Dhaka ১০:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে হতাশাগ্রস্ত মানুষ

  • আকবর কবীর।
  • Update Time : ১২:৫১:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মে ২০২১
  • ৮০৯ Time View

ঘূর্নিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে সাতক্ষীরার শতাধিক গ্রাম, চিংড়ী ঘের প্লাবিত, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ভয়াল ঘূর্নিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর ও আশশুনি উপজেলার শতাধিক গ্রাম জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব গ্রামের বিপুল সংখ্যক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। পানিতে ভেসে গেছে কয়েকশত চিংড়ী ঘের। নোনা পানির এ অঞ্চলের মানুষ পুকুরের মিষ্টি পানির ওপর নির্ভরশীল। সেসব পুকুরও নোনা পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। পানির তোড়ে শ্যামনগর উপজেলার স্বাভাবিক সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীর অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে না উঠলেও নিরাপদ স্থানে সরে গেছে। ফলে আশ্রয়কেন্দ্র গুলি একরকম খালি পড়ে আছে।
বুধবার সকালে শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ঝাপা গ্রামে বেড়িবাঁধের চারটি পয়েন্ট, পাতাখালির দুটি পয়েন্ট, রমজাননগরের দুটি পয়েন্ট, গাবুরার তিনটি পয়েন্ট, কৈখালির দুটি পয়েন্ট, বুড়িগোয়ালিনীর তিনটি পয়েন্ট ও নূরনগর ইউনিয়নের একটি পয়েন্ট সহ অন্ততঃ ১৬টি স্থানে বেড়িবাঁধ উপচে পানি গ্রামে ঢুকে পড়েছে। এসব বেড়িবাঁধ ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ায় সয়লাব হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম।

এদিকে কালিগঞ্জ উপজেলার হাড়দ্দাহ গ্রামে কালিন্দী নদীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙে ১০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। আশাশুনির দয়ারঘাট, কুড়িকাহনিয়া লঞ্চঘাট, হরিশখালী, এলাকা ভেঙে নোনা পানিতে আটকে পড়েছে গ্রামবাসী।


শ্যামনগর উপজেলার গাবুরার জেলেখালি, নেবুবুনিয়াম চাঁদনীমুখা, দূর্গাবটি সহ বিভিন্ন এলাকা এখন পানিতে ভাসছে। গ্রামবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা বালির বস্তা এবং মাটি ফেলে বাধ সংস্কারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন বলেন, ৩০ ভাগ চিংড়ী ঘের পানির তলে তলিয়ে গেছে। এতে বিপুল টাকার মাছের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জার গিফারী জানান, এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করা যায়নি। তবে ক্ষতির অংক হবে অনেক বড়।
এদিকে বিভিন্ন স্থানে কালভার্ট ধ্বসে নদীর পানি ছড়িয়ে পড়েছে। মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সেতু উপচে চুনা নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে এলাকা। এখন পর্যন্ত কোন প্রানহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে গ্রামবাসী গবাদিপশু ও তাদের সহায় সম্পদ নিয়ে আতংকিত হয়ে পড়েছেন। সাতক্ষীরায় দিনভর বৃষ্টি হয়েছে সেইসাথে ঝড়ো হাওয়া ছিল প্রবল।

Tag :
About Author Information

admin

জনপ্রিয়

বাগমারা থানা পরিদর্শন করলেন রাজশাহী রেঞ্জের নবাগত ডিআইজি আশিক সাঈদ

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে হতাশাগ্রস্ত মানুষ

Update Time : ১২:৫১:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ মে ২০২১

ঘূর্নিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে সাতক্ষীরার শতাধিক গ্রাম, চিংড়ী ঘের প্লাবিত, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ভয়াল ঘূর্নিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সাতক্ষীরার সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর ও আশশুনি উপজেলার শতাধিক গ্রাম জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব গ্রামের বিপুল সংখ্যক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। পানিতে ভেসে গেছে কয়েকশত চিংড়ী ঘের। নোনা পানির এ অঞ্চলের মানুষ পুকুরের মিষ্টি পানির ওপর নির্ভরশীল। সেসব পুকুরও নোনা পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে। পানির তোড়ে শ্যামনগর উপজেলার স্বাভাবিক সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামবাসীর অনেকেই আশ্রয়কেন্দ্রে না উঠলেও নিরাপদ স্থানে সরে গেছে। ফলে আশ্রয়কেন্দ্র গুলি একরকম খালি পড়ে আছে।
বুধবার সকালে শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের ঝাপা গ্রামে বেড়িবাঁধের চারটি পয়েন্ট, পাতাখালির দুটি পয়েন্ট, রমজাননগরের দুটি পয়েন্ট, গাবুরার তিনটি পয়েন্ট, কৈখালির দুটি পয়েন্ট, বুড়িগোয়ালিনীর তিনটি পয়েন্ট ও নূরনগর ইউনিয়নের একটি পয়েন্ট সহ অন্ততঃ ১৬টি স্থানে বেড়িবাঁধ উপচে পানি গ্রামে ঢুকে পড়েছে। এসব বেড়িবাঁধ ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়ায় সয়লাব হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম।

এদিকে কালিগঞ্জ উপজেলার হাড়দ্দাহ গ্রামে কালিন্দী নদীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙে ১০টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। আশাশুনির দয়ারঘাট, কুড়িকাহনিয়া লঞ্চঘাট, হরিশখালী, এলাকা ভেঙে নোনা পানিতে আটকে পড়েছে গ্রামবাসী।


শ্যামনগর উপজেলার গাবুরার জেলেখালি, নেবুবুনিয়াম চাঁদনীমুখা, দূর্গাবটি সহ বিভিন্ন এলাকা এখন পানিতে ভাসছে। গ্রামবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা বালির বস্তা এবং মাটি ফেলে বাধ সংস্কারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
শ্যামনগর উপজেলা চেয়ারম্যান আতাউল হক দোলন বলেন, ৩০ ভাগ চিংড়ী ঘের পানির তলে তলিয়ে গেছে। এতে বিপুল টাকার মাছের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু জার গিফারী জানান, এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি নিরুপন করা যায়নি। তবে ক্ষতির অংক হবে অনেক বড়।
এদিকে বিভিন্ন স্থানে কালভার্ট ধ্বসে নদীর পানি ছড়িয়ে পড়েছে। মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সেতু উপচে চুনা নদীর পানিতে তলিয়ে গেছে এলাকা। এখন পর্যন্ত কোন প্রানহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে গ্রামবাসী গবাদিপশু ও তাদের সহায় সম্পদ নিয়ে আতংকিত হয়ে পড়েছেন। সাতক্ষীরায় দিনভর বৃষ্টি হয়েছে সেইসাথে ঝড়ো হাওয়া ছিল প্রবল।