Dhaka ০২:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ১৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকায় অমর একুশে বইমেলায় শ্রাবণ প্রকাশনীতে চিতলমারীর অসুস্থ সাংবাদিক কপিলের লেখা ব্যতিক্রম দুই বই

ঢাকায় অমর একুশে বইমেলায় বাগেরহাটের চিতলমারীর অসুস্থ সাংবাদিক কপিল ঘোষের লেখা দুইটি ব্যতিক্রম বই প্রকাশ হয়েছে। এর একটিতে সুন্দরবনাঞ্চলের বিগত ৫০ বছর সময়ের নানা ঘটনা গল্পাকারে উঠে এসেছে। অন্যটিতে এক কিশোর জীবনে দেখা মুক্তিযুদ্ধসহ নানা অভিজ্ঞতা বর্ণিত হয়েছে। শ্রাবণ প্রকাশনী বই দুটি প্রকাশ করেছে। তাঁর এই সৃষ্টিকর্মের জন্য স্বাগত জানিয়েছেন চিতলমারীর সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণের মানুষেরা। কপিল ঘোষের কালের কন্ঠের চিতলমারী ও কচুয়া উপজেলা প্রতিনিধি এবং চিতলমারী উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য।
শ্রাবণ প্রকাশনীর প্রকাশক ও কবি রবীন আহসান জানান, আইলা কিংবা সিডর শাসিত সুন্দরবনাঞ্চলের মানুষের দুঃখ গাঁথা, লোকপ্রথা, বিশ্বাস, বর্ণবৈষম্য ইত্যাদি নিয়ে লেখা ‘সুন্দরের টানে মঙ্গল শত্রম্ন’ বইটি ইতোমধ্যে পাঠক সমাদৃত হওয়ায় ২য় সংস্করণ প্রকাশ হয়েছে। এই গল্পের বইটি নিছক গল্প নয়- ১৯৭১ সাল থেকে ২০২১ সাল অব্দি ৫০ বছর সময়ের নানা ঘটনার উপস্থাপন বলা যায়। যারা সুন্দরবনের প্রতি আগ্রহী তাঁরা ‘সুন্দরের টানে মঙ্গল শত্রম্ন’ বইটিতে অনেক অজানা বিষয় জানতে পারবেন। গল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, গুরম্ন-শিষ্যে সুন্দরবন, দুখের মা বনবিবি, পোড়ো, বায়স্কোপওয়ালা হাতেম আলী ও ১৯৭১’র প-িতচন্দ্র, ‘পাগল’ বনে গেলাম, সুন্দরবনাঞ্চলের এক স্বভাবকবির কবিগানের দুর্লভ পা-ুলিপি, সুন্দরবনে বিস্ময়, গোয়ালঘর ও সন্ধ্যা সেতাঁরা।
অপরদিকে, ‘বোহেমিয়ান যুদ্ধজীবন’ নামক বইটি এক কিশোরের চোখে দেখা মুক্তিযুদ্ধ সহ জীবন নিয়ে লেখা উপন্যাস। এই বইয়ের কাহিনীতে রয়েছে, গ্রামের যে কিশোর একা জেলা শহরেও যায়নি, সে অসহযোগ আন্দোলনের এক ভোরে পৌঁছে যায় রাজধানী ঢাকায়- একা। অচেনা নগর। গ্রামের ছেলেটি কোথায় নেবে ঠাঁই, কী হবে ভবিষ্যৎ? সবই অজানা। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে সূর্যালো আসে। গ্রামের কিশোর নীলÿেত অবস্থানকালে গর্বিত মনে করে- কারণ সে ঐতিহাসিক এলাকায় অবস্থান ও বিচরণ করছে। এর আগে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম, অভিনেতা হাসান ইমাম সহ নেতাদের বক্তৃতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শুনেছে। মহান বাংলা ভাষার জন্যে আন্দোলন থেকে শুরম্ন করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ সহ নানা আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র শাহাবাগ, টিএসসি, নীলÿেত। ছুটির দিনে সে হেঁটে হেঁটে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দেখে। একদিন রমনা পার্কের বেঞ্চে ঘুমিয়ে স্বপ্নে দেখে সুন্দরবন এলাকার মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা। হাজার হাজার নৌকায় মানুষেরা দেশ ছাড়ছে। নৌবহরে পাকহানাদারেরা হামলে পড়ে। রক্তের ছিটেফোঁটায় ঘুম ভাঙে কিশোরের। দেখে তাঁর ঘুমিয়ে থাকা রমনা পার্কের বেঞ্চের আশেপাশে রক্তাক্ত পাখিরা পড়ে আছে। রাজনীতির হিংস্রতা হতে পাখিরাও রেহাই পায়না! গ্রাম হতে পালিয়ে শহরে আসা কিশোরী শান্ত্মির অন্বেষণে আবার ছোটে। নানা স্ত্মরে ঘোরে তার বোহেমিয়ান জীবন।
বই দুইটি পাওয়া যাচ্ছে ঢাকা একুশে বইমেলায় শ্রাবণ প্রকাশনীর বইবাড়িতে (স্টল নং-৪৬৮, ৪৬৯, ৪৭০)। এছাড়া, যাঁরা বাড়ি বসে বই পেতে চান তাঁরা যোগাযোগ করতে পারেন মোবাইল নম্বর ০১৭১২-৭৪৯১৫৪।
কপিল ঘোষের পরিবার জানান, দুই বছর আগে সাংবাদিক কপিল ঘোষ এইএলএবি-২৭ পজেটিভে আক্রান্ত্ম হয়ে বাড়িতে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার মেরম্নদন্ডের হাড় ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় তীব্র ব্যাথায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা কষ্টকর। এই অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি লেখালেখি করছেন। #

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

admin

জনপ্রিয়

মাগুরা-ঝিনাইদহ মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা, আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাল ফায়ার সার্ভিস

error: Content is protected !!

ঢাকায় অমর একুশে বইমেলায় শ্রাবণ প্রকাশনীতে চিতলমারীর অসুস্থ সাংবাদিক কপিলের লেখা ব্যতিক্রম দুই বই

Update Time : ০৩:১৬:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ মার্চ ২০২২

ঢাকায় অমর একুশে বইমেলায় বাগেরহাটের চিতলমারীর অসুস্থ সাংবাদিক কপিল ঘোষের লেখা দুইটি ব্যতিক্রম বই প্রকাশ হয়েছে। এর একটিতে সুন্দরবনাঞ্চলের বিগত ৫০ বছর সময়ের নানা ঘটনা গল্পাকারে উঠে এসেছে। অন্যটিতে এক কিশোর জীবনে দেখা মুক্তিযুদ্ধসহ নানা অভিজ্ঞতা বর্ণিত হয়েছে। শ্রাবণ প্রকাশনী বই দুটি প্রকাশ করেছে। তাঁর এই সৃষ্টিকর্মের জন্য স্বাগত জানিয়েছেন চিতলমারীর সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গণের মানুষেরা। কপিল ঘোষের কালের কন্ঠের চিতলমারী ও কচুয়া উপজেলা প্রতিনিধি এবং চিতলমারী উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য।
শ্রাবণ প্রকাশনীর প্রকাশক ও কবি রবীন আহসান জানান, আইলা কিংবা সিডর শাসিত সুন্দরবনাঞ্চলের মানুষের দুঃখ গাঁথা, লোকপ্রথা, বিশ্বাস, বর্ণবৈষম্য ইত্যাদি নিয়ে লেখা ‘সুন্দরের টানে মঙ্গল শত্রম্ন’ বইটি ইতোমধ্যে পাঠক সমাদৃত হওয়ায় ২য় সংস্করণ প্রকাশ হয়েছে। এই গল্পের বইটি নিছক গল্প নয়- ১৯৭১ সাল থেকে ২০২১ সাল অব্দি ৫০ বছর সময়ের নানা ঘটনার উপস্থাপন বলা যায়। যারা সুন্দরবনের প্রতি আগ্রহী তাঁরা ‘সুন্দরের টানে মঙ্গল শত্রম্ন’ বইটিতে অনেক অজানা বিষয় জানতে পারবেন। গল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, গুরম্ন-শিষ্যে সুন্দরবন, দুখের মা বনবিবি, পোড়ো, বায়স্কোপওয়ালা হাতেম আলী ও ১৯৭১’র প-িতচন্দ্র, ‘পাগল’ বনে গেলাম, সুন্দরবনাঞ্চলের এক স্বভাবকবির কবিগানের দুর্লভ পা-ুলিপি, সুন্দরবনে বিস্ময়, গোয়ালঘর ও সন্ধ্যা সেতাঁরা।
অপরদিকে, ‘বোহেমিয়ান যুদ্ধজীবন’ নামক বইটি এক কিশোরের চোখে দেখা মুক্তিযুদ্ধ সহ জীবন নিয়ে লেখা উপন্যাস। এই বইয়ের কাহিনীতে রয়েছে, গ্রামের যে কিশোর একা জেলা শহরেও যায়নি, সে অসহযোগ আন্দোলনের এক ভোরে পৌঁছে যায় রাজধানী ঢাকায়- একা। অচেনা নগর। গ্রামের ছেলেটি কোথায় নেবে ঠাঁই, কী হবে ভবিষ্যৎ? সবই অজানা। ভোরের কুয়াশা ভেদ করে সূর্যালো আসে। গ্রামের কিশোর নীলÿেত অবস্থানকালে গর্বিত মনে করে- কারণ সে ঐতিহাসিক এলাকায় অবস্থান ও বিচরণ করছে। এর আগে শহীদ জননী জাহানারা ইমাম, অভিনেতা হাসান ইমাম সহ নেতাদের বক্তৃতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শুনেছে। মহান বাংলা ভাষার জন্যে আন্দোলন থেকে শুরম্ন করে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ সহ নানা আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র শাহাবাগ, টিএসসি, নীলÿেত। ছুটির দিনে সে হেঁটে হেঁটে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দেখে। একদিন রমনা পার্কের বেঞ্চে ঘুমিয়ে স্বপ্নে দেখে সুন্দরবন এলাকার মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা। হাজার হাজার নৌকায় মানুষেরা দেশ ছাড়ছে। নৌবহরে পাকহানাদারেরা হামলে পড়ে। রক্তের ছিটেফোঁটায় ঘুম ভাঙে কিশোরের। দেখে তাঁর ঘুমিয়ে থাকা রমনা পার্কের বেঞ্চের আশেপাশে রক্তাক্ত পাখিরা পড়ে আছে। রাজনীতির হিংস্রতা হতে পাখিরাও রেহাই পায়না! গ্রাম হতে পালিয়ে শহরে আসা কিশোরী শান্ত্মির অন্বেষণে আবার ছোটে। নানা স্ত্মরে ঘোরে তার বোহেমিয়ান জীবন।
বই দুইটি পাওয়া যাচ্ছে ঢাকা একুশে বইমেলায় শ্রাবণ প্রকাশনীর বইবাড়িতে (স্টল নং-৪৬৮, ৪৬৯, ৪৭০)। এছাড়া, যাঁরা বাড়ি বসে বই পেতে চান তাঁরা যোগাযোগ করতে পারেন মোবাইল নম্বর ০১৭১২-৭৪৯১৫৪।
কপিল ঘোষের পরিবার জানান, দুই বছর আগে সাংবাদিক কপিল ঘোষ এইএলএবি-২৭ পজেটিভে আক্রান্ত্ম হয়ে বাড়িতে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার মেরম্নদন্ডের হাড় ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় তীব্র ব্যাথায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করা কষ্টকর। এই অসুস্থ অবস্থায়ও তিনি লেখালেখি করছেন। #