Dhaka ১০:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে গলা কেটে হত্যার লোমহর্ষক ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে গলা কেটে হত্যার লোমহর্ষক ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ।

​বুধবার দুপুরে নওগাঁ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:
​নিহত হাবিবুর রহমানের ভাগনে সবুজ রানা।
​নিহতের ভগ্নিপতি শহীদুল ইসলাম।
​শহীদুল ইসলামের ছেলে শাহিন মণ্ডল।
জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, পারিবারিক জমিজমা বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা তাঁর ছেলেকে ১৩ বিঘা জমি লিখে দিলেও মেয়েদের তুলনায় কম জমি দেওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।
​তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে সবুজ রানা ও শহীদুল ইসলাম একটি মাঠে বসে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। ঘটনার রাতে হাবিবুর রহমানের বাড়িতে আগে থেকেই অবস্থান করা সবুজ রানা কৌশলে ঘরের দরজা খুলে দিলে বাকিরা ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর রাত ১১টা থেকে ১টার মধ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাবিবুর রহমান, তাঁর স্ত্রী পপি, ছেলে পারভেজ ও মেয়ে সাদিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ রানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাসুয়া ও ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় মোট ছয়জন জড়িত ছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :
About Author Information

Alauddin Mondal

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের সম্ভাব্য ফ্রান্স সফর বিষয়ে সিটি কর্পোরেশন এর প্রকৃত বক্তব্য

error: Content is protected !!

​নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে গলা কেটে হত্যার লোমহর্ষক ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার

Update Time : ০৬:০৯:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে গলা কেটে হত্যার লোমহর্ষক ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে জেলা পুলিশ।

​বুধবার দুপুরে নওগাঁ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
​গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:
​নিহত হাবিবুর রহমানের ভাগনে সবুজ রানা।
​নিহতের ভগ্নিপতি শহীদুল ইসলাম।
​শহীদুল ইসলামের ছেলে শাহিন মণ্ডল।
জেলা পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, পারিবারিক জমিজমা বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা তাঁর ছেলেকে ১৩ বিঘা জমি লিখে দিলেও মেয়েদের তুলনায় কম জমি দেওয়ায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ ও দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।
​তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে সবুজ রানা ও শহীদুল ইসলাম একটি মাঠে বসে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেন। ঘটনার রাতে হাবিবুর রহমানের বাড়িতে আগে থেকেই অবস্থান করা সবুজ রানা কৌশলে ঘরের দরজা খুলে দিলে বাকিরা ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর রাত ১১টা থেকে ১টার মধ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাবিবুর রহমান, তাঁর স্ত্রী পপি, ছেলে পারভেজ ও মেয়ে সাদিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে সবুজ রানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাসুয়া ও ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় মোট ছয়জন জড়িত ছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে এবং বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।