Dhaka ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে মুকুলে ভরে গেছে আম গাছ, পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:০০:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২১৮ Time View

রাজশাহীতে মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে আম ও লিচুর গাছ। পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগানীরা। বাম্পার ফলনের আশায় নতুন স্বপ্ন বুনছেন বাগান মালিকরা। আমের গাছ গুলোতে সোনালি মুকুলে অপরুপ সৌন্দর্য ও সুগ্ধে মুখোরিত মাঠ ঘাট পাড়া মহল্লা। লিচু গাছেও থোকায় থোকায় দোল খাচ্ছে এসব সোনালী রংঙ্গের মুকুল। উপজেলার বিভিন্ন আম বাগান সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বাগানে বাগানে উঁকিঝুঁকি দিয়ে সোনালি রঙে সেজে উঠেছে আমের সোনালি মুকুল। সেই সোনালি মুকুলের গন্ধে মৌ মৌ সুভাষ ছড়াচ্ছে গ্রাম পাড়া মহল্লাজুড়ে। গত বছরের চেয়ে এ বছর অবাহাওয়া অনুকুলে থাকায় প্রায় প্রতিটি আম ও লিচু গাছ গুলো ভরে গেছে মুকুলে মুকুলে। আম চাষিরা বলছেন গত বছরের চেয়ে এবছর গাছে  অনেক বেশি মুকুল এসেছে। এই মুহূর্তে বৃষ্টি হওয়াটা জরুরি। বৃষ্টি না হলে গাছের মুকুল গুলো ঝরে পড়বে। তাই অনেকেই গাছে স্প্রে করে ভিটামিন ও পানি দিতে শুরু করেছেন। এবছর আম ও লিচুর ফলন ভালো হওয়ায় সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান অনেক বাগানী। বাগানীরা বলছেন, অবাহাওয়ার কারণে যদি মুকুল ঝরে না পড়ে  তাহলে এবার আম চাষিরা অনেক বেশি লাভ বান হবেন। যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে বাগানীরা ক্ষতির মুখে পড়বেন বলেও শংকা প্রকাশ করেন অনেক বাগানী।রাজশাহী বিভিন্ন উপজেলার এলাকায় বাণিজ্যিক ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে আম ও লিচু বাগান। এর মধ্যে সব চাইতে বেশী আম বাগান রয়েছে মোহনপুর উপজেলার রায়ঘাটি ইউপির বিভিন্ন এলাকায়। এছাড়াও বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া, দূর্গাপুর, বাগমারা, মোহনপুর, তানোর, গোদাগাড়ী উপজেলা বিভিন্ন এলাকার পাড়া মহল্লা ও সরকারী রাস্তার ধারে রোপন করা আম গাছ গুলো ভরে গেছে মুকুলে মুকুলে। বাগান চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরে আম গাছে মুকুল আসলেও তা ধরে রাখতে পারেনি। তাই এবার প্রথম দিক থেকেই গাছে গাছে ভিটামিন স্প্রে, গাছের গোড়ায় সার, মুকুলে ফিতা দিয়ে পানি সেচ দিয়ে পরিচর্যা করছেন আম চাষিরা। যাতে করে আম আসার সময় মুকুলের গোড়া শক্ত হয়। এবার আম চাষিরা আশা করছেন, আবহাওয়া ভালো থাকলে আম গাছে অনেক আম আসবে। রাজশাহী জেলা কৃষি অফিসার মোঃ মোজদার হোসেন। বলেন, অবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে রয়েছে। আম চাষিরা নিজ নিজ আম বাগানের পরিচর্যা শুরু করেছেন। আম ও লিচুর প্রায় গাছেই দেখা যাচ্ছে আমের সোনালি মুকুল। তিনি বলেন, এ বছর প্রচুর পরিমাণ গাছে মুকুল ফুটেছে, এমনকি মুকুলের কোন ক্ষতি হওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই। মুকুল যথা সময়ে বের হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আগাম মুকুল ঝরে যাবার (নষ্ট হয়ে যাবার) সম্ভাবনা থাকে। এখনই গাছে সেচ বা বৃষ্টিরও খুব দরকার নেই। তবে ফাল্গুন মাসের মাঝ খানে বৃষ্টি হলে তা ভালো ফলাফল বয়ে আনবে। এখনকার আম চাষিরা সচেতন, তারা সারা বছর ধরে সার সেচ আর পুষ্টিসাইড দিয়ে গাছের পরিচর্যা করে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

Tag :
About Author Information

Alauddin Mondal

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের সম্ভাব্য ফ্রান্স সফর বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন এর প্রকৃত বক্তব্য

error: Content is protected !!

রাজশাহীতে মুকুলে ভরে গেছে আম গাছ, পরিচর্যায় ব্যস্ত চাষিরা

Update Time : ০৪:০০:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজশাহীতে মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে আম ও লিচুর গাছ। পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগানীরা। বাম্পার ফলনের আশায় নতুন স্বপ্ন বুনছেন বাগান মালিকরা। আমের গাছ গুলোতে সোনালি মুকুলে অপরুপ সৌন্দর্য ও সুগ্ধে মুখোরিত মাঠ ঘাট পাড়া মহল্লা। লিচু গাছেও থোকায় থোকায় দোল খাচ্ছে এসব সোনালী রংঙ্গের মুকুল। উপজেলার বিভিন্ন আম বাগান সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বাগানে বাগানে উঁকিঝুঁকি দিয়ে সোনালি রঙে সেজে উঠেছে আমের সোনালি মুকুল। সেই সোনালি মুকুলের গন্ধে মৌ মৌ সুভাষ ছড়াচ্ছে গ্রাম পাড়া মহল্লাজুড়ে। গত বছরের চেয়ে এ বছর অবাহাওয়া অনুকুলে থাকায় প্রায় প্রতিটি আম ও লিচু গাছ গুলো ভরে গেছে মুকুলে মুকুলে। আম চাষিরা বলছেন গত বছরের চেয়ে এবছর গাছে  অনেক বেশি মুকুল এসেছে। এই মুহূর্তে বৃষ্টি হওয়াটা জরুরি। বৃষ্টি না হলে গাছের মুকুল গুলো ঝরে পড়বে। তাই অনেকেই গাছে স্প্রে করে ভিটামিন ও পানি দিতে শুরু করেছেন। এবছর আম ও লিচুর ফলন ভালো হওয়ায় সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান অনেক বাগানী। বাগানীরা বলছেন, অবাহাওয়ার কারণে যদি মুকুল ঝরে না পড়ে  তাহলে এবার আম চাষিরা অনেক বেশি লাভ বান হবেন। যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে বাগানীরা ক্ষতির মুখে পড়বেন বলেও শংকা প্রকাশ করেন অনেক বাগানী।রাজশাহী বিভিন্ন উপজেলার এলাকায় বাণিজ্যিক ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে আম ও লিচু বাগান। এর মধ্যে সব চাইতে বেশী আম বাগান রয়েছে মোহনপুর উপজেলার রায়ঘাটি ইউপির বিভিন্ন এলাকায়। এছাড়াও বাঘা, চারঘাট, পুঠিয়া, দূর্গাপুর, বাগমারা, মোহনপুর, তানোর, গোদাগাড়ী উপজেলা বিভিন্ন এলাকার পাড়া মহল্লা ও সরকারী রাস্তার ধারে রোপন করা আম গাছ গুলো ভরে গেছে মুকুলে মুকুলে। বাগান চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরে আম গাছে মুকুল আসলেও তা ধরে রাখতে পারেনি। তাই এবার প্রথম দিক থেকেই গাছে গাছে ভিটামিন স্প্রে, গাছের গোড়ায় সার, মুকুলে ফিতা দিয়ে পানি সেচ দিয়ে পরিচর্যা করছেন আম চাষিরা। যাতে করে আম আসার সময় মুকুলের গোড়া শক্ত হয়। এবার আম চাষিরা আশা করছেন, আবহাওয়া ভালো থাকলে আম গাছে অনেক আম আসবে। রাজশাহী জেলা কৃষি অফিসার মোঃ মোজদার হোসেন। বলেন, অবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে রয়েছে। আম চাষিরা নিজ নিজ আম বাগানের পরিচর্যা শুরু করেছেন। আম ও লিচুর প্রায় গাছেই দেখা যাচ্ছে আমের সোনালি মুকুল। তিনি বলেন, এ বছর প্রচুর পরিমাণ গাছে মুকুল ফুটেছে, এমনকি মুকুলের কোন ক্ষতি হওয়ার তেমন সম্ভাবনা নেই। মুকুল যথা সময়ে বের হয়েছে। তিনি আরো বলেন, আগাম মুকুল ঝরে যাবার (নষ্ট হয়ে যাবার) সম্ভাবনা থাকে। এখনই গাছে সেচ বা বৃষ্টিরও খুব দরকার নেই। তবে ফাল্গুন মাসের মাঝ খানে বৃষ্টি হলে তা ভালো ফলাফল বয়ে আনবে। এখনকার আম চাষিরা সচেতন, তারা সারা বছর ধরে সার সেচ আর পুষ্টিসাইড দিয়ে গাছের পরিচর্যা করে যাচ্ছেন বলে তিনি জানান।