Dhaka ০৫:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাঘায় তুলা চাষে প্রান্তিক কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী এলাকায় কৃষকরা স্বল্প জমিতে তুলা চাষ শুরু করেছেন। আগে যেখানে ধান, গম, পেঁয়াজ ও শাকসবজির আবাদই ছিল প্রধান, সেখানে নতুন ফসল হিসেবে তুলা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।

তুলা চাষে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম এবং বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষকদের কাছে এটি লাভজনক ফসল বলে বিবেচিত হচ্ছে। আড়ানীতে বহু আগে থেকেই এই চাষের প্রচলন থাকলেও, অন্যান্য ফসলের জন্য তুলা চাষে তাদের তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। তবে বর্তমানে তুলার বাজার মূল্য ও ফলন দেখে তুলা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে এই এলাকার কৃষকরা।

স্থানীয় তুলা চাষী বলেন, “আমি অনেক আগে থেকেই এই তুলা চাষের সাথে জড়িত, এই চাষে তেমন খরচ করার প্রয়োজন হয়না ও বেশি পরিচর্যা করা লাগেনা, তার তুলনায় আমরা দাম ভালো পাই। ফলে অনেক নতুন কৃষক এই চাষ শুরু করছেন।”

রাজশাহী জোনের আড়ানীর কর্টন ইউনিট অফিসার মোঃ হোসেন আলী জানান, মাটি ও আবহাওয়া তুলা চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। অনেক আগে থেকেই আমরা এ চাষে কৃষকদের উৎসাহ দিয়ে আসছি। এ চাষ সফল হলে আড়ানী এলাকায় বিকল্প ফসল হিসেবে তুলা চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও আমাদের তালিকা ভুক্ত চাষীদের সরকারি সহযোগিতাও প্রদান করি।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলা চাষ বৃদ্ধি পেলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং কৃষকদের আয় বাড়বে। তবে নিয়মিত পরিচর্যা ও আধুনিক চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করলে তবেই কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব।

তুলা চাষ সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বাঘা ও চারঘাট উপজেলায় মোট ৩০০ জন তুলা চাষি রয়েছে, এর মধ্যে বাঘাতে ২০০ ও চারঘাটে ১০০ জন। এবার দুই উপজেলা মিলে উৎপাদন লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার মণ। এবার চারঘাট বাঘা মিলে মোট সাড়ে ৬’শ বিঘাতে তুলা চাষ হয়েছে, এর মধ্যে বাঘাতে ২’শ বিঘা চাষ হয়েছে।

Tag :
About Author Information

Alauddin Mondal

জনপ্রিয়

অধ্যক্ষের অবহেলায় ৩৯ শিক্ষার্থীর এসএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত

error: Content is protected !!

বাঘায় তুলা চাষে প্রান্তিক কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি

Update Time : ০৩:৪৫:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আড়ানী এলাকায় কৃষকরা স্বল্প জমিতে তুলা চাষ শুরু করেছেন। আগে যেখানে ধান, গম, পেঁয়াজ ও শাকসবজির আবাদই ছিল প্রধান, সেখানে নতুন ফসল হিসেবে তুলা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।

তুলা চাষে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম এবং বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষকদের কাছে এটি লাভজনক ফসল বলে বিবেচিত হচ্ছে। আড়ানীতে বহু আগে থেকেই এই চাষের প্রচলন থাকলেও, অন্যান্য ফসলের জন্য তুলা চাষে তাদের তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। তবে বর্তমানে তুলার বাজার মূল্য ও ফলন দেখে তুলা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে এই এলাকার কৃষকরা।

স্থানীয় তুলা চাষী বলেন, “আমি অনেক আগে থেকেই এই তুলা চাষের সাথে জড়িত, এই চাষে তেমন খরচ করার প্রয়োজন হয়না ও বেশি পরিচর্যা করা লাগেনা, তার তুলনায় আমরা দাম ভালো পাই। ফলে অনেক নতুন কৃষক এই চাষ শুরু করছেন।”

রাজশাহী জোনের আড়ানীর কর্টন ইউনিট অফিসার মোঃ হোসেন আলী জানান, মাটি ও আবহাওয়া তুলা চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। অনেক আগে থেকেই আমরা এ চাষে কৃষকদের উৎসাহ দিয়ে আসছি। এ চাষ সফল হলে আড়ানী এলাকায় বিকল্প ফসল হিসেবে তুলা চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও আমাদের তালিকা ভুক্ত চাষীদের সরকারি সহযোগিতাও প্রদান করি।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলা চাষ বৃদ্ধি পেলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং কৃষকদের আয় বাড়বে। তবে নিয়মিত পরিচর্যা ও আধুনিক চাষ পদ্ধতি অনুসরণ করলে তবেই কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া সম্ভব।

তুলা চাষ সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বাঘা ও চারঘাট উপজেলায় মোট ৩০০ জন তুলা চাষি রয়েছে, এর মধ্যে বাঘাতে ২০০ ও চারঘাটে ১০০ জন। এবার দুই উপজেলা মিলে উৎপাদন লক্ষ মাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার মণ। এবার চারঘাট বাঘা মিলে মোট সাড়ে ৬’শ বিঘাতে তুলা চাষ হয়েছে, এর মধ্যে বাঘাতে ২’শ বিঘা চাষ হয়েছে।