Dhaka ০৬:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শ্যামনগরে সাংবাদিক জামিনুরের উপর সন্ত্রাসী হামলা, থানায় এজাহার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ মার্চ ২০২১
  • ৮৩৬ Time View

ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সাতনদী পত্রিকার শ্যামনগর প্রতিনিধি মীর জামিনুর রহমানের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুত্বর আহত জামিনুরকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে শ্যামনগর সদর বাজারে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অতর্কিতভাবে সন্ত্রাসী হামলার স্বীকার হন তিনি। এঘটনায় সাংবাদিক জামিনুর রহমান ৩ জনের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারভূক্ত আসামীরা হলো, নকিপুর গ্রামের মতিয়ার খাঁর ছেলে জাহিদুল ইসলাম(২৩), নূরুল হক এর ছেলে মিলন (২২) ও আতিয়ার রহমানের ছেলে মোঃ আছাদ (২৩)। এঘটনায় সাংবাদিক মহল সহ সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মার্চ সাংবাদিক জামিনুর শ্যামনগর সরকারী মহসিন ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল হোসেনের কাছে মোবাইল ফোনে সরকারীভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের ১০ হাজার টাকার অনুদান পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রত্যয়ন বাবাদ জনপ্রতি ৫০ টাকা গ্রহণের অভিযোগ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চান। এসময় অধ্যক্ষ কথা বলার সময় বিরক্তবোধ করেন এবং বলেন, ‘আমার আর মাত্র ৭/৮ মাস চাকুরী আছে। আমি অনেক টাকা খরচ করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়ে আসছি। এক্ষণে আমার খরচের টাকা তোলার প্রয়োজন। তাছাড়া আমার পূর্ববর্তী কর্তৃপক্ষ জনপ্রতি ১০০/- টাকা গ্রহণ করেছিল। সে ক্ষেত্রে আমি মাত্র ৫০/- টাকা নিচ্ছি। এতে দোষের কি আছে।’ প্রতি উত্তরে সাংবাদিক জামিনুর রহমান জানায়, কলেজের দুই হাজার ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে ৫০ টাকা করে আপনি মোট এক লক্ষ টাকা নিয়েছেন। এঘটনার বিষয়টি অধ্যক্ষ আবুল হোসেন পরিকল্পিতভাবে কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীদের জানান এবং মোবাইলে ধারনকৃত রেকর্ডিং নষ্ট করার নির্দেশ দেন। অধ্যক্ষের নির্দেশ পেয়ে আসামীরা সাংবাদিক জামিনুর রহমানের উপরে সন্ত্রাসী হামলা চালায় এবং তার ব্যবহৃত ক্যামেরা সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট ঘটনার যাবতীয় তথ্যের প্রমানাদি সাংবাদিক জামিনুর রহমানের কাছে রক্ষিত আছে। সাংবাদিক জামিনুরের উপর ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান সাইদ বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কোন দল নেই। সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘যে যতটা পানিতে নামবে তার ততটা কাপড় ভিজবে।’ এবিষয়ে শ্যামনগর থানার ওসি নাজমুল হুদা এজাহার প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

admin

জনপ্রিয়

দুর্নীতি মামলায় কারাগারে বিআরটিএর সাবেক সহকারী পরিচালক, আদালত চত্বরে সাংবাদিককে লাথি

error: Content is protected !!

শ্যামনগরে সাংবাদিক জামিনুরের উপর সন্ত্রাসী হামলা, থানায় এজাহার

Update Time : ০৮:০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ মার্চ ২০২১

ডেস্ক রিপোর্ট: সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সাতনদী পত্রিকার শ্যামনগর প্রতিনিধি মীর জামিনুর রহমানের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুত্বর আহত জামিনুরকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে শ্যামনগর সদর বাজারে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে অতর্কিতভাবে সন্ত্রাসী হামলার স্বীকার হন তিনি। এঘটনায় সাংবাদিক জামিনুর রহমান ৩ জনের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারভূক্ত আসামীরা হলো, নকিপুর গ্রামের মতিয়ার খাঁর ছেলে জাহিদুল ইসলাম(২৩), নূরুল হক এর ছেলে মিলন (২২) ও আতিয়ার রহমানের ছেলে মোঃ আছাদ (২৩)। এঘটনায় সাংবাদিক মহল সহ সচেতন মহল তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ মার্চ সাংবাদিক জামিনুর শ্যামনগর সরকারী মহসিন ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল হোসেনের কাছে মোবাইল ফোনে সরকারীভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের ১০ হাজার টাকার অনুদান পাইয়ে দেওয়ার জন্য প্রত্যয়ন বাবাদ জনপ্রতি ৫০ টাকা গ্রহণের অভিযোগ বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চান। এসময় অধ্যক্ষ কথা বলার সময় বিরক্তবোধ করেন এবং বলেন, ‘আমার আর মাত্র ৭/৮ মাস চাকুরী আছে। আমি অনেক টাকা খরচ করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিয়ে আসছি। এক্ষণে আমার খরচের টাকা তোলার প্রয়োজন। তাছাড়া আমার পূর্ববর্তী কর্তৃপক্ষ জনপ্রতি ১০০/- টাকা গ্রহণ করেছিল। সে ক্ষেত্রে আমি মাত্র ৫০/- টাকা নিচ্ছি। এতে দোষের কি আছে।’ প্রতি উত্তরে সাংবাদিক জামিনুর রহমান জানায়, কলেজের দুই হাজার ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে ৫০ টাকা করে আপনি মোট এক লক্ষ টাকা নিয়েছেন। এঘটনার বিষয়টি অধ্যক্ষ আবুল হোসেন পরিকল্পিতভাবে কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীদের জানান এবং মোবাইলে ধারনকৃত রেকর্ডিং নষ্ট করার নির্দেশ দেন। অধ্যক্ষের নির্দেশ পেয়ে আসামীরা সাংবাদিক জামিনুর রহমানের উপরে সন্ত্রাসী হামলা চালায় এবং তার ব্যবহৃত ক্যামেরা সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। উল্লেখ্য, সংশ্লিষ্ট ঘটনার যাবতীয় তথ্যের প্রমানাদি সাংবাদিক জামিনুর রহমানের কাছে রক্ষিত আছে। সাংবাদিক জামিনুরের উপর ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সাইদুজ্জামান সাইদ বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কোন দল নেই। সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘যে যতটা পানিতে নামবে তার ততটা কাপড় ভিজবে।’ এবিষয়ে শ্যামনগর থানার ওসি নাজমুল হুদা এজাহার প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।