Dhaka ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরেন্দ্র অঞ্চলে মাটির ঘরের ঐতিহ্য: গোদাগাড়ী, তানোর ও মোহনপুরে এখনও টিকে আছে নান্দনিক স্থাপত্য

  • ডেক্স নিউজ
  • Update Time : ০৭:০৯:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৬ Time View

আধুনিকতার ছোঁয়া আর ইটের পাকা দালানকোঠার ভিড়েও রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে আজও অমলিন মাটির ঘরের ঐতিহ্য। বিশেষ করে জেলার গোদাগাড়ী, তানোর ও মোহনপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে চোখ জুড়ানো মাটির ঘর গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অনন্য রূপ ফুটিয়ে তুলেছে। এর মধ্যে তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার কিছু এলাকায় এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুই তলা মাটির ঘর, যা গ্রামীণ প্রকৌশল বিদ্যার এক বিস্ময়কর নিদর্শন।

মাটির ঘরের সুবিধা ও উপকারিতা:

​বরেন্দ্র অঞ্চলের আবহাওয়া এবং মাটির বৈশিষ্ট্যের কারণে এখানে মাটির ঘরের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। এসব ঘরের প্রধান সুবিধাগুলো হলো—

  • প্রাকৃতিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: মাটির ঘরের দেয়াল বেশ পুরু হয়। ফলে প্রাকৃতিকভাবেই গ্রীষ্মকালে ঘর ঠান্ডা এবং শীতকালে উষ্ণ থাকে। এ কারণে আলাদা কোনো এসি বা হিটারের প্রয়োজন হয় না।
  • পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত: ইট পোড়ানোর ফলে যে পরিবেশ দূষণ হয়, মাটির ঘর তৈরিতে তার কোনো সুযোগ নেই। এটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিও কম।
  • কম খরচ: স্থানীয়ভাবে সুলভ মূল্যে বা বিনা মূল্যে মাটি, খড় বা বিচালি এবং বাঁশ-কাঠ দিয়ে এ ঘর তৈরি করা যায়। ফলে নির্মাণ ও রক্ষণাবেচন খরচ বেশ কম।
  • ভূমিকম্প সহনশীল: মাটির দেয়াল কিছুটা নমনীয় হওয়ায় সাধারণ মাত্রার ভূমিকম্পে ইটের দেয়ালের মতো সহজে ধসে পড়ে না।

দীর্ঘস্থায়িত্বের রহস্য:

​অনেকের ধারণা মাটির ঘর বুঝি স্থায়ী নয়। তবে বরেন্দ্র অঞ্চলের শক্ত এঁটেল মাটি দিয়ে তৈরি ঘরগুলো সঠিক যত্ন নিলে শতবর্ষ ধরে টিকে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা বর্ষা মৌসুমের আগে নিয়মিত ঘরগুলোর দেওয়ালে মাটি ও গোবরের প্রলেপ (লেপন) দেন। এতে বৃষ্টির পানি দেওয়ালে আঘাত হানতে পারে না এবং ঘরগুলো মজবুত থাকে। এছাড়া ঘরের চালের ওপর ভালো মানের টিন বা ছনের ছাউনি থাকায় এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়।

Tag :
About Author Information

Alauddin Mondal

জনপ্রিয়

বরেন্দ্র অঞ্চলে মাটির ঘরের ঐতিহ্য: গোদাগাড়ী, তানোর ও মোহনপুরে এখনও টিকে আছে নান্দনিক স্থাপত্য

বরেন্দ্র অঞ্চলে মাটির ঘরের ঐতিহ্য: গোদাগাড়ী, তানোর ও মোহনপুরে এখনও টিকে আছে নান্দনিক স্থাপত্য

Update Time : ০৭:০৯:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আধুনিকতার ছোঁয়া আর ইটের পাকা দালানকোঠার ভিড়েও রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে আজও অমলিন মাটির ঘরের ঐতিহ্য। বিশেষ করে জেলার গোদাগাড়ী, তানোর ও মোহনপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে চোখ জুড়ানো মাটির ঘর গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অনন্য রূপ ফুটিয়ে তুলেছে। এর মধ্যে তানোর ও গোদাগাড়ী উপজেলার কিছু এলাকায় এখনও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুই তলা মাটির ঘর, যা গ্রামীণ প্রকৌশল বিদ্যার এক বিস্ময়কর নিদর্শন।

মাটির ঘরের সুবিধা ও উপকারিতা:

​বরেন্দ্র অঞ্চলের আবহাওয়া এবং মাটির বৈশিষ্ট্যের কারণে এখানে মাটির ঘরের জনপ্রিয়তা দীর্ঘদিনের। এসব ঘরের প্রধান সুবিধাগুলো হলো—

  • প্রাকৃতিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: মাটির ঘরের দেয়াল বেশ পুরু হয়। ফলে প্রাকৃতিকভাবেই গ্রীষ্মকালে ঘর ঠান্ডা এবং শীতকালে উষ্ণ থাকে। এ কারণে আলাদা কোনো এসি বা হিটারের প্রয়োজন হয় না।
  • পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত: ইট পোড়ানোর ফলে যে পরিবেশ দূষণ হয়, মাটির ঘর তৈরিতে তার কোনো সুযোগ নেই। এটি সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব এবং এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিও কম।
  • কম খরচ: স্থানীয়ভাবে সুলভ মূল্যে বা বিনা মূল্যে মাটি, খড় বা বিচালি এবং বাঁশ-কাঠ দিয়ে এ ঘর তৈরি করা যায়। ফলে নির্মাণ ও রক্ষণাবেচন খরচ বেশ কম।
  • ভূমিকম্প সহনশীল: মাটির দেয়াল কিছুটা নমনীয় হওয়ায় সাধারণ মাত্রার ভূমিকম্পে ইটের দেয়ালের মতো সহজে ধসে পড়ে না।

দীর্ঘস্থায়িত্বের রহস্য:

​অনেকের ধারণা মাটির ঘর বুঝি স্থায়ী নয়। তবে বরেন্দ্র অঞ্চলের শক্ত এঁটেল মাটি দিয়ে তৈরি ঘরগুলো সঠিক যত্ন নিলে শতবর্ষ ধরে টিকে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দারা বর্ষা মৌসুমের আগে নিয়মিত ঘরগুলোর দেওয়ালে মাটি ও গোবরের প্রলেপ (লেপন) দেন। এতে বৃষ্টির পানি দেওয়ালে আঘাত হানতে পারে না এবং ঘরগুলো মজবুত থাকে। এছাড়া ঘরের চালের ওপর ভালো মানের টিন বা ছনের ছাউনি থাকায় এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়।