি এলাকার অন্যতম বড় ও ঐতিহ্যবাহী হাট হলেও সেখানকার প্রান্তিক শ্রমজীবী এই ক্ষুদ্র কারিগরদের দিন কাটছে দারুণ অনিশ্চয়তায়। আধুনিকতার ছোঁয়া ও প্রযুক্তির প্রসারে ঐতিহ্যবাহী এই পেশাটি আজ মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে। সরকারি কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে এদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা বা বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হলে অচিরেই এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলো চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়বে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।