Dhaka ০৯:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​মোহনপুরে লঘুচাপের তাণ্ডব: বিদ্যুৎহীন বিস্তীর্ণ এলাকা, ট্রান্সফরমার পুড়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কোটি টাকার ক্ষতি

​রাজশাহীর মোহনপুরে ৫ সেপ্টেম্বরের গভীর রাতে লঘুচাপের প্রভাবে বয়ে যাওয়া প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি ও আকস্মিক ভয়াবহ বজ্রপাতে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মোহনপুর জোনাল অফিসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বজ্রপাতের আঘাত ও শর্ট সার্কিটের ফলে উপজেলার কেশরহাট, ধোপাঘাটা এবং মোহনপুর সদরসহ মোট ১১টি ট্রান্সফরমার মুহূর্তে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে করে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে তলিয়ে গেছে।
​বিদ্যুৎ অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ সেপ্টেম্বরের এক রাতে হঠাৎ করেই আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে। লঘুচাপের প্রভাবে শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি ও ঘন ঘন বিকট শব্দের বজ্রপাত। রাত সাড়ে বারোটার দিকে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মোহনপুর জোনাল অফিসের নিকটবর্তী এলাকায় একাধিক বজ্রপাত আঘাত হানে। বজ্রপাতের ফলে সৃষ্ট হাই-ভোল্টেজ স্পাইক ও ওভারলোডের কারণে কেশরহাট  অভিযোগ কেন্দ্র ৫টি, ধোপাঘাটা এলাকায় ১টি এবং মোহনপুর সদরে ৫টি ট্রান্সফরমার একযোগে পুড়ে যায়।
​কেশরহাটের এক বাসিন্দা রহিম জানান, “রাতের বেলা বৃষ্টির সাথে সাথে যেভাবে বিকট শব্দে বাজ পড়ছিল, তা অত্যন্ত আতঙ্কজনক ছিল। একপর্যায়ে ট্রান্সফরমারে আগুন ধরে বিকট শব্দ হয় এবং পুরো এলাকা অন্ধকারে ছেয়ে যায়।”
​ঘটনার পর পরই স্থানীয় বিদ্যুৎ কর্মীদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়। এ বিষয়ে মোহনপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম জানান, “৫ সেপ্টেম্বরের দিবাগত রাতে লঘুচাপ থেকে সৃষ্ট এই হঠাৎ বৃষ্টি ও ভয়াবহ বজ্রপাতে আমাদের লাইনে বড় ধরনের ট্রিপ করে। জোনাল অফিসের পাশেই বজ্রপাত হওয়ার প্রভাবে প্রধান লাইনগুলোর মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে এবং কেশরহাট, ধোপাঘাটা ও মোহনপুর সদর এলাকা মিলে মোট ১১টি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে গেছে। আমরা ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রান্সফরমারগুলো স্থানান্তরের কাজ শুরু করেছি এবং জরুরি ভিত্তিতে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে।”
​এদিকে একযোগে এতগুলো ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কেশরহাট পৌরসভা, ধোপাঘাটা ও মোহনপুর সদরের হাজার হাজার গ্রাহক চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাসা-বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় দেখা দিয়েছে খাওয়ার পানির তীব্র সংকট, সেই সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রশাসনিক কাজকর্মে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
​রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, সাময়িক এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের জন্য অতিরিক্ত কারিগরি দল মাঠে নামানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পর্যায়ক্রমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।

Tag :
About Author Information

Alauddin Mondal

​মোহনপুরে লঘুচাপের তাণ্ডব: বিদ্যুৎহীন বিস্তীর্ণ এলাকা, ট্রান্সফরমার পুড়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কোটি টাকার ক্ষতি

​মোহনপুরে লঘুচাপের তাণ্ডব: বিদ্যুৎহীন বিস্তীর্ণ এলাকা, ট্রান্সফরমার পুড়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কোটি টাকার ক্ষতি

Update Time : ০৮:০৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​রাজশাহীর মোহনপুরে ৫ সেপ্টেম্বরের গভীর রাতে লঘুচাপের প্রভাবে বয়ে যাওয়া প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি ও আকস্মিক ভয়াবহ বজ্রপাতে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মোহনপুর জোনাল অফিসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বজ্রপাতের আঘাত ও শর্ট সার্কিটের ফলে উপজেলার কেশরহাট, ধোপাঘাটা এবং মোহনপুর সদরসহ মোট ১১টি ট্রান্সফরমার মুহূর্তে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে করে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এবং বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে তলিয়ে গেছে।
​বিদ্যুৎ অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ সেপ্টেম্বরের এক রাতে হঠাৎ করেই আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটে। লঘুচাপের প্রভাবে শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি ও ঘন ঘন বিকট শব্দের বজ্রপাত। রাত সাড়ে বারোটার দিকে রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মোহনপুর জোনাল অফিসের নিকটবর্তী এলাকায় একাধিক বজ্রপাত আঘাত হানে। বজ্রপাতের ফলে সৃষ্ট হাই-ভোল্টেজ স্পাইক ও ওভারলোডের কারণে কেশরহাট  অভিযোগ কেন্দ্র ৫টি, ধোপাঘাটা এলাকায় ১টি এবং মোহনপুর সদরে ৫টি ট্রান্সফরমার একযোগে পুড়ে যায়।
​কেশরহাটের এক বাসিন্দা রহিম জানান, “রাতের বেলা বৃষ্টির সাথে সাথে যেভাবে বিকট শব্দে বাজ পড়ছিল, তা অত্যন্ত আতঙ্কজনক ছিল। একপর্যায়ে ট্রান্সফরমারে আগুন ধরে বিকট শব্দ হয় এবং পুরো এলাকা অন্ধকারে ছেয়ে যায়।”
​ঘটনার পর পরই স্থানীয় বিদ্যুৎ কর্মীদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়। এ বিষয়ে মোহনপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম জানান, “৫ সেপ্টেম্বরের দিবাগত রাতে লঘুচাপ থেকে সৃষ্ট এই হঠাৎ বৃষ্টি ও ভয়াবহ বজ্রপাতে আমাদের লাইনে বড় ধরনের ট্রিপ করে। জোনাল অফিসের পাশেই বজ্রপাত হওয়ার প্রভাবে প্রধান লাইনগুলোর মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে এবং কেশরহাট, ধোপাঘাটা ও মোহনপুর সদর এলাকা মিলে মোট ১১টি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে গেছে। আমরা ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রান্সফরমারগুলো স্থানান্তরের কাজ শুরু করেছি এবং জরুরি ভিত্তিতে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে।”
​এদিকে একযোগে এতগুলো ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কেশরহাট পৌরসভা, ধোপাঘাটা ও মোহনপুর সদরের হাজার হাজার গ্রাহক চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাসা-বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকায় দেখা দিয়েছে খাওয়ার পানির তীব্র সংকট, সেই সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রশাসনিক কাজকর্মে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
​রাজশাহী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, সাময়িক এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত সমাধানের জন্য অতিরিক্ত কারিগরি দল মাঠে নামানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পর্যায়ক্রমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে।