Dhaka ১১:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাঘায় মুড়িকাঁটা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন, দাম না পেয়ে হতাশ কৃষক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৪২ Time View

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে পেঁয়াজের ভালো দাম না পাওয়ায় হতাশ চাষিরা।

এ বিষয়ে কালিদাসখালী চরের মহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে যে দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে, দাম না বাড়লে চাষ করে লাভবান হওয়া মুশকিল হয়ে পড়বে। কারণ বীজ, সার ও কিটনাশকের দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি। চলতি মৌসুমে যারা পেঁয়াজ আবাদ করেছেন, ইতোমধ্যে তারা বিক্রি করতে শুরু করেছেন।

মহিলা শ্রমিক জয়গন বেগম জানান, চলতি মৌসুমে আগাম জাতের পেঁয়াজ উৎপাদন করে চরের অধিকাংশ চাষিরা লাভবান হয়েছেন। বর্তমানে পেঁয়াজ বিক্রি করে খরচের টাকা উঠানোই কঠিন হয়ে পড়ছে।

পেঁয়াজ চাষি আসাদুল ইসলাম      জানান, দাম ভালো ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর দেড় শত  বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার যারা আগাম জাতের পেঁয়াজ চাষ করেছেন তারা আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হয়েছেন। তবে এখন যারা পেঁয়াজ উঠাচ্ছেন তাদের খরচও উঠবে না। মোকামে পেঁয়াজের যথেষ্ট চাহিদা আছে। কিন্তু দাম কম। সরকার যদি ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি না করে, তাহলে চাহিদা ও দাম থাকবে।

খায়েরহাট এলাকার দুলাল আলী জানান,বিভিন্ন জায়গায় লোন করে পদ্মার চরে এক বছরের জন্য চার বিঘা জমি এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে লিজ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করি। বীজ, সার ও শ্রমিক বাবদ আরও এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমান বাজার মূল্যে লাভ হবে না। এ নিয়ে চিন্তায় আছি।

পেঁয়াজ ক্রেতা রইস উদ্দিন বলেন, পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম চলছে। এরপরও বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি হওয়ার কারণে চাষিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই মুহূর্তে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ না করা হলে, চাষিরা বিরাট লোকসানের মুখে পড়বেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জানান, উপজেলার সর্বত্র কম-বেশি পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে যে পরিমাণ পেঁয়াজ চাষ হয়েছে তার চেয়ে বেশি চাষ হয়েছে শুধু পদ্মার চরাঞ্চলে। এ বছর প্রথমের দিকে ভালো দাম পেয়েছেন চাষিরা। এবার উপজেলায় এক হাজার ৯২৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। ৩৮ হাজার ৫২০ মেট্টিক টণ পেঁয়াজ বাঘা  উপজেলায় উৎপাদন হবে।

Tag :
About Author Information

Alauddin Mondal

জনপ্রিয়

রাজশাহী কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সেমিনার রুমে এসি সংযোজন উদ্বোধন

error: Content is protected !!

বাঘায় মুড়িকাঁটা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন, দাম না পেয়ে হতাশ কৃষক

Update Time : ০৭:০৫:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার চরে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে পেঁয়াজের ভালো দাম না পাওয়ায় হতাশ চাষিরা।

এ বিষয়ে কালিদাসখালী চরের মহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে যে দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে, দাম না বাড়লে চাষ করে লাভবান হওয়া মুশকিল হয়ে পড়বে। কারণ বীজ, সার ও কিটনাশকের দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি। চলতি মৌসুমে যারা পেঁয়াজ আবাদ করেছেন, ইতোমধ্যে তারা বিক্রি করতে শুরু করেছেন।

মহিলা শ্রমিক জয়গন বেগম জানান, চলতি মৌসুমে আগাম জাতের পেঁয়াজ উৎপাদন করে চরের অধিকাংশ চাষিরা লাভবান হয়েছেন। বর্তমানে পেঁয়াজ বিক্রি করে খরচের টাকা উঠানোই কঠিন হয়ে পড়ছে।

পেঁয়াজ চাষি আসাদুল ইসলাম      জানান, দাম ভালো ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর দেড় শত  বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার যারা আগাম জাতের পেঁয়াজ চাষ করেছেন তারা আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হয়েছেন। তবে এখন যারা পেঁয়াজ উঠাচ্ছেন তাদের খরচও উঠবে না। মোকামে পেঁয়াজের যথেষ্ট চাহিদা আছে। কিন্তু দাম কম। সরকার যদি ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি না করে, তাহলে চাহিদা ও দাম থাকবে।

খায়েরহাট এলাকার দুলাল আলী জানান,বিভিন্ন জায়গায় লোন করে পদ্মার চরে এক বছরের জন্য চার বিঘা জমি এক লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে লিজ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করি। বীজ, সার ও শ্রমিক বাবদ আরও এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমান বাজার মূল্যে লাভ হবে না। এ নিয়ে চিন্তায় আছি।

পেঁয়াজ ক্রেতা রইস উদ্দিন বলেন, পেঁয়াজ উত্তোলনের ভরা মৌসুম চলছে। এরপরও বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি হওয়ার কারণে চাষিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই মুহূর্তে বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ না করা হলে, চাষিরা বিরাট লোকসানের মুখে পড়বেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জানান, উপজেলার সর্বত্র কম-বেশি পেঁয়াজের চাষ হয়েছে। উপজেলার দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়নে যে পরিমাণ পেঁয়াজ চাষ হয়েছে তার চেয়ে বেশি চাষ হয়েছে শুধু পদ্মার চরাঞ্চলে। এ বছর প্রথমের দিকে ভালো দাম পেয়েছেন চাষিরা। এবার উপজেলায় এক হাজার ৯২৬ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। ৩৮ হাজার ৫২০ মেট্টিক টণ পেঁয়াজ বাঘা  উপজেলায় উৎপাদন হবে।