Dhaka ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাতের আঁধারে রাজপাড়ায় পুকুর ভরাট: প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • ১০৮ Time View

রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর ভাটপাড়া এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে একটি পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার গভীর রাতে কামালখাঁর মোড় এলাকায় প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রছায়ায় এই অবৈধ কার্যক্রম চলতে দেখা যায়। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও পরিবেশ বিপর্যয়ের উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
​ শনিবার দিবাগত গভীর রাতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন যুবকের পাহারায় পুকুর ভরাটের কাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, পুকুরটির মালিক মিলন হলেও জনৈক মাসুদের মাধ্যমে তিনি এটি ভরাট করাচ্ছেন। থানার অদূরেই এভাবে আইন অমান্য করে জলাধার বন্ধ করার ঘটনায় হতবাক এলাকাবাসী।
​এলাকাবাসীর মতে, এটি এই এলাকায় পুকুর ভরাটের দ্বিতীয় ঘটনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন:​”একদিকে সভা-সেমিনারে পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বলা হয়, অন্যদিকে খোদ শহরের ভেতর একের পর এক পুকুর ভরাট হয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই এই ভরাকৃত পুকুরটি পুনরায় খনন করা হোক।”
​পরিবেশবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, নগরীর পুকুরগুলো বৃষ্টির পানি ধারণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে, যা জনভোগান্তিকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যাবে।

​পুকুর ভরাটের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কবির জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে তিনি দ্রুত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
​অন্যদিকে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ মহিনুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন: ​”পুকুর ভরাটের বিষয়টি আমি জেনেছি। ইতিমধ্যে একজন বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”

​ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে পুকুর মালিকের ছেলে মাসুমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে মালিকপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
​বর্তমানে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এবং পরিবেশ রক্ষায় জলাধারটি পুনরায় খননের জোর দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
About Author Information

Alauddin Mondal

জনপ্রিয়

মহাতীর্থের আলো: মোহনপুরে নিজস্ব উদ্যোগে রাস্তা সংস্কার, সুশীল সমাজের সাধুবাদ

রাতের আঁধারে রাজপাড়ায় পুকুর ভরাট: প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

Update Time : ০৭:৫৩:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার লক্ষ্মীপুর ভাটপাড়া এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতের আঁধারে একটি পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার গভীর রাতে কামালখাঁর মোড় এলাকায় প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রছায়ায় এই অবৈধ কার্যক্রম চলতে দেখা যায়। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও পরিবেশ বিপর্যয়ের উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
​ শনিবার দিবাগত গভীর রাতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন যুবকের পাহারায় পুকুর ভরাটের কাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, পুকুরটির মালিক মিলন হলেও জনৈক মাসুদের মাধ্যমে তিনি এটি ভরাট করাচ্ছেন। থানার অদূরেই এভাবে আইন অমান্য করে জলাধার বন্ধ করার ঘটনায় হতবাক এলাকাবাসী।
​এলাকাবাসীর মতে, এটি এই এলাকায় পুকুর ভরাটের দ্বিতীয় ঘটনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন:​”একদিকে সভা-সেমিনারে পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বলা হয়, অন্যদিকে খোদ শহরের ভেতর একের পর এক পুকুর ভরাট হয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই এই ভরাকৃত পুকুরটি পুনরায় খনন করা হোক।”
​পরিবেশবিদরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, নগরীর পুকুরগুলো বৃষ্টির পানি ধারণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে, যা জনভোগান্তিকে চরম পর্যায়ে নিয়ে যাবে।

​পুকুর ভরাটের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কবির জানান, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে তিনি দ্রুত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
​অন্যদিকে, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ মহিনুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন: ​”পুকুর ভরাটের বিষয়টি আমি জেনেছি। ইতিমধ্যে একজন বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”

​ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে পুকুর মালিকের ছেলে মাসুমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে মালিকপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
​বর্তমানে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এবং পরিবেশ রক্ষায় জলাধারটি পুনরায় খননের জোর দাবি জানিয়েছেন।