
পদ্মা নদীর উত্তাল তরঙ্গ আর বাতাসে জলের ঝাপটা—বর্ষায় এক অন্যরূপ ধারণ করেছে রেশম নগরী রাজশাহী। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা বর্ষণে পদ্মা নদী ফিরে পেয়েছে তার পূর্ণ যৌবন। আর এই কানায় কানায় ভরা পদ্মার মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে রাজশাহী শহরের পদ্মাপাড়ের মুক্তমঞ্চ, টি-বাঁধ, আই-বাঁধ আর লালন শাহ মুক্তমঞ্চ এলাকায় এখন উপচে পড়া মানুষের ভিড়।
নদীতে পানি বাড়ায় পদ্মাপাড়ের রূপ যেমন বদলে গেছে, তেমনি স্থানীয়দের ঢলেও জমে উঠেছে আড্ডা। মৃদু ঠান্ডা বাতাস, পদ্মার বিশাল জলরাশি আর সূর্যাস্তের অসাধারণ ক্যানভাস সব মিলিয়ে যেন তৈরি করেছে এক স্বপ্নের আবহ।
বিকেলের সূর্য নামতেই পদ্মাপাড়ের বেঞ্চ ও কংক্রিটের তৈরি বাঁধে বন্ধুদের নিয়ে জমজমাট আড্ডায় বসছেন তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ। আড্ডার সঙ্গে চলছে ধোঁয়া ওঠা গরম চা, ফুচকা, আর ঝালমুড়ির ধুম। পানির শব্দ আর মৃদুমন্দ বাতাসে প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানোর এই মনোরম অভিজ্ঞতা মিস করতে চাইছেন না কেউই।
পদ্মাপারে ঘুরতে আসা এক দর্শনার্থী জানান, “পদ্মা নদীতে যখন পানি বাড়ে, তখন এখানে বসে থাকার আনন্দই আলাদা। নদীর বাতাসে মন জুড়িয়ে যায়। ছুটির দিনে বন্ধুদের নিয়ে নদীর ধারে বসে এমন জমজমাট আড্ডা দেওয়াই আমাদের রাজশাহীবাসীর সবচেয়ে প্রিয় বিনোদন।”
নদীর পানির এই বৃদ্ধি যেমন একদিকে চোখ জুড়ানো সৌন্দর্য উপহার দিয়েছে, অন্যদিকে বাঁধের চা-দোকানি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মুখেও হাসি ফুটিয়েছে। পর্যটকদের সমাগম বাড়ায় জমে উঠেছে পদ্মাপাড়ের অর্থনীতিও। প্রকৃতির এই রূপ আর স্নিগ্ধ বাতাস উপভোগ করতে শুধু রাজশাহীর মানুষই নন, আশেপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও ছুটে আসছেন বহু ভ্রমণপিপাসু মানুষ।
ডেক্স নিউজ 












