Dhaka ১১:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে স্টিক আলুর দাম সামান্য বাড়লেও কাটেনি উদ্বেগ: লোকসানের মুখে চরম অনিশ্চয়তায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা

রাজশাহীর স্থানীয় বাজারগুলোতে অ্যারিস্টিক বা স্টিক জাতের আলুর দামে সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে আজ প্রতি কেজি স্টিক আলু বিক্রি হচ্ছে ১৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১৮ টাকা দরে। ব্যবসায়ীদের মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কেজিতে আরও ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সাময়িক দাম বৃদ্ধিও কৃষি সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কার মেঘ কাটাতে পারছে না।

​উৎপাদন খরচের তুলনায় বর্তমান বাজারদর অনেক কম থাকায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন সাধারণ কৃষক ও মূল ধারার আলু ব্যবসায়ীরা। হিমাগারে (কোল্ড স্টোরেজ) রাখা আলু নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দাম, ঋণ পরিশোধে দুশ্চিন্তা:

কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর সার, বীজ, সেচ ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধির কারণে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে যে পরিমাণ খরচ হয়েছে, বিদ্যমান বাজারে বিক্রি করে সেই খরচই উঠছে না। ফলস্বরূপ, আগামী মৌসুমে আলু রোপণ করা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

​অনেকেই এনজিও (NGO) ও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে আলুর চাষ এবং হিমাগারে সংরক্ষণের ব্যবসায়ে পুঁজি খাটিয়েছিলেন। এখন কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধ ও এনজিওর ঋণ মেটানো নিয়ে তাদের মাথায় হাত পড়েছে।

ভবিষ্যৎ মৌসুম নিয়ে ক্ষোভ ও আশঙ্কা:

রাজশাহীর একাধিক আলু চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান বাজারমূল্যে আলু বিক্রি করলে তাদের লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা, মূল পুঁজি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এভাবে টানা লোকসান চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক আলু চাষ বন্ধ রাখতে বা কমিয়ে দিতে বাধ্য হবেন।

​মূল ধারার ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে বলছেন, কৃষকদের এই অনিশ্চয়তা এবং ঋণগ্রস্ততা দূর করতে দ্রুত বাজার মনিটরিং ও প্রয়োজনীয় সরকারি পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে আলু উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

Tag :
About Author Information

Alauddin Mondal

জনপ্রিয়

রাজশাহীতে স্টিক আলুর দাম সামান্য বাড়লেও কাটেনি উদ্বেগ: লোকসানের মুখে চরম অনিশ্চয়তায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা

রাজশাহীতে স্টিক আলুর দাম সামান্য বাড়লেও কাটেনি উদ্বেগ: লোকসানের মুখে চরম অনিশ্চয়তায় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা

Update Time : ০৮:৩৬:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহীর স্থানীয় বাজারগুলোতে অ্যারিস্টিক বা স্টিক জাতের আলুর দামে সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে আজ প্রতি কেজি স্টিক আলু বিক্রি হচ্ছে ১৬ টাকা ৫০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১৮ টাকা দরে। ব্যবসায়ীদের মতে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কেজিতে আরও ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সাময়িক দাম বৃদ্ধিও কৃষি সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কার মেঘ কাটাতে পারছে না।

​উৎপাদন খরচের তুলনায় বর্তমান বাজারদর অনেক কম থাকায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন সাধারণ কৃষক ও মূল ধারার আলু ব্যবসায়ীরা। হিমাগারে (কোল্ড স্টোরেজ) রাখা আলু নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।

উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দাম, ঋণ পরিশোধে দুশ্চিন্তা:

কৃষক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর সার, বীজ, সেচ ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধির কারণে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে যে পরিমাণ খরচ হয়েছে, বিদ্যমান বাজারে বিক্রি করে সেই খরচই উঠছে না। ফলস্বরূপ, আগামী মৌসুমে আলু রোপণ করা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

​অনেকেই এনজিও (NGO) ও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে আলুর চাষ এবং হিমাগারে সংরক্ষণের ব্যবসায়ে পুঁজি খাটিয়েছিলেন। এখন কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় ব্যাংকের কিস্তি পরিশোধ ও এনজিওর ঋণ মেটানো নিয়ে তাদের মাথায় হাত পড়েছে।

ভবিষ্যৎ মৌসুম নিয়ে ক্ষোভ ও আশঙ্কা:

রাজশাহীর একাধিক আলু চাষির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান বাজারমূল্যে আলু বিক্রি করলে তাদের লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা, মূল পুঁজি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এভাবে টানা লোকসান চলতে থাকলে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক আলু চাষ বন্ধ রাখতে বা কমিয়ে দিতে বাধ্য হবেন।

​মূল ধারার ব্যবসায়ীরা সতর্ক করে বলছেন, কৃষকদের এই অনিশ্চয়তা এবং ঋণগ্রস্ততা দূর করতে দ্রুত বাজার মনিটরিং ও প্রয়োজনীয় সরকারি পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে আলু উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।