
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে রোববার দুপুরে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
এর আগে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির নির্দেশ দেন আদালত। ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন এই আদেশ দেন। রেড নোটিশ জারির ফলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সহযোগিতা করার সুযোগ পায়।
দুদকের তদন্তে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থপাচারের অভিযোগ আনা হয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের ৮ মার্চ ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। বিচারক সাব্বির ফয়েজ দুদকের দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে দুদক অভিযোগপত্রে উল্লেখ করে, বেনজীর আহমেদ তার সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।
দুদকের দাবি, ঘোষিত সম্পদের সঙ্গে প্রকৃত সম্পদের উল্লেখযোগ্য অমিল রয়েছে এবং এসব সম্পদের বৈধ উৎসের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। গ্রেপ্তারের পর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করা একজন সাবেক পুলিশ প্রধানের গ্রেপ্তারের ঘটনায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
Reporter Name 








